গেরুয়ার এই জয় পশ্চিমবঙ্গকে যেভাবে ভেতর থেকে বদলে দেবে

প্রথম আলো পশ্চিমবঙ্গ খান মো. রবিউল আলম প্রকাশিত: ০৭ মে ২০২৬, ১৩:৩৩

নির্বাচন সংযুক্তির স্মারক মনে হচ্ছে না, মনে হচ্ছে বিভক্তির কারক। নির্বাচন মানে কাউকে না কাউকে বেছে নেওয়া আর অন্যদের উপেক্ষা করার এক বিশেষ প্রক্রিয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে।


নির্বাচনের নামে অন্যদের উপেক্ষার অর্থ বোঝা সহজ নয়। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। আর তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) ১৫ বছরের শাসন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।


পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির গোড়াপত্তন করেন ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তিনি ভারতের রাজনীতিতে বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এবং হিন্দু জাতীয়তাবাদী নেতা হিসেবে পরিচিত। ১৯৫১ সালে তাঁর হাতেই ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজিপি) মতাদর্শগত পূর্বসূরি ‘ভারতীয় জনসংঘ’ প্রতিষ্ঠিত হয়।


পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয় উদ্‌যাপনের অংশ হিসেবে পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয় দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গভীর শ্রদ্ধায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে স্মরণ করেন। পশ্চিমবঙ্গকে শ্যামাপ্রসাদের মাটি হিসেবে তিনি চিহ্নিত করেন।


মূল কথা, হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির শিকড় পশ্চিম বাংলার মাটিতেই গাড়া হয়েছিল আজ থেকে প্রায় ৭৫ বছর আগে, যা এখন মহিরুহরূপে বিকশিত হলো।


এ নির্বাচন দারুণ বিভক্তিরেখা টেনে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক ও সমাজের অন্তঃস্রোতে। ক্ষয় ও ক্ষরণ শুরু হয়েছে। সম্পর্কগুলো ভাঙতে শুরু করেছে। এ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ও স্বচ্ছতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বিশেষত কেন্দ্রের দোর্দণ্ড হস্তক্ষেপ ও স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) তৎপরতা নির্বাচনী পরিবেশকে ক্লেদাক্ত করে তুলেছিল। এবারে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে বিশেষ কিছু প্রবণতা লক্ষ করা গেছে।


গেরুয়া: বহু বর্ণের ভারত আজ এক বর্ণের খপ্পরে


এ ভোটযুদ্ধ গেরুয়া রং, জয় শ্রীরাম, জয় বাংলা, মাছে-ভাতে বাঙালি ইস্যুতে বিভক্তিরেখা টেনে দেয়। বিজেপির সমর্থকদের ভেতর গেরুয়া রঙের প্রতি আসক্তি লক্ষ করা যায়, যা হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির প্রতীক হিসেবে দৃশ্যমান হয়েছে। এই তৎপরতা ভারতব্যাপী হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক মেরুকরণ গভীর করে তুলেছে। গেরুয়া রঙের প্রতি পশ্চিমবঙ্গের মানুষের এই মোহ এক নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।


গেরুয়া রং প্রধানত ত্যাগ, সাহস, পবিত্রতা, জ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতা অর্থে ব্যবহৃত হয়। এটি হিন্দু ও বৌদ্ধধর্মে সন্ন্যাস বা ত্যাগের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। এ রং মনের শান্তি, আত্মচেতনা ও ইতিবাচক শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে বলে বিশ্বাস চালু আছে। বিজেপির সমর্থকেরা গেরুয়া রং ব্যবহার করে মূলত দলের মূল আদর্শ হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদ এবং সাংস্কৃতিক ধারণাকে তুলে ধরতে চাচ্ছেন।


ভারতের মানচিত্রজুড়ে গেরুয়া রঙের আধিক্য বাড়ল। যোগাযোগ তাত্ত্বিক হার্বার্ট মিড তাঁর ‘সিম্বলিক ইন্টারঅ্যাকশনিজম’ তত্ত্বে উল্লেখ করেছেন, মানুষের যোগাযোগ মিথস্ক্রিয়া মূলত প্রতীকাশ্রয়ী। এ প্রতীকের যোগাযোগের ফিলিং স্ট্রাকচার বা অনুভব-কাঠামো।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও