হাওরাঞ্চল: খোরাক বাঁচানোর চেষ্টায় কৃষক
অতিবৃষ্টির পর টানা রোদ পেয়ে ডুবে যাওয়া ধান কাটতে হাওরের জলমগ্ন অংশে হুমড়ি খেয়ে পড়ে মানুষ। এর মধ্যে গত বুধবারের থেমে থেমে হওয়া বৃষ্টি ধান কাটতে আসা লোকজনকে অস্বস্তিতে ফেলে দেয়। তবে গতকাল বৃহস্পতিবারের রোদ আবার ব্যতিব্যস্ত করে তোলে সুনামগঞ্জের হাওর পারের মানুষকে। দীর্ঘসময় পানিতে তলিয়ে থাকা পাকা ধান পচে দুর্গন্ধ ছড়ালেও ফলনের মায়া ও খোরাকির টানে সে ধান কেটে তীরে তুলছেন কৃষক।
সরেজমিনে দেখা যায়, জামালগঞ্জের কালীপুর গ্রাম থেকে হালি হাওরমুখী প্রায় দুই কিলোমিটার জাঙ্গালের পুরোটাই পচা ধানের স্তূপে সয়লাব। শতাধিক নৌকা ভিড়িয়ে কালীপুর, লম্বাবাঁক, সদরকান্দি, কামিনীপুর, মমিনপুরসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ পানিতে কাটা ধান টেনে তুলছেন দুধারকান্দা জাঙ্গালে। ওই ধানের পচা গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে হাওর এলাকায়।
কৃষকেরা জানান, হালি হাওরের দুধারকান্দা, গুলডুবি, পাট্টিয়াজুরা অংশে অন্তত হাজার হেক্টরের বেশি জমি পানিতে তলিয়েছে। সেই পানিতে নেমে ধান কাটছেন অনেকে। কাটা ধান কেউ নৌকায়, কেউ পলিথিনের বিশেষ ভেলায় করে টেনে পাড়ে ভেড়াচ্ছেন।
ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে কেটে আনা ধান দুধারকান্দা জাঙ্গালে ঢেকে রাখার কাজ করছিলেন কালীপুর গ্রামের কৃষক আলী আমজদ। কতটুকু জমি করেছেন, নষ্ট হয়েছে কি-না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘বত্রিশ কিয়ার করছালাম। লাগাইতে খরচ হইছে প্রায় ২ লাখ টাকা। কাটাইতে পারছি এক হালের (১২ কিয়ার) মতো। বাকি ধান পানির তলে নষ্ট হইছে। নষ্ট ধানই কাটতাছি। কোনো লাভ হইতো না।’
- ট্যাগ:
- বাংলাদেশ
- হাওরাঞ্চল
- ফসলের ক্ষতি
- অতিবৃষ্টি