নাৎসি পার্টি কেন এবং কীভাবে নিষিদ্ধ হয়েছিল

বিডি নিউজ ২৪ সাঈদ ইফতেখার আহমেদ প্রকাশিত: ০৫ মে ২০২৬, ১০:০৪

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গত প্রায় দুই বছর ধরে বিশেষত ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর থেকে যে বিদেশি রাজনৈতিক দলের বিষয়টি বিশেষভাবে উচ্চারিত হচ্ছে, তা হলো জার্মানিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নাৎসি পার্টির নিষিদ্ধকরণ। নাৎসি পার্টি কীভাবে নিষিদ্ধ হলো, তার পেছনের ইতিহাস কী এবং কোন মতাদর্শ এই দলকে জন্ম দিয়েছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আমাদের ফিরে যেতে হবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী জার্মানির গভীর সংকটময় সময়ে। নাৎসি পার্টির ভিত্তি যে মতাদর্শের ওপর গড়ে উঠেছিল, সেই নাৎসিবাদ কেবল একটি রাজনৈতিক দর্শন নয়—এটি ছিল বর্ণবাদ, ঘৃণা, সামরিকতন্ত্র ও একনায়কতন্ত্রের এক চরম সমন্বয়, যার বিষাক্ত প্রভাব থেকে আজও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত মুক্ত নয়।


এই মতবাদকে সামগ্রিকভাবে বুঝতে হলে কেবল এর আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং এর দার্শনিক উৎস, সমাজতাত্ত্বিক গতিশীলতা এবং মনোবিশ্লেষণমূলক মাত্রাগুলোকেও একসঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি—কীভাবে এই মতবাদের জন্ম হয়েছিল, কীভাবে তা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকে ধ্বংস করেছিল, কীভাবে মানব ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল এবং কীভাবে শেষ পর্যন্ত এই দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।


নাৎসিবাদের দার্শনিক ভিত্তি ও রাজনৈতিক উত্থান


নাৎসিবাদের বীজ রোপিত হয় ঊনবিংশ শতাব্দীর ইউরোপীয় বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনের সময়ে। জার্মান দার্শনিক যোহান গটলিব ফিখটের জাতীয়তাবাদী দর্শন, গেয়র্গ ভিলহেল্ম ফ্রিডরিখ হেগেলের রাষ্ট্রকেন্দ্রিক চিন্তা এবং আর্থার ডি গোবিনোর বর্ণবাদী তত্ত্ব—এই তিনটি ধারা একত্র হয়ে নাৎসি মতবাদের দার্শনিক ভিত্তি তৈরি করে। গোবিনো তার An Essay on the Inequality of the Human Races গ্রন্থে আর্য জাতির শ্রেষ্ঠত্বের যে মিথ তৈরি করেছিলেন, তা পরবর্তীকালে হিটলারের ভাবাদর্শের কেন্দ্রে স্থান পায়। জার্মান সুরকার ভিলহেল্ম রিচার্ড ওয়াগনারের জামাতা, হিউস্টন স্টুয়ার্ট চেম্বারলেন তার Foundations of the Nineteenth Century গ্রন্থে ইহুদি-বিদ্বেষকে একটি ছদ্ম-বৈজ্ঞানিক ভিত্তি দিয়েছিলেন, যা নাৎসি মতবাদ গ্রহণ করেছিল অত্যন্ত আগ্রহের সঙ্গে। ফ্রেডরিখ নিটশের ‘Übermensch’ বা অতিমানবের ধারণাকেও—যদিও নিটশে নিজে জাতীয়তাবাদ ও বর্ণবাদের বিরোধী ছিলেন—নাৎসিরা বিকৃত করে নিজেদের আদর্শের অনুকূলে ব্যবহার করেছিল।


প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয় এবং ১৯১৯ সালের ভার্সাই চুক্তির অপমানজনক শর্তাবলি নাৎসিবাদের জন্য সবচেয়ে উর্বর রাজনৈতিক ক্ষেত্র তৈরি করেছিল। যুদ্ধের পরবর্তী বছরগুলোতে ভাইমার প্রজাতন্ত্র ব্যাপক অর্থনৈতিক সংকট, হাইপারইনফ্লেশন এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখোমুখি হয়। এই বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে ১৯২০ সালে আডলফ হিটলার ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টি বা NSDAP গঠন করেন, যা সংক্ষেপে নাৎসি পার্টি নামে পরিচিত হয়। হিটলারের রাজনৈতিক প্রতিভা ছিল জনমানসের হতাশা ও ক্রোধকে একটি নির্দিষ্ট শত্রুর বিরুদ্ধে পরিচালিত করবার ক্ষমতা। হিটলার ছিলেন ‘ক্যারিশম্যাটিক অথরিটি’র এক ক্লাসিক উদাহরণ। ম্যাক্স ওয়েবারের ভাষায়, ক্যারিশম্যাটিক নেতা সংকটময় সময়ে জনগণের আবেগকে সংগঠিত করে, যুক্তির বদলে প্রতিশ্রুতির ওপর ভিত্তি করে ক্ষমতা অর্জন করে। হিটলার ঠিক সেটাই করেছিলেন। তিনি ইহুদি, কমিউনিস্ট এবং বহিরাগতদের জার্মানির সমস্ত দুর্দশার জন্য দায়ী করে একটি সরল কিন্তু বিপজ্জনক আখ্যান তৈরি করেছিলেন।


১৯২৩ সালে হিটলার ‘Beer Hall Putsch’ নামে একটি ব্যর্থ অভ্যুত্থানের চেষ্টা করেন এবং কারাবন্দি হন। কারাগারে থাকাকালীন তিনি Mein Kampf রচনা করেন, যা নাৎসি মতবাদের মূল দলিল হিসেবে পরিচিত। এই গ্রন্থে তিনি জার্মান জাতির শ্রেষ্ঠত্ব, ইহুদি-বিদ্বেষ, ‘Lebensraum’ বা জার্মান ‘জাতির’ টিকে থাকার জন্য পূর্ব ইউরোপ দখলের আকাঙ্ক্ষা এবং গণতন্ত্রের প্রতি গভীর ঘৃণা প্রকাশ করেছিলেন। ১৯২৯ সালের মহামন্দা নাৎসি পার্টির উত্থানকে ত্বরান্বিত করে। লাখ লাখ জার্মান বেকারত্ব ও দারিদ্র্যের মুখোমুখি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নাৎসিদের জনসমর্থন দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ১৯৩২ সালের নির্বাচনে নাৎসি পার্টি রাইখস্টাগের বৃহত্তম দলে পরিণত হয় এবং ১৯৩৩ সালের ৩০ জানুয়ারি হিটলার জার্মানির চ্যান্সেলর পদে নিযুক্ত হন।


ক্ষমতায় আসার পর হিটলার দ্রুততার সঙ্গে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করতে শুরু করেন। ১৯৩৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাইখস্টাগ ভবনে আগুন লাগার ঘটনায় কমিউনিস্টদের অভিযুক্ত করে হিটলার জরুরি ক্ষমতা অধিগ্রহণ করেন। মার্চ মাসে ‘Enabling Act’ পাস করা হয়, যা হিটলারকে সংসদকে পাশ কাটিয়ে আইন প্রণয়নের সীমাহীন ক্ষমতা প্রদান করে। রাজনৈতিক দলগুলো নিষিদ্ধ হয়, ট্রেড ইউনিয়ন ভেঙে দেওয়া হয় এবং মিডিয়াকে সম্পূর্ণরূপে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা হয়। ১৯৩৪ সালে রাষ্ট্রপতি হিন্ডেনবার্গের মৃত্যুর পর হিটলার চ্যান্সেলর ও রাষ্ট্রপতির পদ একীভূত করে ‘Führer’ উপাধি গ্রহণ করেন।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও