You have reached your daily news limit

Please log in to continue


শিশুর মননে ফোকলোরের প্রভাব

ফোকলোর বা লোকসংস্কৃতিকে মনে করা হয় জনগণের ধমনির স্পন্দন। একারণেই ফোকলোরের মধ্যে জনমানসের নানা অনুষঙ্গকে খোঁজা হয়। ১৮৪৬ সালে ব্রিটিশ লেখক উইলিয়াম জন থমস (১৮০৩-১৮৮৫) ‘Folklore’ শব্দটি সর্বপ্রথম তার লেখায় ব্যবহার করেছিলেন মূলত পুরাতন রীতিনীতি ও ধ্যানধারণাকে বোঝাতে। আদতে বিষয়টি এক নয়।

ফোকলোর হলো দলবদ্ধ মানুষের ঐতিহ্য পরম্পরায় বাহিত লোকজ্ঞান, যা মানুষ তার জন্মের সময় আপনা-আপনি পুরুষাক্রমে লাভ করে এবং নিজের অজান্তে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়। আমাদের দেশে ইংরেজি Folklore-এর বাংলা প্রতিশব্দ করা হয়েছে লোকসংস্কৃতি, কিন্তু দুটো বিষয়ের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে।

ফোকলোর হলো জনমানুষের নিজস্ব সংস্কৃতি। এর কোনো একক উদ্ভাবক নেই, সমাজের সবাই তার অংশীদার। যে জনপদই জন্মাক না কেন প্রতিটি শিশু তার স্বকীয় ফোকলোর আবহে নিজের মতন করে বেড়ে ওঠে। জাতির মানস-গঠনের ধরণ-ধারণ শত-শত বছর ধরে লোকঐতিহ্যের মধ্যে প্রবহমান রয়েছে।

বর্তমান পৃথিবীতে ফোকলোরকে নির্দিষ্ট রেখায় সীমায়িত করা যায় না। ফোকলোর একই সঙ্গে আঞ্চলিক আবার বিশ্বজনীন। আবহমানকাল থেকে বাংলার রয়েছে হাজার বছরের গর্ব করার মতন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। এর ভিত ভাষিক হলেও সংস্কৃতির ছোট ছোট নানা অনুষঙ্গ এতো গভীরে বাঙালির মনোজগতে প্রথিত আছে যে তাকে সহজে আলাদা করা যায় না।

প্রতিনিয়ত বাঙালি জীবনে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে তার বাঙালিয়ানা তথা ফোকলোরের নানান বস্তুগত ও অবস্তুগত উপকরণাদি। বিশেষত শিশুর মনগঠনে ফোকলোরের রয়েছে ব্যাপক প্রভাব। জন্মানোর পর থেকে প্রতিটি শিশু বেড়ে ওঠে লোকসংস্কৃতির আবহে। শিশুকে বাংলাদেশের নিজস্ব ফোকলোরের উপাদান-উপকরণের সঙ্গে পরিচয় করানো প্রতিটি অভিভাবকের নৈতিক দায়িত্ব, কারণ ফোকলোরকে জানার মাধ্যমে সে তার দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের প্রতি অনুরক্ত হয়ে উঠবে।

বাঙালি শিশুর মননে ফোকলোর ঠিক কতটা প্রভাব রেখে চলেছে তা জানা যাক—নানাবিধ লোকবিশ্বাস-লোকসংস্কারের সঙ্গে শিশুদের আজন্ম বসবাস। সমাজে প্রচলিত বিশ্বাস-সংস্কারের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করা তাই যে আবালবৃদ্ধবনিতা যে কারও পক্ষে কঠিন। নানা বিধি-নিষেধ মানার মধ্য দিয়ে সামাজিক ও পারিবারিক সংহতি রক্ষা পায়।

কী করলে নিজের তথা পরিবারের ইহলৌকিক মঙ্গল হবে তা বাঙালি মেয়েরা শৈশবেই নানা ব্রতের মাধ্যমে জেনে যায়। পারিবারিক সুখ ও শান্তি লাভের আশায় বাঙালি কুমারী মেয়েরা সারাবছর ধরে নানা ব্রত পালন করে। ইতু ব্রত, সুবচনী ব্রত, পুণ্যিপুকুর পুকুর, পৃথিবী ব্রত, সন্ধ্যামণি ব্রত, সুয়ো-দুয়ো ব্রত, সম্পদ ব্রত, করম ব্রত, ক্ষেত্র ব্রত, মঙ্গলচণ্ডী ব্রতসহ বিভিন্ন ব্রত পালনের মধ্য দিয়ে বাড়ির মেয়েরা তাদের পরিবারের সুরক্ষা নিশ্চিত করে।

পরিবারের প্রতি দরদ-ভালোবাসা, কর্তব্যবোধের প্রকাশ ঘটে ব্রতানুষ্ঠানের মাধ্যমে। অর্থাৎ ইহলৌকিক জীবনের সবক্ষেত্রে যাতে মঙ্গল সাধিত হয়, সেজন্য শৈশবেই বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান পালনের সঙ্গে শিশুদের পরিচয় থাকা জরুরি। যেমনটা জরুরি লোকছড়া, ধাঁধা, প্রবাদ, লোকপুরাণ, গীতিকা, লোকসংগীত, লোকনাটক, লোকক্রীড়া, লোকশিল্পজাত বিভিন্ন বিষয়ে সম্যক ধারণা থাকা। পারিবারিক শিক্ষার মাধ্যমেই শিশুরা এই ধারণা লাভ করে।

শিশুরা তাদের শৈশবকে রাঙিয়ে তোলে জল-স্থলের নানা লোকখেলার মাধ্যমে। বাংলাদেশের গ্রামীণ শিশুরা লাঠিখেলা, গোল্লাছুট, বাঘবন্দি, বউরানী, রুমাল চুরি, আগডুম বাগডুম, ইকরি-মিকরি, বৌচি, লুকোচুরি, এক্কা দোক্কা, ছিবুড়ি, হাডুডু, দাঁড়িয়াবান্ধা, ডুব ডুব ইত্যাদি বিভিন্ন লোকক্রীড়ার বা খেলাধুলার মধ্য দিয়ে নিজেদের শৈশব-কৈশোরের সুন্দর সময়গুলো নিমিষেই পাড়ি দেয়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন