ঢাকা কি মৃত নগরী হতে যাচ্ছে? সংকট ও উত্তরণের পথ

বিডি নিউজ ২৪ ঢাকা মেট্রোপলিটন ওমর সাদাত প্রকাশিত: ০২ মে ২০২৬, ১১:৩০

একটি শহরকে তখনই ‘মৃত’ বলা হয় যখন সেখানে স্বাভাবিক জীবনযাপন ভেঙে পড়ে—বাতাসে শ্বাস নেওয়া কঠিন হয়, চলাচল স্থবির হয়ে যায়, পানি-নিষ্কাশন ব্যবস্থা কাজ করে না আর নাগরিক সেবাগুলো কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে। এই মানদণ্ডগুলো দিয়ে দেখলে ঢাকার বর্তমান অবস্থা উদ্বেগজনকভাবে মৃত নগরের কাছাকাছি। বর্তমানে যে প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেটি কেবলই প্রশ্ন তোলার জন্য প্রশ্ন নয়—এটি এখন আমাদের অস্তিত্বের প্রশ্ন: ঢাকা কি ধীরে ধীরে একটি মৃত নগরীতে পরিণত হচ্ছে?


এই প্রশ্নের জবাব ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) তাদের সর্বশেষ ‘গ্লোবাল লিভেবিলিটি ইনডেক্স ২০২৫’-এ প্রকাশ করেছে। এতে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক ও লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির পরেই ঢাকার অবস্থান দেখিয়েছে। দামেস্ক ও ত্রিপোলি যুদ্ধ ও সংঘাতকবলিত এলাকা। কিন্তু এরপরে ঢাকা কেন? কারণ হিসেবে ইআইইউ বলেছে ঢাকার অধিক জনসংখ্যা, যানজট ও দুর্বল পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার কথা। তালিকায় এরপরই রয়েছে পাকিস্তানের করাচি ও আলজেরিয়ার আলজিয়ার্স শহর। এই তালিকা থেকে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।


ঢাকা শুধু প্রশাসনিক রাজধানীর বাইরে বাংলাদেশের অর্থনীতি, সংস্কৃতি, শিক্ষা ও নাগরিক জীবনের কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যে বাস্তবতা পরিলক্ষিত হচ্ছে, তা গভীর উদ্বেগজনক। নগর পরিকল্পনায় ব্যর্থতা, পরিবেশগত বিপর্যয়, আইনের দুর্বল প্রয়োগ এবং নাগরিক অধিকারের অবক্ষয়—সব মিলিয়ে ঢাকার সংকট একটি ‘অচল মেগাসিটির’ কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।


এর কারণগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়...


১. বায়ুদূষণ: ঢাকার বায়ুদূষণ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এটি এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য নীরব ঘাতক হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন নাগরিকরা বিষাক্ত বাতাসে শ্বাস নিচ্ছে। শিশুদের ফুসফুস, বৃদ্ধদের জীবন—সবকিছুই ঝুঁকির মধ্যে। অথচ কার্যকর নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা স্পষ্ট।


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাতাসে ভাসমান সূক্ষ্ম ধূলিকণার পরিমাণ ২ দশমিক ৫ থেকে ৫ হলে তা মানুষের জন্য নিরাপদ। কিন্তু ঢাকায় শীতকালে এই মাত্রা প্রায়ই ৮০ থেকে ১৫০ পর্যন্ত পৌঁছে যায়—যা নিরাপদ সীমার ১০ থেকে ১৫ গুণ বেশি।


এই দূষণের প্রধান কারণ ঢাকাকে ঘিরে জালের মতো ছিটিয়ে থাকা ইটভাটা, নির্মাণকাজের ধুলা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও শিল্পবর্জ্য। বায়ুদূষণকে অনেক সময় ‘স্লো ভায়োলেন্স’ বলা হয়—কারণ এটি হঠাৎ করে কাউকে মারে না, কিন্তু ধীরে ধীরে একটি জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যকে ধ্বংস করে। ফুসফুসের রোগ, হৃদরোগ, এমনকি শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ—সবকিছুই এর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।


বিদ্যমান সংকট নিয়ে নিবন্ধের শেষাংশে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে। আপাতত বায়ুদূষণের সমাধান হিসেবে ঢাকার আশেপাশে থাকা ইটভাটার আধুনিকীকরণ, নির্মাণ সাইটে ধুলা নিয়ন্ত্রণ, পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার এবং কঠোর পরিবেশ আইন প্রয়োগের কথা বলা দরকার—এগুলো ছাড়া এই সংকট কমানো সম্ভব নয়।


২. শব্দদূষণ: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আরেকটি হিসাব বলছে, মানুষের জন্য নিরাপদ শব্দমাত্রা ৫৫ ডেসিবেল। অথচ ঢাকার অনেক এলাকায় এটি ৮৫-১০০ ডেসিবেল পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে ঢাকায় গাড়ির হর্ন ও অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণকাজ অন্যতম।


এর সমাধান হিসেবে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু শহরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া যেতে পারে। ঢাকার মতো সমস্যার মুখোমুখি হয়ে কাঠমান্ডু একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছিল—‘নো হর্ন পলিসি’।


অপ্রয়োজনীয় হর্ন নিষিদ্ধ করে এবং কঠোর ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট ও জনসচেতনতার মাধ্যমে তারা এটি সফল করেছে। টোকিওতে কোনো হর্ন নেই। বরং কেউ হর্ন দিলে তিনি অপরাধবোধ করেন, লজ্জা পান। এককথায়, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কিন্তু এটি ধারাবাহিক প্রয়োগ ছাড়া টেকসই হবে না। সেজন্য ‘নো হর্ন জোন’, তাৎক্ষণিক জরিমানা, চালক প্রশিক্ষণ, সচেতনতা প্রচার ও প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। দিল্লি পুলিশ ‘হর্ন পেনাল্টি’ চালু করেছে। সেখানে অপ্রয়োজনীয় হর্ন বাজালে সিগন্যাল পার হওয়ার সময় বেড়ে যায়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও