ইউক্রেইন যুদ্ধ কি শেষ হতে চলেছে?

বিডি নিউজ ২৪ ড. মঞ্জুরে খোদা প্রকাশিত: ১২ মে ২০২৬, ১৪:২৮

রেড স্কয়ারের কুচকাওয়াজ মঞ্চে দাঁড়িয়ে ভ্লাদিমির পুতিন যখন বললেন, “আমি মনে করি, বিষয়টি সমাপ্তির পথে”— তখন বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ হয়তো স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক রাজনীতির একজন পর্যবেক্ষক হিসেবে আমার প্রশ্ন— এটি কি সত্যিকারের যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত, নাকি কূটনৈতিক চালের অংশ?


৯ মে রাশিয়ার বিজয় দিবসে এবার মস্কোর রেড স্কয়ারে কুচকাওয়াজ ছিল অপেক্ষাকৃত সংক্ষিপ্ত ও ছোট। ইউক্রেইনের ড্রোন হামলার আশঙ্কায় নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল কঠোর। বিশাল ব্যালিস্টিক মিসাইল বা ট্যাংকের বহর ছিল না—তার বদলে ক্রেমলিনের দেয়ালে চলছিল রুশ সামরিক শক্তির ভিডিও প্রদর্শনী। এই পরিবর্তন বলে দেয় পরিস্থিতি কিছুটা জটিল।


‘যুদ্ধ শেষ হতে চলেছে’—কথার কথা নাকি বাস্তবতা? পুতিন কখনো আবেগতাড়িত হয়ে কথা বলেন না। তিনি এমন একজন নেতা যার প্রতিটি বাক্য পরিমিত। তাই তার এই মন্তব্যকে নিছক ‘কথার কথা’ বলে উড়িয়ে দেওয়া ঠিক হবে না। একই সঙ্গে এটিকে যুদ্ধসমাপ্তির নিশ্চিত ঘোষণাও বলা যাবে না। সিএনএন-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পুতিনের এই মন্তব্য অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ। তিনি এর আগে কখনো এভাবে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ সমাপ্তির কথা বলেননি। তার যুদ্ধের ছক ও কৌশল পরিকল্পিত, লক্ষ্য অর্জনের বিষয়টি নির্ধারিত। সেই তিনি এবার সেই তথ্য শেয়ার করলেন। তবে আল-জাজিরার বিশেষজ্ঞ এবং চ্যাথাম হাউসের ফেলো কেইর গাইলস সতর্ক করেছেন— গত দেড় বছরে যুদ্ধ শেষ হওয়ার কথা বহুবার এসেছে, কিন্তু বাস্তবে রূপ নেয়নি। তাই আশাবাদী হওয়ার আগে ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণটি ভালো করে জানা দরকার।


ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতার জটিলতা


পুতিনের ঘোষণার ঠিক একদিন আগে, ৮ মে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ঘোষণা করলেন— ৯ থেকে ১১ মে তিন দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। সঙ্গে দুই পক্ষের এক হাজার করে মোট দুই হাজার যুদ্ধবন্দির বিনিময়ও হবে। ট্রাম্প বললেন, “এটি একটি দীর্ঘ, রক্তক্ষয়ী ও কঠিন যুদ্ধের সমাপ্তির সূচনা।” কিন্তু বাস্তবতা কত ভিন্ন! এর আগে এপ্রিলে অর্থোডক্স ইস্টার উপলক্ষে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হয়েছিল। এই তিন দিনের যুদ্ধবিরতিও কতটা টিকবে তা নিয়ে সংশয় থাকাটাই স্বাভাবিক।


যুদ্ধ শেষ হওয়ার কথা বলা হলেও শান্তির মূল বাধাটি এখনো বিদ্যমান। রাশিয়ার দাবি, ডোনেৎস্কসহ পূর্বাঞ্চলের দখলকৃত এলাকা থেকে ইউক্রেইনীয় বাহিনীকে সরে যেতে হবে। ইউক্রেইনের অবস্থান এক ইঞ্চি জমিও না ছাড়া। এই বিপরীতমুখী অবস্থানের সমঝোতা কিভাবে হবে, সেটাই বড় প্রশ্ন।


মাঠের বাস্তবতা


ইউক্রেইনের পরিস্থিতি মাঠের বাস্তবতায় রাশিয়ার পক্ষেই ঝুঁকে আছে—এতে সন্দেহ নেই। ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত রাশিয়া ইউক্রেইনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড নিজের দখলে রেখেছে। গেল মার্চে রাশিয়া একটানা চার সপ্তাহে আরও ৪৬ বর্গমাইল দখল করেছে। লুহানস্ক ওব্লাস্ট সম্পূর্ণ রুশ নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে মস্কো দাবি করেছে। ইউক্রেইনের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ভয়াবহ। রুশ আক্রমণে ইউক্রেইনের বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ২০২২ সালের ৩৩.৭ গিগাওয়াট থেকে নেমে ২০২৬ সালের শুরুতে মাত্র ১৪ গিগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে। কিয়েভ শহরে একসময় দিনে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকত না। ৪১ মিলিয়নের দেশটি থেকে এরই মধ্যে ৬ থেকে ৭ মিলিয়ন মানুষ বিদেশে পালিয়ে গেছে, ৮ মিলিয়ন দেশের মধ্যেই বাস্তুচ্যুত।


ইরান যুদ্ধ ও বিশ্ব বাস্তবতার পরিবর্তন


আন্তর্জাতিক রাজনীতির একটি বড় সমীকরণ পাল্টে দিয়েছে মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত। এই যুদ্ধ ইউক্রেইনের জন্য দ্বিমুখী বিপদ ডেকে এনেছে। প্রথমত, পশ্চিমা বিশ্বের মনোযোগ ও সম্পদের একটি বড় অংশ এখন মধ্যপ্রাচ্যের দিকে। ইউক্রেইন এখন খবরের শিরোনামে দ্বিতীয় সারিতে। দ্বিতীয়ত, হরমুজ প্রণালির সংকট ইউরোপীয় দেশগুলোর অর্থনীতিকে বড় ধাক্কা দিয়েছে। ইউরোপ নিজেই এখন আর্থিক সংকটে; ইউক্রেইনের জন্য বাড়তি সহায়তার বোঝা বহন করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।


অন্যদিকে রাশিয়া এই পরিস্থিতি থেকে দুটি সুবিধা পাচ্ছে। একটি হলো পশ্চিমের দৃষ্টি অন্যত্র সরে যাওয়ায় ইউক্রেইনে তাদের অভিযান জোরদার করার সুযোগ। অপরটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কিছুটা শিথিলতার ফলে তেল বিক্রির মুনাফায় যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও