নতুন ভারতের জন্য নতুন ভাষা খুঁজতে হবে বামপন্থীদের

বিডি নিউজ ২৪ শশী থারুর প্রকাশিত: ১০ মে ২০২৬, ২২:০১

প্রায় একশো বছর ধরে ভারতে বামপন্থীদের হাতুড়ি-কাস্তের রাজনীতি শুধু স্নায়ুযুদ্ধের আদর্শিক সংঘাতের প্রতিচ্ছবি নয়, শাসনব্যবস্থার এক কঠিন বাস্তবতা। নব্বইয়ের দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ঘটে, চীন রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত পুঁজিবাদের পথে হাঁটে; তবু ভারত রয়ে যায় প্রাণবন্ত গণতন্ত্রের ভেতরেই। সেই সময় কমিউনিস্টরা কেবল রাজপথের কাণ্ডারি থাকত না। তারা ক্ষমতাসীন ছিল, নির্বাচনে জিতত, রাজ্য রাজনীতিতে প্রভাব রাখত। পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা এবং বিশেষভাবে কেরালায় সেই উপস্থিতি ছিল দীর্ঘস্থায়ী ও দৃশ্যমান।


এবার কেরালা বিধানসভা নির্বাচনে তাদের ভরাডুবি ইতিহাসে এক নতুন বাঁক তৈরি করছে। তাই ফ্রান্সিস ফুকুইয়ামার বিখ্যাত প্রশ্ন সামনে আসছে, এটি কি কমিউনিস্ট ইতিহাসের সমাপ্তি?


কেরালায় ক্ষমতাসীন বাম-গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের পতনে ৫০ বছরের মধ্যে ভারতের কোনো রাজ্যেই আর বাম সরকার রইল না। একসময় যাদের বৈশ্বিক দক্ষিণের ভবিষ্যৎ ভাবা হতো, এখন তারা নির্বাচনি রাজনীতিতে প্রান্তিক। সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে, ভারতীয় কমিউনিজমের পতন ঘটল।


একুশ শতকের প্রথম দশকে কমিউনিস্টরা ছিল ভারতের অন্যতম নির্ধারক শক্তি। লোকসভায় তাদের ৬০টির বেশি আসন ছিল। তারা ইউপিএ জোট সরকারকে স্থিতিশীল রাখতে প্রভাবশালী ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান গ্যারান্টি আইন, রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের সুরক্ষা, বেসরকারিকরণ বিরোধিতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তির প্রশ্নে তারা কল্যাণকামী অবস্থান নেয়। তাই কমিউনিস্টদের পতন সহজে মেনে নেওয়া কঠিন।


বামপন্থী ডেরায় প্রথম বড় ধাক্কা আসে ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে। সেখানে ৩৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। এরপর ২০১৮ সালে ত্রিপুরায় তারা বিজেপির কাছে পরাজিত হয়। উভয়ক্ষেত্রে ব্যর্থতা শুধু ক্ষমতা হারানো নয়, নজিরবিহীন রাজনৈতিক ধস। যে রাজ্যগুলো একসময় তারা কর্তৃত্বের সঙ্গে শাসন করত, সেখানেই নির্জীব শক্তিতে পরিণত হয়।


এর ফলে কেরালা হয়ে দাঁড়ায় বামপন্থীদের শেষ আশ্রয়স্থল। উল্লেখ্য, ১৯৫৭ সালে কেরালাতেই প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে কমিউনিস্ট সরকার নির্বাচিত হয়েছিল। গত অর্ধশতাব্দী ধরে কেরালায় প্রতি পাঁচ বছর অন্তর ক্ষমতাসীন সরকারকে বদলে দেওয়ার যে রীতি ছিল, তা ভেঙে ২০২১ সালে কোভিড মহামারীর মধ্যে বামপন্থীরা ঐতিহাসিক পুনর্নির্বাচন জয় করে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছিল। কিন্তু এবার সেই দলই ১৪০ আসনের মধ্যে মাত্র ৩৫টিতে আটকে গেল।


এই সংকট কেবল ভোটের সংখ্যা নয়, ভাষারও সংকট। নতুন ভারতের জন্য বামপন্থীরা ভাষা খুঁজে পাচ্ছে না। একসময় তাদের শক্তি ছিল সংগঠিত শ্রমিক ও কৃষক আন্দোলন। কিন্তু ১৯৯০-পরবর্তী সময়ে অর্থনীতির চরিত্র বদলে গেছে। সেবা খাত, প্রযুক্তি এবং মধ্যবিত্ত আকাঙ্ক্ষা রাজনীতির কেন্দ্র দখল করছে। দিল্লির এক তরুণ প্রোগ্রামার বা কলকাতার এক পাস্তা বিক্রেতার কাছে উদারনীতি কিংবা পুঁজিবাদের বিরোধিতা এখন শোষণ মুক্তির ভাষা নয়। বরং উন্নতি ও সুযোগের পথে বাঁধা মনে হবে।


একইসঙ্গে তারা সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মসূচির একচেটিয়া প্রভাব খুইয়েছে। অন্যান্য দল কল্যাণনীতিকে রাজনীতির প্রধান ভাষায় রূপ দিয়েছে। কেরালায় কংগ্রেসের ‘ইন্দিরা গ্যারান্টি’ কর্মসূচি রয়েছে। এমনকি দিল্লিতেও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে গ্যাস সিলিন্ডার, শৌচাগার কিংবা দুস্থদের সরাসরি অর্থ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ফলে সামাজিক কল্যাণের ঐতিহ্যবাহী রাজনীতিতে বামপন্থীরা পিছিয়ে পড়ছে।


সর্বভারতীয় পরিসরে তারা পরিচয়বাদী রাজনীতির চাপে পড়েছে। শক্তিশালী ট্রেড ইউনিয়ন এবং বৈশ্বিক কমিউনিজমের যুগে রাজনীতির মূল কেন্দ্র ছিল শ্রমিক শ্রেণি। বর্তমানে বর্ণ ও ধর্মভিত্তিক পরিচয় গুরুতর হয়েছে। বামপন্থীরা সার্বজনীন শ্রেণি-সংহতির রাজনীতি করে, কিন্তু আঞ্চলিক ও বর্ণভিত্তিক দলগুলো সামাজিক মর্যাদা ও পরিচয়ের প্রশ্ন সামনে আনে।


আবার ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি প্রধানত বয়স্ক ও উচ্চবর্ণের হিন্দু নেতৃত্ব দ্বারা পরিচালিত হয়। ফলে পিছিয়ে থাকা জাতিগোষ্ঠীর উত্থানের সঙ্গে তারা নেতৃত্ব কাঠামো বদলাতে পারেনি।


কেরালা দীর্ঘদিন সর্বভারতীয় রাজনীতির হাওয়া থেকে দূরে ছিল। সেখানে কমিউনিস্টরা নিম্নবর্ণের মধ্যে শক্ত ভিত্তি গড়ে তোলে। তারা কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টকে (ইউডিএফ) সংখ্যালঘুর দল হিসেবে আক্রমণ করত। কিন্তু গত এক দশকে বিজেপির উত্থানে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠের কাছে সেই আবেদন অনুপস্থিত।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও