ত্রিস্মৃতিবিজড়িত বুদ্ধ পূর্ণিমা ও দুঃখমুক্তির দর্শন

বিডি নিউজ ২৪ প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু প্রকাশিত: ০১ মে ২০২৬, ১১:৪৯

কোন এক চক্রবর্তী রাজার একমাত্র ছেলে রাজপুত্র সিদ্ধার্থ সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি রাজ্য-রাজত্ব সবকিছুই ত্যাগ করবেন। কারণ তিনি খুব কাছ থেকে জরা, ব্যাধি ও মৃত্যুর স্বরূপ দেখেছেন। এই দৃশ্যগুলো তাকে প্রতি মুহূর্তে তাড়িয়ে বেড়াত। এত সুন্দর মানুষ, রূপবান মানুষ কী করে এভাবে কুঁকড়ে যেতে পারে! কী করে একটা জীবন একটি লাঠির ওপর নির্ভরশীল হয়ে যেতে পারে! একজন মানুষ, যার সঙ্গে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর ধরে হেঁটেছি, খেয়েছি, বসবাস করেছি, গল্প করেছি—একদিন সে নাই হয়ে যাবে! কেন? এমন কেন হয়? এ জীবন এতটা ক্ষণিক কেন? এতটা অনিশ্চিত কেন? এর কারণ কী? এর থেকে মুক্তির উপায় কী? এর সমাধান কোথায় পাওয়া যাবে? এমন হাজারো প্রশ্ন নিজেকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।


অন্য একদিন এক সন্ন্যাসীর দেখা মিলল। তিনি কে? কী তার লক্ষ্য? এই জীবনের উদ্দেশ্যই বা কী? জানতে পারলেন তিনি সংসারত্যাগী। তিনি সবকিছু ত্যাগ করেছেন ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের আশায়। ঈশ্বর! ঈশ্বর কে? তিনি এই জগৎ-সংসারের সৃষ্টিকর্তা। সবকিছু তিনিই সৃষ্টি করেছেন। এই যে মানুষ জরায় কষ্ট পাচ্ছে, ব্যাধিতে কষ্ট পাচ্ছে, যন্ত্রণা পাচ্ছে—ঈশ্বর কি এসব দেখছেন না? ঈশ্বর কি তাদের বেদনার আর্তনাদ শুনছেন না? তিনি কেমন ঈশ্বর! সবকিছুর মূলে রয়েছেন কোন এক অজানা, অচেনা, নিরাকার ঈশ্বর। তিনি এই কথা গ্রহণ করতে পারলেন না। হ্যাঁ, তবে ওই সন্ন্যাসীর ত্যাগের পথটা রাজপুত্রের মনে ধরল। এইটা বুঝি সমস্যার সমাধানের পথ হতে পারে। জরা, ব্যাধি, মৃত্যু ও সন্ন্যাসী—এসব দৃশ্যের (নিমিত্ত) সঙ্গে জীবনে তার প্রথমবার দেখা হয়েছিল। নগর ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিতে গিয়েই এমন অভিজ্ঞতার স্বাদ পেয়েছিলেন। কোনো রাজপিতা কি তার রাজ্য আর রাজত্বের একমাত্র উত্তরাধিকার পুত্রসন্তানকে সংসার পরিত্যাগের অনুমতি দেবেন? কোনো পিতাই দেবেন না। রাজা শুদ্ধোধনও তার একমাত্র পুত্রসন্তানকে সংসারত্যাগের অনুমতি দেননি। কিন্তু রাজনন্দন তো সংসার ত্যাগ করার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে নিয়েছেন। আষাঢ়ী পূর্ণিমার রাতে তিনি নিজের পথ নিজে বেছে নিলেন। রাজমহলের বাইরে যে কোমল পা কোনোদিন পড়েনি, সেই পা চলল বনের ধুলোবালি কণা মাড়িয়ে। রাজসিংহাসনের পরিবর্তে তিনি বেছে নিলেন কুশের আসন।


দীর্ঘ ছয় বছর কৃচ্ছ্রসাধনা করলেন, কিন্তু সাধনায় সিদ্ধিলাভ করতে পারলেন না। তারপর তিনি মধ্যমপন্থা অবলম্বন করলেন। তাতেই খুলে গেল দুঃখমুক্তির পথ। তিনি পেয়ে গেলেন সেই সত্যের সন্ধান, যার জন্য তিনি রাজ্য-রাজত্ব সবকিছু ছেড়েছিলেন। তিনি জগতে রাজপুত্র সিদ্ধার্থ থেকে তথাগত গৌতম বুদ্ধ নামে খ্যাত হলেন। সেদিন ছিল শুভ বৈশাখী পূর্ণিমা তিথি। যেদিন রাজনন্দন সিদ্ধার্থের আবির্ভাব হয়, সেদিনও ছিল বৈশাখী পূর্ণিমা তিথি।


তিনি কি কেবল নিজের কথা ভেবে এতটা ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন? সম্যক সম্বুদ্ধগণের ধর্মতা অনুসারে, সম্যক সম্বুদ্ধত্ব লাভের পারমী যিনি পূরণ করেন, তিনি সকল সত্ত্বগণের দুঃখমুক্তির কথা ভেবেই পারমী পূরণ করেন। তাই বোধিজ্ঞান লাভের পর জীব ও জগতের কল্যাণে তথাগত বুদ্ধ ধর্ম প্রচার করবেন—এটাই অনিবার্য নীতি। গৌতম বুদ্ধও তার ধর্মযাত্রা শুরু করলেন। তিনি বললেন, সকল দুঃখের মূল কারণ হলো তৃষ্ণা—কাম তৃষ্ণা, ভব তৃষ্ণা ও বিভব তৃষ্ণা। মনের যাবতীয় ভোগবাসনাই হলো কাম তৃষ্ণা। এক লোকভূমি হতে আরেক লোকভূমিতে বারবার উৎপত্তির বাসনাই হলো ভব তৃষ্ণা। আর উচ্ছেদ দৃষ্টি হলো বিভব তৃষ্ণা। অর্থাৎ কর্মফলের প্রতি অবিশ্বাস, পাপ-পুণ্যের প্রতি অবিশ্বাস, জন্ম কিংবা মৃত্যু একবারই হয়ে থাকে—তাই খাও-দাও ফূর্তি করো—এমন ধারণা পোষণ করা। তৃষ্ণা সমূলে উৎপাটন করা না গেলে দুঃখকেও জয় করা সম্ভব নয়। কোন দুঃখ? জন্ম দুঃখ, জরা দুঃখ, ব্যাধি দুঃখ, মরণ দুঃখ, প্রিয় বিচ্ছেদজনিত দুঃখ, অপ্রিয় সংযোগজনিত দুঃখ, ঈপ্সিত বস্তু অলাভজনিত দুঃখ, পঞ্চ স্কন্ধ (রূপ, বেদনা, সংজ্ঞা, সংস্কার ও বিজ্ঞান) হতে উৎপন্ন দুঃখ।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও