ব্যয়ের তুলনায় মজুরি বাড়ে না, ৫০ মাস প্রকৃত আয় ‘কম’
রাজধানীতে পাঁচ বছর ধরে অটোরিকশা চালান এনামুল হক, বাজারের উত্তাপে এখন যার সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
তিনি বলছিলেন, আগে সামান্য কিছু সঞ্চয় করতে পারলেও এখন প্রতি মাসেই ধার-দেনা করে সংসার চালাতে হচ্ছে তাকে।
বৃহস্পতিবার শেওড়া থেকে গুলশানে যাওয়ার সময় ৪০ বছর বয়সী এনামুল বলেন, এই পেশায় আয় যে খুব কম তাও নয়, প্রতিদিন সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা আয় করেন তিনি। মালিককে ২ হাজার টাকা দেওয়ার পর কোনো দিন দেড় হাজার টাকা, কোনো দিন দুই হাজার টাকা থাকে।
স্ত্রী ও দুই ছেলে নিয়ে বাড্ডার ভাড়া বাসায় সংসার পাতা এই অটোচালক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বললেন, “এখন খুব কষ্ট হচ্ছে, স্যার। আর চলছে না। হিসাব মেলাতে পারি না। এক কেজি চাল কিনতেই ৭০ টাকা লাগে। বাজারে সব কিছুর দাম অনেক বেশি।”
সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো-বিবিএস মূল্যস্ফীতি ও মজুরি সূচক প্রকাশ করে তাতে দেখা যাচ্ছে, শুধু এনামুল নয় দেশের সব শ্রমজীবী মানুষ, এমনকি নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের প্রকৃত আয় ‘কমছে’।
অর্থনীতির বিশ্লেষকরা বলছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার দাম বাড়তে থাকায় প্রকৃত মজুরির ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে। এ কারণে বাস্তবে আয় বাড়লেও সঞ্চয় করা বা জীবনযাত্রার বাড়তি চাহিদা মেটানো তো দূরে থাক, সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়।
দেশে মূল্যস্ফীতি ও মজুরি সূচক প্রকাশ করে বিবিএস। সংস্থাটি মাঠপর্যায় থেকে বিভিন্ন খাদ্য পণ্য ও সেবার দাম সংগ্রহ করে। সেই দামের ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতির হিসাব কষে তা প্রকাশ করা হয়।