বিজেপির বঙ্গজয় ও অধরা তিস্তার ঝিলিক

প্রথম আলো সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশিত: ০৭ মে ২০২৬, ১৩:৩৭

রাজ্যে প্রতিষ্ঠানবিরোধিতার ফল্গু যে নিঃশব্দে বইছে, নির্বাচনের প্রাক্কালে পশ্চিমবঙ্গে এসে তা বুঝতে দেরি হয়নি। উচ্চ ও মধ্যবিত্ত বাঙালি হিন্দু পরিবারের তীব্র মমতাবিদ্বেষ আমাকে বিস্মিত করেছিল। অথচ দুই বছর আগেও এরা তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট দিয়েছে। তাহলে রাতারাতি কী হলো যে তারা এভাবে মমতার বিদায়ের প্রতীক্ষায় চাতক পাখি সেজে থাকল? 


শহর ও জেলা সফরকালে বোঝা গেল, বীতশ্রদ্ধ হওয়ার প্রথম কারণ লাগামহীন দুর্নীতি, চরম অরাজকতা, স্থানীয় নেতাদের দৌরাত্ম্য ও ঔদ্ধত্য এবং আইনের শাসনের অনুপস্থিতি। বুঝলাম, সাধারণ মানুষ প্রতিকারের আশায় যাঁর দিকে তাকিয়ে ছিল, তাঁর ঔদাসীন্য ও নিরুচ্চারিততায় তারা হতাশ। 


দ্বিতীয় কারণ, মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে বিভাজন। পিসি ও ভাইপো ক্ষমতার সমান্তরাল ভরকেন্দ্র হয়ে ওঠায় দল ও সমাজে প্রবল অসহায়তা সৃষ্টি হয়। কিংকর্তব্যবিমূঢ়তায় ভুগতে থাকে সর্বস্তরের নেতৃত্ব। অভিষেক সংস্কারপন্থী। পুরোনো নেতারা তাঁর কাছে বোঝা। মমতা আবার পুরোনোদের ছাড়তে নারাজ।


প্রশান্ত কিশোরের তৈরি ‘আইপ্যাক’ সংস্থা ২০২১ সালে মমতাকে জেতানোর অন্যতম কারিগর ছিল। অভিষেক সেই সংস্থাকে দলের চোখ ও কান করে তোলেন। এতে তৃণমূল স্তরের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মমতার সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আইপ্যাকই হয়ে ওঠে নির্ণায়ক। পিসি-ভাইপোর টানাপোড়েনে দল হাঁসফাঁস করতে থাকে। 


এই পরিস্থিতিতে বিজেপির কোমর কষে নামা। নির্বাচন কমিশনের অতি সক্রিয়তাও বীতশ্রদ্ধ এই জনসমষ্টিকে একধরনের আশার আলো দেখায়। তারা বুঝতে পারে, পরিবর্তন যদি কেউ আনতে পারে, তাহলে এরাই পারবে। এর সঙ্গে জোট বাধে হিন্দুত্বের টান। বিজেপির প্রচারণায় মমতাও মুসলমানদের ‘ত্রাতায়’ পরিণত। 


প্রশ্ন হলো, কেন্দ্র পরিক্রমার সময় পরিবর্তনের এই প্রবল হাওয়ার আভাস কেন পাওয়া যায়নি? মমতার এমন মুখ থুবড়ে পড়ার আগাম আন্দাজ কেন কেউ আঁচ করেনি? বিজেপি যে দুই–তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে তৃণমূলকে ধরাশায়ী করতে চলেছে, সেই ইঙ্গিত তাহলে কেন কেউ দিতে পারল না? উত্তরটা সহজ। রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে সেই ইঙ্গিত কোনোভাবে প্রচ্ছন্ন ছিল না। 


রাজ্যে শেষবার ভোট হয়েছিল ২০২৪ সালে। লোকসভার। দুর্নীতি, দৌরাত্ম্য, অরাজকতা ও অসহায়ত্ব তখনো ছিল। তা সত্ত্বেও সেই ভোটে বিজেপির আসন ১৮ থেকে ১২তে নামিয়ে দিয়েছিলেন মমতা। পরিবর্তনের উদগ্র বাসনার প্রতিফলন তখনো দেখা যায়নি।


পরিস্থিতিটা ২০১১ সালের বাম ফ্রন্টের পতনের সঙ্গে একবার তুলনা করে দেখুন। ২০০৮ সালের পঞ্চায়েত ভোটে বাম ফ্রন্টের কাছ থেকে মমতা ছিনিয়ে নিয়েছিলেন ২টি জেলা পরিষদ। আরও ৬টিতে জেতার মতো অবস্থায় চলে গিয়েছিল তৃণমূল। পরের বছর লোকসভা ভোটে তৃণমূল ও তার জোটসঙ্গীরা রাজ্যের ৪২টির মধ্যে ২৭টি জিতে বাম ফ্রন্টকে বেঁধে রাখে মাত্র ১৫ আসনে। ২০১০ সালে তৃণমূল ছিনিয়ে নেয় কলকাতাসহ একের পর এক পৌরসভা। ২০১১–তে বাম ফ্রন্টের বিদায় অনেক আগে থেকেই বোঝা যাচ্ছিল। বাম ফ্রন্টকে সরিয়ে তৃণমূলের 

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও