বিদ্যুতের দাম বাড়ছে: ‘পুরনো পথেই’ নতুন সরকার

বিডি নিউজ ২৪ শুভ কিবরিয়া প্রকাশিত: ০৮ মে ২০২৬, ১১:৪৫

সরকার এরই মধ্যে এলপিজি, ফার্নেস অয়েল, জেট ফুয়েল, পেট্রোল, ডিজেল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম বাড়িয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে সড়ক ও নৌপরিবহনে, বেড়েছে ভাড়াও। এবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে তারা। বিদ্যুৎ বিভাগের নীতিগত সম্মতির পর নড়েচড়ে বসেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিইআরসি। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে ১৭ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে পিডিবি। একই সঙ্গে খুচরা পর্যায়েও আনুপাতিক হারে মূল্যবৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। ফলে খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিটে সর্বোচ্চ ১ টাকা ৩৮ পয়সা পর্যন্ত বাড়তে পারে বিদ্যুতের দাম।


২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছিল নির্বাহী আদেশে। তখন বিদ্যুতের দাম পাইকারি পর্যায়ে ৫ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ৮ শতাংশ বাড়ে। প্রতি ইউনিট পাইকারি বিদ্যুতের দাম এখন ৭ টাকা ৪ পয়সা এবং খুচরা বিদ্যুতের দাম গড়ে ৮ টাকা ৯৫ পয়সা।


বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পেছনে চিরাচরিত যুক্তি হচ্ছে উৎপাদন খরচ বেশি, কিন্তু বিক্রয় করতে হয় কমে। সঙ্গে আছে যুদ্ধজনিত প্রাথমিক জ্বালানির বাড়তি দাম। তাই দাম বাড়িয়ে ঘাটতি কিছুটা মোকাবিলা করা। আবার এই ঘাটতি মোকাবিলায় যে ভর্তুকি দেওয়া হয়, সেই ভর্তুকি কমানোর জন্যই বিদ্যুতের দাম বাড়ানো। অতীতে যতবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে, ততবার এই যুক্তি দেওয়া হয়েছে।


বহুবার বিইআরসির গণশুনানিতে ভোক্তারা প্রশ্ন করেছেন—উৎপাদন ব্যয় বেশি কেন? উৎপাদন ব্যয় বেশি কারণ লুণ্ঠনমূলক উৎপাদন ব্যবস্থার মধ্যে আছে দুর্নীতি, লুটপাট, অপচয়, অপ্রয়োজনীয় পরিচালনা ব্যয়; আছে অধিক দামে প্রাথমিক জ্বালানি কেনার বন্দোবস্ত, অধিক দামের জ্বালানি পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রাধিকার, বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে চড়া মূল্যে বিদ্যুৎ ক্রয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও ক্যাপাসিটি চার্জ প্রদান ইত্যাদি বহুবিধ জ্বালানি অবিচার। আছে আইন করে দুর্নীতি করার রাষ্ট্রীয় কাঠামো। এসব লুণ্ঠন ও অনাচার কমানোর ব্যবস্থা কখনো না নিয়ে সবসময় বিদ্যুতের বাড়তি দাম ভোক্তার ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা অতীতে হয়েছে। এবারও সেই পথেই হাঁটছে নতুন সরকার।


নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ও অবহেলা


বিএনপি সরকার দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ক্ষমতায় আসার আগে জনগণের সামনে যে নির্বাচনি ইশতেহার ও আলাদাভাবে ৩১ দফা দাবিনামা পেশ করে, তাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে তাদের কিছু সুস্পষ্ট অঙ্গীকার ছিল। বিগত ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত ব্যাপকভাবে দুরাচার-অবিচারের মুখে পড়ে। তখন এই খাতে কাঠামোগত লুণ্ঠন একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। ফলে জনগণের দৃষ্টি ছিল বিএনপি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে কী ধরনের সুবিচারের অঙ্গীকার করে তার ওপর।


২০২৬ সালের সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে বিএনপি যে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করে সেখানে সুস্পষ্টভাবে উচ্চারণ করে—“গত দেড় দশকে সীমাহীন দুর্নীতি, অস্বচ্ছ ক্রয় প্রক্রিয়া, ব্যয়বহুল স্বল্পমেয়াদি চুক্তি, আত্মঘাতী ক্যাপাসিটি চার্জ ও অতিরিক্ত আমদানি নির্ভরতার ফলে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত ব্যয়বহুল, দুর্নীতিগ্রস্ত ও অদক্ষ কাঠামোয় পরিণত হয়েছে।”


“ফ্যাসিস্ট সরকারের নজিরবিহীন দুর্নীতির কারণে জাতির ওপর জ্বালানি খাতে বিশাল অঙ্কের দায় এসে পড়েছে। ক্যাপাসিটি চার্জসহ রেন্টাল ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তিসমূহ পর্যালোচনা করে অপ্রয়োজনীয় ও অযৌক্তিক ব্যয় হ্রাস এবং স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করা হবে।”


“সর্বনিম্ন ব্যয়ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করে সর্বোত্তম জ্বালানি মিশ্রণ নিশ্চিত করা হবে।”


“জ্বালানির দাম সাশ্রয়ী ও স্বচ্ছ রাখতে ট্যারিফ নির্ধারণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা জোরদার করা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাধীন পর্যালোচনা প্রক্রিয়া চালু করা হবে।” (বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত উন্নয়ন)।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও