পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে বিজেপির উত্থান কেন?

জাগো নিউজ ২৪ পশ্চিমবঙ্গ প্রশান্ত কুমার শীল প্রকাশিত: ০৩ মে ২০২৬, ১১:২৪

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতি গত এক দশকে যে রূপান্তরের মধ্য দিয়ে গেছে, তা কেবল আঞ্চলিক নয় বরং সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কেস স্টাডি। ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার মধ্য দিয়ে ‘পরিবর্তন’-এর যে রাজনৈতিক ভাষ্য তৈরি হয়েছিল, তা ক্রমে নতুন এক রাজনৈতিক বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। কিন্তু এই পরিবর্তনের ভেতরেই জন্ম নিয়েছে আরেকটি প্রবণতা তা হলো ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র দ্রুত উত্থান। প্রশ্ন হলো, এই উত্থানের রহস্য কোথায়?


এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক কাঠামো, পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতির বিকাশ, ধর্মীয় মেরুকরণ এবং সমসাময়িক নির্বাচনী কৌশল—সবকিছুকে একসঙ্গে বিশ্লেষণ করতে হবে।


ঐতিহাসিক মেরুকরণ থেকে নতুন বাস্তবতা


পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে দ্বিমেরু কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে ছিল। ১৯৭৭ থেকে শুরু করে তিন দশকেরও বেশি সময় বামফ্রন্ট ক্ষমতায় ছিল এবং ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস ছিল প্রধান বিরোধী শক্তি। এই সময়ের রাজনীতি মূলত শ্রেণিভিত্তিক ও আদর্শিক বিভাজনের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। কিন্তু ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্ম এবং ২০১১ সালের ক্ষমতার পরিবর্তনের পর এই চিত্র পাল্টে যায়। শ্রেণি-রাজনীতির জায়গা দখল করতে শুরু করে পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতি। রাজবংশী, গোর্খা, মতুয়া, মুসলমান—এমন বিভিন্ন গোষ্ঠী আলাদা রাজনৈতিক সত্তা হিসেবে সামনে আসে। এই বহুমাত্রিক ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতি তৃণমূলের জন্য কার্যকর হলেও বিজেপির আদর্শিক কাঠামোর সঙ্গে তা আপাতদৃষ্টিতে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।


‘হিন্দুত্ব’ বনাম বহুবচন: বিজেপির কৌশল


বিজেপির মূল শক্তি নিহিত রয়েছে তার ‘একত্ববাদী’ রাজনৈতিক দর্শনে, যার কেন্দ্রবিন্দু হিন্দুত্ব। পশ্চিমবঙ্গের বিচ্ছিন্ন পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতিকে একক ছাতার নিচে আনার জন্য বিজেপি এই হিন্দুত্ববাদী পরিচয়কে ব্যবহার করেছে অত্যন্ত কৌশলগতভাবে। বিশেষ করে মতুয়া ও নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে এই কৌশল সফল হয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে যাদের সঙ্গে উচ্চবর্ণ হিন্দুদের দূরত্ব ছিল। তাদের মধ্যেও ‘গর্বিত হিন্দু’ পরিচয় তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে বিজেপি। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা Citizenship Amendment Act (সিএএ)-এর মতো ইস্যু এই প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। এই কৌশলের ফলে ২০২১ সালের নির্বাচনে নমঃশূদ্র ভোটের একটি বড় অংশ বিজেপির দিকে ঝুঁকেছিল। অর্থাৎ, বিচ্ছিন্ন পরিচয়কে একক ধর্মীয় পরিচয়ে রূপান্তর—এটাই বিজেপির উত্থানের অন্যতম মূল চাবিকাঠি।


ধর্মীয় মেরুকরণ: দ্বিমুখী রাজনীতি


পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক নির্বাচনী রাজনীতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠেছে ধর্মীয় মেরুকরণ। বিজেপি যেমন হিন্দু ভোটকে একত্রিত করার চেষ্টা করেছে, তেমনই তৃণমূল কংগ্রেসও মুসলমান ভোটব্যাঙ্ককে সুসংহত রাখতে চেষ্টা করছে। ২০২৪ সালের বিধানসভা নির্বাচনী সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রায় ৭০ শতাংশ মুসলমান ভোট তৃণমূলের পক্ষে গেছে। অন্যদিকে, যে সব আসনে মুসলমান জনসংখ্যা বেশি, সেখানে বিজেপি হিন্দু ভোটের ব্যাপক মেরুকরণ ঘটাতে পেরেছে। যেমন রায়গঞ্জ বা মালদার মতো অঞ্চলে এই প্রবণতা স্পষ্ট। এই পরিস্থিতি এক ধরনের ‘বাইনারি পলিটিক্স’ তৈরি করেছে। যেখানে ভোটাররা ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নিজেদের অবস্থান নির্ধারণ করছে। এর ফলে অর্থনৈতিক, সামাজিক বা উন্নয়নমূলক ইস্যুগুলি পেছনে চলে যাচ্ছে।


নারী ভোটব্যাঙ্ক: তৃণমূলের পাল্টা শক্তি


যেখানে বিজেপি ধর্মীয় মেরুকরণের ওপর নির্ভর করছে, সেখানে তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি করেছে একটি শক্তিশালী ‘মহিলা ভোটব্যাঙ্ক’। বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি তারা হাতে নিয়েছে: যেমন কন্যাশ্রী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার।  যা নারী ভোটারদের মধ্যে তৃণমূলের প্রভাব বাড়িয়েছে। ফলে হিন্দু ভোটের সম্পূর্ণ মেরুকরণ সম্ভব হয়নি। ২০২১ ও ২০২৪ সালের সমীক্ষা দেখায়, নারী ভোটের একটি বড় অংশ এখনও তৃণমূলের পক্ষে রয়েছে। এটি বিজেপির জন্য একটি বড় সীমাবদ্ধতা।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও