স্কুলে-মাদ্রাসায় বেত্রাঘাতসহ নানা শাস্তি, শিশুরা ভয়মুক্ত হবে কবে
জোরে শব্দ শুনলে কেঁপে ওঠে চার বছরের শিশুটি। স্কুল নিয়ে তার ছোট্ট মুখে এখন একটাই কথা—‘স্কুল পচা, স্কুলে আর যাব না।’ শাস্তি কী, তা জানে না শিশুটি; তবে এটা জানে, স্কুল মানে ভয়, স্কুল মানে আঘাত। স্কুল নামের যে আনন্দালয়ে নতুন বইয়ের গন্ধে, বন্ধুদের কোলাহলে মেতে থাকার কথা ছিল তার, সেই বয়সেই তার মনে স্কুল নিয়ে গেঁথে গেছে ভয়।
এ বছরের ১৮ জানুয়ারি রাজধানীর নয়াপল্টন এলাকার মসজিদ রোডে শারমিন একাডেমি নামের একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে শারীরিক শাস্তির শিকার হয় শিশুটি। তারপর আর স্কুলে ফেরানো যায়নি তাকে। সাড়ে তিন মাস পরও সে এখন সহজ শব্দে কেঁপে ওঠে, খাওয়াদাওয়া কমে গেছে, জানিয়েছে শিশুটির পরিবার।
শুধু এই শিশু নয়, দেশের নানা প্রান্তে স্কুল ও মাদ্রাসায় শারীরিক শাস্তির শিকার হয়ে হাজারো শিশু নীরবে বয়ে বেড়াচ্ছে এমনই অদৃশ্য ক্ষত; যার দাগ শরীরে যতটা, তার চেয়ে অনেক বেশি মনে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের এমন শাস্তির একাধিক ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে—কোথাও বেত্রাঘাত, কোথাও কান ধরিয়ে ওঠবস, আবার কোথাও পানিতে চুবিয়ে শাস্তির দৃশ্য। গত ২৫ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে শিশুদের কান ধরিয়ে ওঠবস করানোর ভিডিও ভাইরাল হলে সমালোচনায় পড়েন ডাকসু সদস্য সর্বমিত্র চাকমা; পরে কর্তৃপক্ষ তাকে সতর্ক করে দেয়।
বিশ্বজুড়ে শিশুদের ওপর যেকোনো ধরনের শাস্তি বন্ধে আইন প্রণয়ন ও প্রচারণা চললেও বাস্তবে তা বন্ধ করা যায়নি। এমন বাস্তবতার মধ্যেই আজ ৩০ এপ্রিল পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক শিশু শাস্তি বিলোপ দিবস। ‘এন্ড ভায়োলেন্স পার্টনারশিপ’ শিরোনামের এক উদ্যোগে দিবসটি পালন শুরু হয়, ২০২৩ সালে এতে যুক্ত হয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।