কৃষিতে উৎপাদন বাড়াতে নানামুখী উদ্যোগ প্রয়োজন

কালের কণ্ঠ ড. জাহাঙ্গীর আলম প্রকাশিত: ১৬ মে ২০২৬, ১০:১০

বাংলাদেশের কৃষকরা আবহমান কাল ধরেই অবহেলিত। তাঁদের আয় সীমিত। উৎপাদন কার্যক্রমে প্রণোদনা কম। খরচ বেশি। কৃষি উপকরণ সংগ্রহ করার জন্য প্রায়ই গলদঘর্ম হতে হয় কৃষকদের। উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করার সময় তাঁরা অহরহই ন্যায্য দাম পান না। বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বেশি। স্বাস্থ্যসেবায় তাঁদের কোনো প্রাধিকার নেই। বিভিন্ন রোগে ভোগে তাঁরা একদিকে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। অপরদিকে চিকিৎসা খরচ জোগান দিতে গিয়ে ঋণগ্রস্ত ও নিঃস্ব হয়ে পড়ে।


অনেক সময় মাঠে কাজ করতে গিয়ে সাপের কামড়, বজ্রপাত বা বিদ্যুত্স্পশ্য হয়ে মৃত্যুবরণ করেন কৃষক। কিন্তু এর কোনো ক্ষতিপূরণ পায় না তাঁদের পরিবার। বৃদ্ধ বয়সে যখন অক্ষম হয়ে পড়েন, তখন বেেঁচ থাকাই তাঁদের দায় হয়ে যায়। আর্থিক সংকটের মধ্যে খেয়ে না-খেয়ে কোনোমতে তাঁদের দিন পার করতে হয়। কৃষকদের এমন অসহায়ত্বের পরিপ্রেক্ষিতে কিছু ভালো উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বিএনপি সরকার।


রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই তারা কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে। ভূ-উপরিস্থ পানি সেচ ও নিষ্কাশনের সুবিধার্থে গ্রহণ করেছে খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি। কৃষকদের শনাক্তকরণ ও সুরক্ষার জন্য চালু করেছে কৃষক কার্ড।


বাংলা বর্ষপঞ্জির ১৪৩৩ সালের প্রথম লগ্নে গত পহেলা বৈশাখ টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্বোধন করেন কৃষক কার্ড। প্রথম ধাপে দেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় প্রায় ২১ হাজার ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের মধ্যে এই কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের সব কৃষকের কাছে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।


কৃষি কার্ড মূলত কৃষকদের শনাক্তকরণ কার্ড। এটিকে কৃষকদের জন্য মর্যাদার স্বীকৃতি ও সুরক্ষার প্রতীক হিসোবে বিবেচনা করেছেন অনেকে। এ কার্ডের মাধ্যমে ১০ প্রকার সুবিধা পাবেন একজন কৃষক। এগুলো হলো এক. ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, দুই. ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা, তিন.  সহজ শর্তে কৃষিঋণ, চার. স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি প্রাপ্তি, পাঁচ. সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, ছয়. মোবাইল ফোনে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজার তথ্য, সাত. কৃষিবিষয়ক প্রশিক্ষণ, আট. ফসলের রোগ-বালাই দমনের পরামর্শ, নয়. কৃষি বীমা সুবিধা এবং দশ. ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্যের বিক্রি সুবিধা। এ কার্ডের মাধ্যমে ফসল উৎপাদনকারী কৃষকের পাশাপাশি মৎস্য চাষি/আহরণকারী, প্রাণিসম্পদ খাতে নিয়োজিত খামারি ও ফসল চাষি সরকারের তথ্যভাণ্ডারে সংযুক্ত থাকবে।  এতে ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় শ্রেণির কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়নের ক্ষেত্রে এ কার্ড বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারে। এটি একটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড। সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় পর্যায়ের শাখায় সংশ্লিষ্ট কৃষকদের নামে এই কার্ডের বিপরীতে ব্যাংক হিসাব খোলা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের বছরে আড়াই হাজার টাকা নগদ দেওয়া হবে।


আগের সরকারের আমলেও কৃষি উপকরণ কার্ড বিতরণ করা হয়েছিল কৃষকদের মধ্যে। কিন্তু এর তেমন কোনো ব্যবহার ছিল না। অনেক কৃষক এটি পলিথিনে মুড়িয়ে ট্রাংক অথবা আলমারিতে বন্দি করে রেখেছিলেন। সরকারের পক্ষ থেকে নগদ সহায়তা পেতে ব্যবহৃত হয়েছে জাতীয় পরিচয়পত্র। ডিলারের মাধ্যমে তাঁরা সার ও বীজ নিয়েছেন স্বাভাবিক নিয়মে, কোনো কার্ড ছাড়াই। এবার প্রগতিশীল হারে ভর্তুকিযুক্ত উপকরণ এবং নগদ সহায়তা নিতে হলে নতুন কৃষি কার্ড যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করতে পারে। তা ছাড়া লক্ষ্যভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান ও দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ প্রদানে এ কার্ডটি ব্যবহার করা যেতে পারে। বর্তমানে কৃষিঋণের প্রাপ্তি অনেকটা জামানতের ওপর নির্ভরশীল। ভূমিহীন ও বর্গাচাষিদের পক্ষে জামানত প্রদানের সুযোগ কম। সে ক্ষেত্রে কৃষক কার্ডই জামানত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। কৃষকদের বৃদ্ধ অবস্থায় পেনশন সুবিধা চালু করা ও সরকারি অনুদান কৃষকদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার জন্যও কৃষক কার্ড ব্যবহৃত হতে পারে।


বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম যে প্রশংসনীয় কাজটি করে, সেটা হলো ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ। ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরকারের ১৯৯১-৯৬ মেয়াদকালে পাঁচ হাজার টাকা কৃষিঋণের সুদ-আসল মওকুফ করা হয়েছিল। এবার ১০ হাজার টাকা মওকুফের বিষয়টি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে সন্নিবেশিত ছিল। এই উদ্যোগে প্রায় ১৩ লক্ষ ১৭ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক উপকৃত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাতে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে এক হাজার ৫৬৮ কোটির বেশি টাকা ব্যয় হচ্ছে। ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতে নেওয়া ঋণের ওপর এই সুবিধা প্রযোজ্য হয়েছে। এর মূল  লক্ষ্য হলো দরিদ্র কৃষকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষি খাতের মেরুদণ্ডকে শক্তিশালী করা। এর ফলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা ঋণের দায় থেকে মুক্ত হতে পারবেন। যা তাদের কর্মস্পৃহাকে বৃদ্ধি করবে এবং দেশের কৃষি খাতে উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও