You have reached your daily news limit

Please log in to continue


ট্রাম্পের চীন সফরের গুরুত্ব কতটা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বহু প্রত্যাশিত চীন সফর সম্পন্ন করেছেন। ২০১৭ সালের পর এই প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট চীনে শীর্ষ সম্মেলন করে গেলেন। এ সফর হওয়ার কথা ছিল আরও আগে। কিন্তু উপসাগরীয় যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সেই সফর আমেরিকা স্থগিত রাখে। এ সফর এমন এক সময় হলো, যখন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আমেরিকা সুবিধাজনক অবস্থানে নেই। সে কারণে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্প বৈঠক করেন দুর্বল অবস্থান থেকে।

দুই দিনের সফরে তার সঙ্গে ছিলেন আমেরিকার ব্যবসায়ীদের একটি দল। তাদের মধ্যে ছিলেন টেসলা এবং স্পেস এক্সের প্রধান ইলন মাস্ক, অ্যাপেল কোম্পানির টিম কুক, নিভিডা কোম্পানির জেন্সেন হুয়াং, ব্ল্যাকরকের কেলি ওর্টবার্গ এবং মেটা কোম্পানির ডিনা ম্যাককর্মিক। স্বভাবতই আলোচনার মূল বিষয় ছিল বাণিজ্য এবং ব্যবসায়িক সহযোগিতা। ধরে নেওয়া যায়, হাইটেক এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সংক্রান্ত আলোচনা ছিল বৈঠকের একটি প্রধান বিষয়। আমেরিকা চীনের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার। চীন আমেরিকায় ইলেক্ট্রনিক্স, কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, বস্ত্রসহ নানা ভোগ্যপণ্য রপ্তানি করে। অন্যদিকে আমেরিকা থেকে চীন মেশিনারি, রাসায়নিক দ্রব্য, উড়োজাহাজ উপকরণ ইত্যাদি আমদানি করে। কিন্তু চীনের সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ বিপুল। ২০১৮ সালে ওই ঘাটতি ছিল ৩৭৭ বিলিয়ন ডলার। এ বছর চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ১ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি।

দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ২০১৮ সালে চীনা পণ্যের ওপর ট্রাম্প নানা ধরনের ট্যারিফ আরোপ করেন। এরপর দুদেশের মধ্যে ট্যারিফ যুদ্ধ শুরু হয়। সেই যুদ্ধে চীন আমেরিকায় দুষ্প্রাপ্য খনিজসম্পদ রপ্তানি সীমিত করে এবং আমেরিকা থেকে সয়াবিন কেনা বন্ধ করে দেয়। এরপর দুই দেশ কয়েক দফা আলোচনার মাধ্যমে তাদের বিরোধ নিষ্পত্তি করে। অবশ্য ট্যারিফ নিয়ে ট্রাম্পের মাথাব্যথা কমেনি। ইতোমধ্যে দুই দফায় আমেরিকার হাইকোর্ট ওই ট্যারিফ আইনবিরোধী বলে রায় দিয়েছে। ফলে বাণিজ্য সংক্রান্ত আলোচনায় ট্রাম্প দুর্বল অবস্থানে ছিলেন।

অন্য যেসব বিষয় নিয়ে এ শীর্ষ সম্মেলনে আলোচনা হয়, তার মধ্যে ভূরাজনীতি প্রধান। ইরান যুদ্ধ নিয়ে বেইজিং-ওয়াশিংটন সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এর বেশ কয়েকটি কারণ ছিল। চীন ইরানকে সামরিক সাহায্য দিচ্ছে, এ অভিযোগ তুলে আমেরিকা চীনের তেল শোধনাগার এবং উপগ্রহ সংক্রান্ত চীনা কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ওই নিষেধাজ্ঞাকে চীন আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি বলে ব্যাখ্যা করে আমেরিকার সমালোচনা করে। চীন ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষার যুদ্ধে ইরানকে সমর্থন দিয়েছে। রাশিয়া ও চীন এ ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করে তাদের বিবৃতি দিয়েছে। তাছাড়া চীন চায় আমেরিকা গাল্ফ এলাকা ত্যাগ করুক এবং গাল্ফ দেশগুলো নিজেদের মতো করে একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলুক। চীনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে, পরাশক্তিদের মধ্যে একটি স্থায়ী, ন্যায়ভিত্তিক ও উত্তেজনাহীন সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা-যেখানে প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা পাবে এবং প্রতিটি দেশের অধিকারের প্রতি সম্মান দেখানো হবে, ঠিক যেভাবে ১৬৪৮ সালে ওয়েস্টফালিয়া চুক্তি আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের একটি কাঠামো প্রস্তুত করে ইউরোপে ৩০ বছর ধরে চলা যুদ্ধের সমাপ্তি টেনেছিল।

চীন-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল তাইওয়ান। এটি চীনের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি ইস্যু। চীন চায় আমেরিকা তাইওয়ানকে তার সামরিক সাহায্য বন্ধ করুক এবং একটি ভারসাম্য নীতির ভিত্তিতে সম্পর্ক উন্নত করার সুযোগ সৃষ্টি হোক। এ ভারসাম্য বিনষ্ট করার বিভিন্ন পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট থাকাকালে চীনের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। মার্কিন কংগ্রেস তাইওয়ানের স্বাধীনতার পক্ষে। ইতোমধ্যে ট্রাম্পের সঙ্গে শি জিনপিং দুই ঘণ্টাব্যাপী একান্ত আলাপ সম্পন্ন করেছেন। সেখানে শি ট্রাম্পকে সতর্ক করে দিয়েছেন যে, তাইওয়ান সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে দুদেশের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা বাড়বে। অন্যদিকে, এ খবর আসতে শুরু করেছে যে, দুই নেতার মধ্যে তাইওয়ান সংক্রান্ত যে আলাপ হয়েছে, হোয়াইট হাউজ তার ওপর কোনো মন্তব্য করবে না। আমেরিকা বরং হরমুজ প্রণালি প্রশ্নে অনেক বেশি উৎসাহ দেখাচ্ছে।

ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধ একটি অন্যতম প্রধান ভূ-রাজনৈতিক আলোচ্য বিষয় হিসাবে স্থান পায়। প্রায় দুই ঘণ্টার এ বৈঠকে দুই নেতা ইউক্রেন সংকট নিরসনে নিজ নিজ অবস্থান তুলে ধরেন এবং বিশ্ব স্থিতিশীলতা নিয়ে মতবিনিময় করেন।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন