থালাপতির উত্থানের নেপথ্য: ভারতের স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে এর প্রভাব

www.ajkerpatrika.com আব্দুর রহমান প্রকাশিত: ১৪ মে ২০২৬, ১০:১৮

ভারতের জাতীয় এবং তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে সাবেক অভিনেতা জোসেফ বিজয় ওরফে থালাপতি বিজয়ের উত্থান চমকের সৃষ্টি করেছে। অবশ্য তামিল রাজনীতিতে অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত হওয়া নতুন কোনো বিষয় নয়। বিজয়ের আগে এমজিআর—এমজি রামাচন্দ্রন এবং জয়ললিতা জয়রাম সিনেমার জগৎ থেকে এসে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। এমজিআর তাঁর প্রতিষ্ঠিত দল অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড়া মুনেত্রা কাজাগামকে (এআইএডিএমকে) কেন্দ্র রাজনীতি করে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। জয়ললিতাও এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেই একাধিকবার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন।


তবে বিজয়ের ব্যাপারটি এই দুজনের চেয়ে বেশ খানিকটা আলাদা। এমজিআর ও জয়ললিতা যেখানে পুরোনো প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের হাত ধরে রাজনীতিতে যাত্রা শুরু করেছিলেন, সেখানে থালাপতি বিজয় নিজের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল নিয়ে একেবারে শূন্য থেকে শুরু করেছেন।


বছর দুয়েক আগে থালাপতি তাঁর রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) শুরু করলেও তাঁর এই লক্ষ্যে যাত্রা শুরু মূলত ২০০৯ সালে। তখন থেকেই বিজয় তাঁর ভক্তভিত্তি পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেন। সে সময় রাজ্যজুড়ে বিজয় তাঁর ফ্যান ক্লাবগুলোকে সংগঠিত করে ‘বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কাম’ নামের সংগঠনে রূপ দেন। প্রথম দিকে এটি ছিল কল্যাণ ও সেবামূলক নেটওয়ার্ক। কিন্তু ধীরে ধীরে ত্রাণকাজ, শিক্ষা সহায়তা এবং স্থানীয় উদ্যোগের মাধ্যমে বুথ পর্যায়ে পরিচিতি তৈরি করে।


এরপর ২০১১ সালের বিধানসভায় এই প্ল্যাটফর্ম প্রকাশ্যে এআইএডিএমকের জোটকে সমর্থন দেয়। এটি ছিল বিজয়ের প্রথম সরাসরি নির্বাচনী অবস্থান। এরপর ২০১০-এর দশকের শেষ ভাগ ও ২০২০-এর শুরুর দিকে বিজয়ের চলচ্চিত্রে ক্রমেই রাজনৈতিক সুর বাড়তে থাকে। ২০১৯ সালে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএন) সমালোচনা তাঁর সিনেমার বাইরেও অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দেয়।


চলচ্চিত্রে স্টারডম বা তারকাখ্যাতির দিক থেকে বিজয় হয়তো কমল হাসান বা রজনীকান্তের পর্যায়ে নন, কিন্তু বক্স অফিসে তাঁর সফলতা ও বিশাল ভক্ত-সমর্থক গোষ্ঠীর প্রভাব নিঃসন্দেহে গভীর প্রভাবশালী। নাচ, কমেডি আর জনমুখী সিনেমার ভাষা বোঝার তীক্ষ্ণ ক্ষমতাই তাঁর মূল শক্তি। তবে বিজয়ের তারকাখ্যাতি আকস্মিকভাবে গড়ে ওঠেনি। এই বীজটি রোপণ করেছিলেন তাঁর বাবা। তাঁর বাবার মধ্যে কমিউনিস্ট ঝোঁক ছিল এবং তিনি রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার ব্যাপারেও বেশ আগ্রহী ছিলেন। চলচ্চিত্র নির্মাতা বাবা সেই কাজে সফল না হলেও বিজয় সফল হয়েছেন। বাবার দেখানো পথ ধরে বিজয় সব সময়ই সেক্যুলার এবং বিরোধিতা করেছেন ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদী রাজনীতির।

যা-ই হোক, ২০২১ সালে তামিলনাড়ুর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিজয়ের ‘মাক্কাল ইয়াক্কামের’ প্রার্থীরা যে আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তার বেশির ভাগই জিতে নেন। এতে প্রমাণিত হয়, বিজয়ের এই নেটওয়ার্ক শুধু জনসমাগম নয়, ভোটও টানতে পারে। এবং সেটার প্রমাণ পাওয়া গেছে রাজসভা নির্বাচনেও। বিজয়ের দল ১০৮টি আসন জিতে প্রধান দলে পরিণত হয় এবং কংগ্রেস ও বামপন্থী দলগুলোর সহায়তা নিয়ে সরকারও গঠন করেছে।


বিজয়ের জয়ের নেপথ্যে কয়েকটি স্পষ্ট ও পরস্পর সম্পর্কিত কারণ কাজ করেছে। প্রথমত, দীর্ঘদিনের তারকাখ্যাতি এবং ভক্ত-নেটওয়ার্ককে রাজনৈতিক সংগঠনে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে মুনশিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। গত প্রায় দুই দশকে তাঁর ফ্যান ক্লাবগুলো রক্তদান ও ত্রাণের মতো জনসেবামূলক কাজ করে জনগণের বিশ্বাস অর্জন করে ভোটব্যাংকের আস্থা তৈরি করেছে।


দ্বিতীয়ত, তিনি সময়োপযোগী রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করেছেন। তামিল জনগণের মাঝে ‘দ্রাবিড়’ পরিচয়ের রাজনীতির সমালোচনা ও অস্থিতিশীলতা তিনি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছেন। একই সঙ্গে অনিশ্চিত এই রাজনীতির দুই প্রধান দলের প্রতি জনগণের ‘ক্লান্তি’ বা এই রাজনীতি পরিবর্তনের মনোভাবকে বিজয় ভালোভাবে ক্যাশ করেছেন।


তৃতীয়ত, নিজের দলকে তিনি দ্রুত পেশাদার ও কার্যকরী সাংগঠনিক কাঠামো দিয়েছেন। শুধু ভক্তদের আবেগের ওপর ভরসা না রেখে স্থানীয় পর্যায়ে কো-অর্ডিনেশন, ট্রেইনিং ও ডেটা-ড্রাইভেন কর্মসূচি চালু করায় ভক্তকুলকে দলীয় ভোটারে রূপান্তর সম্ভব হয়েছে।


চতুর্থত, নির্বাচনী বার্তা ও প্রতিশ্রুতি তাঁর জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। সামাজিক কল্যাণ, দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকার এবং সহজে বোঝা যায় এমন প্রতিশ্রুতি (যেমন নারী ও গরিবদের জন্য তহবিল, নির্দিষ্ট সহায়তা) জনসাধারণের কাছে আকর্ষণীয় ও বাস্তবসম্মত লেগেছে। ফলে তাঁর ফ্যানবেজ ছাড়াও ভোটারদের অন্যান্য শ্রেণিও আকৃষ্ট হয়েছে। পঞ্চমত, দুর্বলতাকে শক্তিতে পরিণত করার কৌশল হিসেবে তিনি সিনেমার নাটকীয়তা, ব্যক্তিগত ইমেজ ও গণমাধ্যম ব্যবহারে দক্ষতা দেখিয়েছেন। তাঁর সেলিব্রিটি ইমেজ ও সিনেমার গল্পকে তিনি রাজনৈতিক ন্যারেটিভে বদলে দেওয়ার ক্ষেত্রেও ব্যাপক মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন, যা তাঁকে জনগণের মাঝে জনপ্রিয় হতে সহায়তা করেছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও