মোহামেডান-আবাহনীর সেই ডার্বি আর নেই

কালের কণ্ঠ ইকরামউজ্জমান প্রকাশিত: ০৫ মে ২০২৬, ০৯:৪৯

অখণ্ড ভারতবর্ষের দিনগুলোতে কলকাতার ফুটবলে আমাদের পূর্ব বাংলার ফুটবলারদের প্রাধান্য ছিল সব সময় আলোচনার বিষয়। পূর্ব বাংলায় ফুটবলের জনপ্রিয়তার পাশাপাশি ছিল ক্লাব এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে এই খেলার ব্যবস্থাপনার সাংগঠনিক দক্ষতা। সাতচল্লিশের দেশ বিভাগের পর তাই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ঢাকায় ১৯৪৮ সালে ফুটবল লীগ মাঠে গড়াতে বেগ পেতে হয়নি। প্রথম বছর ১৯৪৮ সালে ঢাকার প্রথম বিভাগ লীগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব।

ক্লাবটির জন্ম ১৯০৩ সালে। প্রথম বছর লীগ শিরোপা অধিকারী ক্লাব ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিংয়ের বেশির ভাগ খেলোয়াড় ছিলেন হিন্দু। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় নিয়মিতভাবে কলকাতার লীগে বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে খেলতেন। সেই ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব এখন অনেকটাই হারিয়ে গেছে।

সত্তরোর্ধ্ব ফুটবলপ্রেমী কেউ কেউ এখনো সেই ষাটের দশকের ভিক্টোরিয়া ক্লাবের ফুটবল নৈপুণ্য নিয়ে আনন্দের সঙ্গে কথা বলেন। সেই সব দিনের স্মৃতিতে এখনো ধুলা জন্মায়নি।


১৯৪৯ সালে চ্যাম্পিয়ন হয় ইপি জিমখানা ক্লাব। প্রথম খেলায় আগেরবারের লীগ চ্যাম্পিয়ন ভিক্টোরিয়া ক্লাবের কাছে ১-৮ গোলে পরাজিত হলেও শেষ পর্যন্ত ইপি জিমখানা চ্যাম্পিয়ন হয়।

আর রানার্স আপ হয়েছে মাহুতটুলী ক্লাব। ইপি জিমখানা প্রথম ম্যাচে হারার পর কলকাতা মোহামেডান স্পোর্টিং দল থেকে খেলোয়াড় নিয়ে এসে মাঠে দলগত শক্তি বৃদ্ধি করে এবং ফল পায়। ঢাকার লীগে প্রথম বিদেশি খেলোয়াড় আনার পথ দেখিয়েছে ইপি জিমখানা। ১৯৫০ ও ১৯৫১ পর পর দুই বছর চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ঢাকা ওয়ান্ডারার্স। ১৯৫২ সালে বিজি প্রেস।

এরপর ১৯৫৩ থেকে আবার তাদের জয়যাত্রা শুরু। মধ্যে ১৯৫৫ সালে বন্যাজনিত কারণে মাঝপথে খেলা পরিত্যক্ত হয়। ওয়ান্ডারার্স ১৯৫৪ ও ১৯৫৬ সালেও লীগ শিরোপা জিতেছে। ১৯৫০ থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত এই ১১ বছরে ওয়ান্ডারার্স শিরোপা জিতেছে ছয়বার। ১৯৫৭ সালে প্রথমবারের মতো লীগ শিরোপা জিতেছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। পরের বছর আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব (১৯৫৮)। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের নিয়ে গঠিত ক্লাবটির জন্ম ১৯৪৭ সালে। ১৯৪৯ সালে ক্লাবটি প্রথমবারের মতো দ্বিতীয় বিভাগ লীগে খেলার সুযোগ লাভ করে। ১৯৫১ সালে আজাদ স্পোর্টিং দ্বিতীয় বিভাগ থেকে প্রথম বিভাগ লীগে উন্নীত হয়। একই বছর অর্থাৎ ১৯৫১ সালেই ফায়ার সার্ভিস দলও সমানসংখ্যক পয়েন্ট পাওয়ায় প্রথম বিভাগ লীগে উন্নীত হয়েছে। ১৯৫৯ সালে দ্বিতীয়বারের মতো লীগ শিরোপা জেতে ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। ওই বছর তারা লীগ শিরোপা ছাড়াও আগা খান গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়। ১৯৬০ সালে আবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ঢাকা ওয়ান্ডারার্স। এরপর ১৯৬১ সালে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। এক বছর পর ১৯৬৩ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মোহামেডান। ১৯৬৫ ও ১৯৬৬ সালে আবার মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব শিরোপা জেতে। ঢাকার মাঠে ইপিআইডিসি এসেছে প্রথম থেকেই ভারসাম্যপূর্ণ দল নিয়ে। আর এতে সম্ভব হয়েছে ভালো ফুটবল খেলে মোহামেডানের প্রাধান্যকে চ্যালেঞ্জ করা। ১৯৬৭ ও ১৯৬৮ পর পর দুই বছর চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইপিআইডিসি। ১৯৬৯ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মোহামেডান। এটি ছিল পাকিস্তানের দিনগুলোতে তাদের শেষবারের মতো লীগ শিরোপা জয়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও