ক্ষমতার ‘আশীর্বাদে’ চলে ময়লা–বাণিজ্য
ক্ষমতার সঙ্গে থাকতে না পারলে কিংবা ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতা–কর্মীরা ‘অসন্তুষ্ট’ হলে একজন ব্যবসায়ীকে কী কী ক্ষতির মুখে পড়তে হয়, সেই উদাহরণ হতে পারেন সাহাবুদ্দিন আলী। তিনি একসময় পুরান ঢাকায় পুরোনো লোহালক্কড় বিক্রির ব্যবসা করতেন। দেড় বছর আগে ওই ব্যবসা ছেড়ে বাড়তি কিছু লাভের আশায় মানুষের বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহের কাজে যুক্ত হন। কীভাবে তিনি কাজটি পেলেন, সেই গল্পের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে ক্ষমতার ‘আশীর্বাদ’ পাওয়ার বিষয়টি।
তখন অন্তর্বর্তী সরকারের শাসন চলছে। ওই সময় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও দপ্তরে দাপট দেখাতেন এমন কিছু ব্যক্তি, যাঁরা কথায়–কথায় নিজেদের গণ–অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তি হিসেবে দাবি করতেন। যদিও তাঁদের মূল কাজ ছিল তদবির–বাণিজ্য। এ রকমই এক ব্যক্তির খোঁজ পান সাহাবুদ্দিন আলী। ওই ব্যক্তির মাধ্যমে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের (কাপ্তানবাজার ও নবাবপুরের একাংশসহ আশপাশের এলাকা) বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে বর্জ্য সংগ্রহের কাজ পান তিনি।
সিটি করপোরেশনের নিয়ম অনুযায়ী, কাজটির জন্য জামানত হিসেবে ১২ লাখ টাকা (অফেরতযোগ্য) দিতে হয়েছিল সাহাবুদ্দিনকে। যদিও দরপত্রের মাধ্যমে কাজটি পাওয়া সহজ ছিল না। কিন্তু তখন তাঁর সঙ্গে ক্ষমতার আশীর্বাদ থাকায় কোনো ঝামেলায় পড়তে হয়নি তাঁকে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে করপোরেশন থেকে এক বছরের জন্য কাজের অনুমতি পাওয়ার পর মাত্র দুই মাস ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের কিছু এলাকার বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন তিনি।
সাহাবুদ্দিন আলীর সঙ্গে তিন দফায় চলতি মে মাসের প্রথম সপ্তাহে কথা বলে প্রথম আলো। তিনি বলেন, ‘আমাকে মারধর করার হুমকি দিছে। একরকম জোরজবরদস্তি করে বিএনপির লোকজন কাজটি নিয়ে গেছে। ছয় বছর লোহালক্কড়ের ব্যবসা করে ১২ লাখ টাকা জমিয়েছিলাম। এখন লাভ তো দূরের কথা, পুরো চালানটাই গেছে। লোকাল (স্থানীয়) বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদের কাছে গিয়ে বিচার দিয়েছি, কোনো লাভ হয়নি।’
পুরোনো ব্যবসা ছেড়ে ময়লা সংগ্রহের কাজে কেন জড়িত হলেন, এমন প্রশ্নে সাহাবুদ্দিন আলী বলেন, ‘এই কাজে লস নাই, লাভ আছে।’
সাহাবুদ্দিন আলী বর্জ্য সংগ্রহের কাজের জন্য শুরুতে ২৪ জন কর্মী নিয়োগ দিয়েছিলেন, ভ্যানও কিনেছিলেন। কর্মীর পাশাপাশি ভ্যানের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনাও করেছিলেন; কিন্তু মাত্র দুই মাসের মধ্যেই কাজটি তাঁর কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এর পর থেকে আর কোনো ব্যবসায় যুক্ত হতে পারেননি, বেকার সময় কাটছে তাঁর। শুধু বললেন, পুরান ঢাকার ধূপখোলায় উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া একটি ফ্ল্যাটে পরিবার নিয়ে থাকেন। বাবার রেখে যাওয়া একটি দোকানের সামান্য ভাড়ায় কোনোরকমে সংসার চলছে।