‘আমার বুলেট আর নাই’—এর চেয়ে দীর্ঘ বাক্য আছে?

প্রথম আলো মনোজ দে প্রকাশিত: ০২ মে ২০২৬, ১২:৩০

কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর সম্ভাবনাময় জীবন মাত্র ৩৫-এ এসেই থেমে গেল। তাঁর স্ত্রী উর্মি হীরা বিবাহবার্ষিকীর এক সপ্তাহের মধ্যে স্বামীকে হারালেন। একমাত্র সন্তান অব্যয় প্রথম জন্মদিনের এক দিন আগে তার বাবাকে হারাল। বুলেটের বাবা-মা তাঁদের একমাত্র সন্তানকে হারালেন।


একটা মৃত্যু কতগুলো মানুষের জীবনে অন্তহীন শূন্যতা আর ট্র্যাজেডির উৎস হতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের নিউজফিড ভরে উঠেছে, বুলেটের শেষকৃত্যে তাঁকে শেষবারের মতো জড়িয়ে ধরে বিদায় জানানো স্ত্রী উর্মি হীরার আহাজারির ছবি, ভিডিও।


চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লার বাসায় ফেরার পথে নিখোঁজ হয়েছিলেন বুলেট বৈরাগী। ক্রিকেট ব্যাট হাতে বুলেটের ছবি দিয়ে সেই নিখোঁজ হওয়ার খবর ও সন্ধান চেয়ে তাঁর স্ত্রী ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন। অনেকে সেটা শেয়ার করেছিলেন। তাঁদের কথা ভেবেই হয়তো বুলেটের নিহত হওয়ার সংবাদও তিনি ফেসবুকে জানিয়েছিলেন। চারটি শব্দে। ‘আমার বুলেট আর নাই।’ এর চেয়ে দীর্ঘ আর ভারী শব্দের বাক্য থাকতে পারে বলে আমার জানা নেই।


র‍্যাব বুলেটের ঘাতকদের গ্রেপ্তার করেছে। সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব জানিয়েছে, বুলেট বৈরাগী চট্টগ্রাম থেকে প্রশিক্ষণ শেষে কুমিল্লার বাসায় ফিরছিলেন। গত শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে তিনি বিশ্বরোড এলাকায় আসেন। তখন গ্রেপ্তার জুয়েল তাঁর গন্তব্য জানতে চান। বুলেট বৈরাগী জাঙ্গালিয়া যাবেন জানালে সোহাগ ও হৃদয় তাঁকে অটোরিকশায় তুলে নেন। পথে ধারালো অস্ত্র দিয়ে সোহাগ, জনি ও হৃদয় বুলেট বৈরাগীকে আঘাত করেন। ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে মুঠোফোন, টাকা ও ব্যাগ ছিনিয়ে নেন। বুলেট বৈরাগীর সঙ্গে অপরাধীদের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে চলন্ত অটোরিকশা থেকে ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা বুলেট বৈরাগীকে রাস্তায় ফেলে দেন। মাথা ও মুখে গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। (‘চালক ও যাত্রীবেশে থাকা ছিনতাইকারীর হাতে বুলেট নিহত’, প্রথম আলো, ২৮ এপ্রিল ২০২৬)


মনে পড়ল আমাদের বন্ধু দন্তচিকিৎসক বুলবুলের কথা। আহমেদ মাহী বুলবুল খুন হয়েছিলেন ২০২২ সালের মার্চ মাসে। ভোরের ঢাকায় তাঁর ছুরিবিদ্ধ রক্তাক্ত দেহ পড়ে ছিল রাজধানীর কাজীপাড়ার রাস্তায়। পথচারীরা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে মিরপুর আল–হেলাল বিশেষায়িত হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তিনি চিকিৎসা পাননি। পরে পুলিশ এসে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। বাসা থেকে বের হয়েছিলেন স্ত্রী আর দুই শিশুসন্তানের কাছে বিদায় নিয়ে। চিকিৎসার পাশাপাশি ঠিকাদারি করতেন। সেই কাজেই নোয়াখালী যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেটাই তাঁর অনন্তযাত্রা হয়ে গেল। (‘সামিয়ার পর বুলবুল, আমাদের জীবনের নিরাপত্তা কে দেবে’, ৩০ মার্চ ২০২২, প্রথম আলো)


বুলবুল ছিলেন ঢাকার রাজনৈতিক মহলে পরিচিত মুখ। গরিবের চিকিৎসক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। ফলে আলোচিত এ খুনের ঘটনার তিন মাস পর সে বছরের জুন মাসে ডিবি পুলিশ চার খুনের সঙ্গে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। পুলিশ জানিয়েছিল, ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ার কারণে ছিনতাইকারীরা বুলবুলকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেছিলেন। সেই বছরের অক্টোবর মাসে পুলিশ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছিল। কিন্তু চার বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরও কি বিচার হয়নি।


বুলেট হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় র‍্যাবের ভাষ্য পড়ার সময় একটাই কথা মনে হচ্ছিল, ইশ্ বুলেট যদি ছিনতাইকারীদের বাধা না দিত, তাহলে হয়তো এভাবে মরতে হতো না। আমরা এমন এক দেশে বাস করি, যেখানে ছিনতাইকারী ধরলে জীবন বাঁচাতে নিজের সর্বস্ব দিয়ে দিতে হয়, এমন বাস্তব কাণ্ডজ্ঞান আমরা শিখে নিই। আমাদের সবার মতোই বুলেট–বুলবুলদেরও এই বাস্তব কাণ্ডজ্ঞান না থাকার কোনো কারণ নেই। কিন্তু তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি কিংবা বিপদের মুহূর্তে মাথা ঠান্ডা রেখে বাস্তব কাণ্ডজ্ঞান প্রদর্শন করাটা মোটেই সহজ নয়। এখানে বাস্তবতা জ্ঞানের প্রশ্নটা গৌণ, মূল প্রশ্নটা নিরাপত্তার। তার চেয়েও বড় প্রশ্ন হচ্ছে, দিন হোক আর রাত হোক নাগরিকের এই নিরাপত্তা দিতে সরকার ও পুলিশ আসলে কী করছে? যে নিরাপত্তা গাফিলতির জন্য বুলেটের এমন পরিণতি তাঁর পরিবারের পাশে কি সরকার দাঁড়াবে না?

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও