You have reached your daily news limit

Please log in to continue


রক্তে মিশে থাকা মুক্তিযুদ্ধ: বীর মুক্তিযোদ্ধা সরওয়ারকে বিদায়

বাঙালি জাতির বীরত্ব, আত্মত্যাগ ও শিকড়ের ইতিহাস মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করা, বিতর্কিত করা ও বিভ্রান্তি করার প্রাণান্তর চেষ্টা চলেছে গত দুবছরে। মুক্তিযোদ্ধাদের লাঞ্জিত ও অপমানিতও হতে হয়েছে তখন। অনেক মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রের গার্ড অব অনারের সম্মানটুকুও দিতে দেওয়া হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরার ক্ষেত্রেও ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছিল।

ওই সময় চট্টগ্রাম থেকে একদিন ফোন করেন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আবু মোহাম্মদ সরওয়ার হোসাইন চৌধুরী। ফোনটি ধরতেই তিনি বললেন, “এই স্বাধীনতা আমাদের রক্তে পাওয়া। এদেশের মাটির সঙ্গে মিশে আছে লাখো শহীদের রক্ত। সেই রক্ত কখনও বৃথা যাবে না। মুক্তিযুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধই। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার ক্ষমতা রাজাকারদের নেই।”

কথাগুলো এখনো কানে বাজে। এরপর প্রায়ই তিনি কথা বলতেন। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে আনার কাজটা যেন অবিরত চালু রাখি তার জন্য সাহস ও দোয়া করতেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম প্রকাশিত রক্তরেখায় বাংলাদেশ গ্রন্থ প্রকাশের সংবাদ শুনেও আবেগে আপ্লুত হয়েছিলেন এই বীর যোদ্ধা।

কিছুটা অসুস্থ ছিলেন তখনই। কথা ছিল সুস্থ হয়েই ঢাকায় আসবেন। মুক্তিযুদ্ধের আরও কয়েকটি ঘটনার কথা জানাবেন। কিন্তু সেই সুযোগটি আর হলো না!

গত ১৩ মে বিকেল আনুমানিক ৫.৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু মোহাম্মদ সরওয়ার হোসাইন চৌধুরী।

তার বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পূর্ব রায়ছটা গ্রামে। বছর পাঁচেক আগে মুখোমুখি হই তার। কথা হয়েছিল একাত্তরের নানা ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় সরওয়ার ছিলেন ইন্টারমিডিয়েটে ফার্স্ট ইয়ারের ছাত্র। কিন্তু তার মনে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের বীজটি রোপিত হয়েছিল স্কুলকালীন সময়েই। একটি ঘটনায় তার প্রমাণও মিলে।

তার ভাষায়,“তখন ক্লাস ফাইভে পড়ি। স্কুলে পাকিস্তানের জাতীয় সংগীত গাওয়া হতো। ‘পাক সার জমিন সাদ বাদ...’ শেষ হলেই উচ্চ কন্ঠে বলতে হতো ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’। কেন জানি ওটা বলতে ইচ্ছা হতো না। পাকিস্তান জিন্দাবাদের স্থলে বলতাম ‘চিন্সা বাস ‘। মুখে ওটাই আসত। চট্টগ্রামের ভাষায় উদ্ভট গন্ধকে ‘চিন্সা বাস’ বলা হয়, যা মানুষের কাছে অসহ্য লাগে। এ খবর চলে যায় মওলানা শামসুল হকের কানে। উনি পাকিস্তানের ভক্ত, পরে রাজাকার হয়েছিলেন। পাকিস্তানের জাতীয় সংগীতকে অপমান করায় ডেকে নিয়ে আমাকে খুব মারলেন। ফলে পাকিস্তানের প্রতি মন আরও বিগড়ে গিয়েছিল তখন।”

যুদ্ধের সময় বাঁশখালীতে পাকিস্তানি আর্মি আসার পরের ঘটনা তিনি তুলে ধরেছিলেন এভাবে, “মে মাসের ১৯ তারিখে ওরা এসেই বালিগ্রামে মানুষের ওপর অত্যাচার শুরু করে। নাপোড়াসহ কয়েকটা হিন্দু এলাকায় ৯২জনকে হত্যা করে। গ্রামগুলো জ্বালিয়ে দেয়। আমাদের ওখানে শান্তিকমিটির চেয়ারম্যান ছিল সিদ্দিক আহমদ সওদাগর। পাকিস্তানিদের পক্ষে কাজ করেছে মৌলভী হাসানসহ অনেকেই। ওদের সহযোগিতার কারণেই পাকিস্তানি সেনারা গণহারে মানুষ হত্যা করার সুযোগ পায়।”

আর্মি ঢুকলে সরওয়াররা গোপনে সংগঠিত হতে থাকেন। নেতৃত্ব দেন ডা. আবু ইউসুফ চৌধুরী। পাকিস্তানিদের রেভিনিউ ইনকাম বন্ধ করতে তারা প্রথমে গুনাগরি খাসমাহাল আক্রমণের প্রস্তুতি নেন। তখন কোনো ট্রেনিং ছিল না। দেশপ্রেমটাই ছিল সাহস। তবে দলে মানিক, মমতাজসহ কয়েকজন ছিলেন বিভিন্ন বাহিনী থেকে আসা বাঙালি সদস্য। রাত নয়টার দিকে তারা গুনাগরি খাসমাহাল আক্রমণ করে মূল্যবান রেকর্ড কেরোসিন দিয়ে পুড়িয়ে দেন।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন