মহান মে দিবস : শ্রমজীবী মানুষের আস্থায় বিএনপি

কালের কণ্ঠ মো. মোর্শেদ হাসান খান প্রকাশিত: ০১ মে ২০২৬, ১১:৪৭

বিএনপিকে বলা হয় গণমানুষের দল। এই গণমানুষের মধ্যে বেশির ভাগই শ্রমিক শ্রেণি। খুব সম্ভবত বিএনপিই একমাত্র রাজনৈতিক দল, যার প্রতিষ্ঠাতা একজন উর্দি পরা জেনারেল হওয়া সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ দলটিকে খুব অল্প সময়ের মধ্যে তাদের রাজনৈতিক মুক্তি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির আশ্রয়স্থল হিসেবে গ্রহণ করে। যাত্রা শুরুর পর থেকেই বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যেসব উদ্যোগ, কর্মসূচি নিয়েছেন তার সবই ছিল গণমুখী।

সমাজের অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া মানুষকে সামনে এগিয়ে নিতে তাঁর প্রাণান্ত প্রচেষ্টা ছিল। তাঁর অল্প সময়ের শাসনামলে শ্রমিক কল্যাণে যেসব কর্মসূচি নেওয়া হয়, তা ছিল সত্যি অভাবনীয়।


আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে ১৯৮০ সালে ঢাকায় বিশাল পরিসরে শ্রমিক সমাবেশের আয়োজন করা হয়, যে সমাবেশে রাষ্ট্রপতি জিয়া নিজেকে একজন শ্রমিক হিসেবে ঘোষণা করেন। সামরিক ব্যারাকে দেশের সেবায় নিয়োজিত একজন সৈনিক দেশের প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি হলেও তিনি মূলত মানুষের সেবক—এ কথা তিনি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করতেন।

ওই সমাবেশে তাঁর ভাষণ শ্রমিকদের নতুন করে উজ্জীবিত করেছিল দেশপ্রেমে। তাঁরা বুঝতে পারেন শ্রমিক কোনো অবহেলিত জনগোষ্ঠী নন, বরং তাঁরা দেশ গড়ার আসল অংশীজন। তাঁদের শ্রমে-ঘামেই একটি দেশ এগিয়ে যায়। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠন এই শ্রমিকের অংশগ্রহণ ছাড়া সম্ভব নয়।

শ্রমিক সমাবেশে দেওয়া শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাষণের মূল সুর ছিল উৎপাদন বৃদ্ধি, কঠোর পরিশ্রম এবং জাতীয়তাবাদ। তিনি শ্রমিকদের ‘উৎপাদনমুখী’ হওয়ার এবং দেশের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার জন্য কাজ করার আহবান জানিয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান বিশ্বাস করতেন কর্মে। ন্যায্যতাভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় প্রত্যেক শ্রেণি-পেশার মানুষের অবদানকে তিনি যথাযথ সম্মানের সঙ্গে দেখতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে দেশের মোট জনসংখ্যার বেশির ভাগ শ্রমিক।

তাঁদের পিছিয়ে রেখে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন কেবল স্বপ্নই। বাস্তবে কখনোই সম্ভব নয়। সে কারণে তিনি তাঁদের উৎপাদনমুখী রাজনীতি ও অর্থনীতিতে একীভূত করেছিলেন। তিনি উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিতেন। তিনি শ্রমিকদের বলতেন, ‘খাল কেটে পানি আনো, উৎপাদন বাড়াও।’ তিনি বাংলাদেশকে একটি ‘কর্মমুখর জাতি’ হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন এবং শ্রমিকদের অলসতা পরিহার করে উৎপাদনশীল কাজে মনোনিবেশ করতে উৎসাহিত করতেন। তাঁর কাছে কাজই হলো স্বনির্ভরতার চাবিকাঠি। আর স্বনির্ভর কোনো জাতি কারো গোলামি পছন্দ করে না। তাদের ভেতর দেশপ্রেমের তেজ থাকে। তারা হয় স্বাধীনচেতা।


রাষ্ট্রপতি জিয়া খুব ভালো করেই জানতেন শ্রমিক হলেন মালিক শ্রেণির উন্নয়ন সহযোগী। এই দুইয়ের মধ্যে বৈরী সম্পর্ক কখনোই ভালো ফল দেবে না। তাই তিনি শ্রমিক ও মালিকের মধ্যে সুসম্পর্ক এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে শিল্পক্ষেত্রে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার পক্ষে ছিলেন। কলকারখানায় শ্রমিকবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের পাশাপাশি তিনি মালিকপক্ষের জন্য ব্যবসার অনুকূল পরিবেশও বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাঁর দীর্ঘ ভাষণে শ্রমিকদের জন্য বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাঁদের ভেতরে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন বোঝানোর চেষ্টা ছিল। কেননা তিনি মনে করতেন, শ্রমিকদের ভেতর যদি সত্যিকারের দেশপ্রেম না থাকে, তাহলে দেশের উন্নয়ন-উৎপাদন কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছবে না।


একইভাবে তিনি ওই বছরের ২৬ আগস্ট জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একটি ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন। সেখানেও তিনি উন্নয়নশীল বিশ্বের অর্থনৈতিক মুক্তি, সম্পদের সুষম বণ্টন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর জোর দেন। তাঁর এই সময়কার ভাষণগুলো মূলত দেশের উন্নয়ন, উৎপাদন এবং শ্রমিকদের অধিকার ও দায়িত্বের ওপর আলোকপাত করত। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, তাঁদের অবস্থার উন্নতি এবং শ্রমিক-মালিকের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। 


রাষ্ট্রপতি জিয়ার শাহাদাতের পর বিএনপি দুটি পূর্ণ মেয়াদে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব লাভ করে। এই সময় তাঁর সহধর্মিণী খালেদা জিয়া দেশের হাল ধরেন। শ্রমিক সুরক্ষায় তাঁর আমলে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত আসে। শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কল্যাণ নিশ্চিত করতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে ২০০৬ সালে সমন্বিত ‘বাংলাদেশ লেবার কোড’ প্রণয়ন, শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন গঠন, পোশাকশিল্পে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালীকরণ ছিল অন্যতম। এ ছাড়া শিল্প খাতের উৎপাদন বৃদ্ধিতে জোর দেওয়ার পাশাপাশি নারী শ্রমিকদের ক্ষমতায়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেয় খালেদা জিয়ার সরকার। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় মেয়েদের জন্য উপবৃত্তি ও শিক্ষার সুযোগ তৈরির মাধ্যমে নারী শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির ভিত্তি স্থাপন ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে যুগান্তকারী ঘটনা। বর্তমান বাংলাদেশে নারীদের যে অগ্রগতি, তার ভিত তখনই গঠিত হয়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও