পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন: এভাবেই মৃত্যু হয় গণতন্ত্রের

প্রথম আলো হাসান ফেরদৌস প্রকাশিত: ১৬ মে ২০২৬, ১০:৩১

প্রায় ৭৫ বছর আগের কথা। ভারত স্বাধীন হয়েছে। চলছে প্রথম গণতান্ত্রিক শাসনতন্ত্র গ্রহণের প্রস্তুতি। সেসময়, সেই শাসনতন্ত্রের অন্যতম রচয়িতা বি আর আম্বেদকর সাবধান করে বলেছিলেন, যে গণতন্ত্র আমরা প্রতিষ্ঠার কথা বলছি, তা ভারতের মাটির ওপর চমৎকার এক প্রলেপ মাত্র, কেকের ওপর যেমন ক্রিম মাখা থাকে। সে মাটিতে আঙুল ডোবান, দেখবেন তা আসলে প্রবল রকম অগণতান্ত্রিক।


কথাটা কতটা সত্যি, ভারতের সাম্প্রতিক আঞ্চলিক নির্বাচনের পর তা দিনের মতো ফরসা হয়ে পড়েছে। একদিকে সংখ্যাগরিষ্ঠের আধিপত্য ও ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদ, অন্যদিকে নির্বাচনী ইঞ্জিনিয়ারিং এবং প্রশাসনিক কারসাজির মাধ্যমে যে নির্বাচন হয়ে গেল, তা কাগজে-কলমে গণতান্ত্রিক হলেও এতে জনগণের ইচ্ছা প্রতিফলিত হয়েছে, তা বোধ হয় বলা যাবে না।  


ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং


সহজ হিসাবটা ধরুন। পশ্চিম বাংলায় ৪৬ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজেপি দখল করেছে মোট ২০৭টি আসন। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস ৪১ শতাংশ ভোট পেয়ে দখল করেছে মাত্র ৮০টি আসন। প্রাপ্ত মোট ভোটের হিসাবে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে ফারাক মোটের ওপর তিরিশ লাখ। আনুপাতিক হিসাবে এই দুই দলের ব্যবধান মাত্র ৫ শতাংশ। মজার কথা হলো, ভোটার তালিকার নিবিড় নিরীক্ষার নামে যে লাখ তিরিশ মানুষকে ভোট দিতে দেওয়া হয়নি, তার পরিমাণও প্রায় ৩০ লাখ।


একে গণতন্ত্র বলে না, এ কথা বলেছেন কংগ্রেস–দলীয় সংসদ সদস্য শশী থারুর। টাইমস অব ইন্ডিয়ার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, নিবিড় নিরীক্ষার নামে যে ৯১ লাখ লোকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হলো, তাদের মধ্যে ৩৪ লাখ লোক আপত্তি জানিয়ে মামলা করেছিল। তাদের প্রত্যেকের বৈধ নথিপত্র ছিল, এমনকি কারও কারও পাসপোর্ট পর্যন্ত ছিল। বৈধ ভোটার হওয়া সত্ত্বেও তাদের অধিকাংশ ভোট দেওয়া থেকে বঞ্চিত হয়। ‘একে কীভাবে গণতান্ত্রিক বলা যায়?’ তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।    


মজার বিষয় হলো, ভোট গ্রহণের প্রক্রিয়াটি যে গণতান্ত্রিক নয়, তা–ও বলা যাবে না। প্রায় ৯২ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছে, ভোটে খুব বড় কোনো কারচুপি হয়েছে তা–ও কেউ বলছে না। এরপরও চোখের সামনে এমন পুকুরচুরির ঘটনাকে বুদ্ধিমান লোকেরা নাম দিয়েছেন ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং।


ভারতকে আমরা বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে হাততালি দিতে অভ্যস্ত। সত্যিই তো, জনবহুল, দরিদ্র এবং ধর্ম ও ভাষাগতভাবে বিভক্ত এমন একটি দেশে যে নিয়মিত নির্বাচন হয়ে চলেছে, সেটি একটি খুদে বিস্ময়। সেই ভারতে যখন ‘সূক্ষ্ম কারচুপির’ মাধ্যমে একটি দল নিরঙ্কুশ ক্ষমতার ভাগীদার হয়, তখন প্রশ্ন তুলতেই হয়: খেলার মাঠটি যখন এমন অসমান, সেখানে প্রকৃত গণতন্ত্র কি টিকে থাকতে পারে?


শুধু ভারতে নয়, পৃথিবীর অনেক পোশাকি গণতান্ত্রিক দেশেও একই অবস্থা। যুক্তরাষ্ট্রের কথা ধরুন। বিশ্বের প্রাচীনতম জনপ্রজাতান্ত্রিক এই দেশটিকে একসময় বলা হতো গণতন্ত্রের আলোকবর্তিকা—প্রেসিডেন্ট রিগানের ভাষায় ‘পাহাড়শীর্ষে আলোকোজ্জ্বল নগরী’। সে আলো এখন নিবু নিবু। অন্য সবকিছু বাদ দিই, শুধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও রিপাবলিকান পার্টি যেভাবে নির্বাচনী ম্যাপ কাটাছেঁড়া করে নিজেদের বিজয় নিশ্চিত করার পথ বের করছেন, সেই হিসাবটা বিবেচনায় আনলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও