খাল পুনঃখনন: পরিবেশ ও অর্থনীতির টেকসই ভবিষ্যতের চাবিকাঠি

জাগো নিউজ ২৪ ড. মো. ফখরুল ইসলাম প্রকাশিত: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০২

অষ্টম শ্রেণিতে পড়াকালীন আমি স্কুলের স্যার এবং সহপাঠীদের সাথে তিস্তা বড় মসজিদ থেকে মোস্তফীরহাট পর্যন্ত খাল খনন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলাম। তখন সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী স্বেচ্ছাশ্রমে সেই স্বতঃস্ফূর্ত কর্মসূচি পরিচালিত হয়েছিল। আমাদের লোহাখুঁচি উচ্চবিদ্যালয় থেকে মহেন্দ্রনগরে লোকাল ট্রেন ধরে মাত্র একটি রেলস্টেশন পরেই তিস্তা জংশন। সেখান থেকে দেড় কিলোমিটার রাস্তা পায়ে হেঁটে প্রায় একশত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারী কোদাল-টুকরি হাতে নিয়ে মাটি কাটার কাজে অংশ নিয়েছিলাম। আর-কে রোডের পাশ দিয়ে তৈরি সেই খালটিতে পরবর্তী বছরগুলোতে পানিপ্রবাহ ছিল। এখন সেটি খালের অস্তিত্ব হারিয়ে লোভী মানুষের দখলে চলে গেছে। এলাকার পরিবেশ রক্ষায় এখন সেটি উদ্ধার করা জরুরি মনে করি।


তখনকার দিনে খাল খনন করা বিষয়টি শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প ছিল না। সেটি ছিল একটি স্বপ্ন, ছিল এলাকার মানুষের সম্মিলিত প্রয়াস। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করা, মাটির গন্ধে ভরা দিনগুলো আজও স্মৃতিতে অমলিন। সেই খাল আজ ভরাট, প্রাকৃতিক প্রবাহ বন্ধ, স্মৃতি মুছে যাওয়ার উপক্রম। যে খাল একসময় জীবন, জীবিকা ও পরিবেশের অবলম্বন ছিল, তা কি এখন আবার জাগিয়ে তোলা উচিত? সেচ এবং দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের বাস্তবতা বলছে—অবশ্যই উচিত।


বাংলার ভূপ্রকৃতি, নদীনির্ভর জীবনযাপন এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির সঙ্গে খাল-বিলের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। একসময় গ্রামবাংলার যোগাযোগ, সেচব্যবস্থা, মৎস্যসম্পদ এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণের প্রধান অবলম্বন ছিল প্রাকৃতিক ও খননকৃত খাল। কিন্তু সময়ের প্রবাহে অব্যবস্থাপনা, দখলদারিত্ব, ভরাট ও দূষণের কারণে এসব খাল আজ অনেকাংশেই মৃতপ্রায়। ফলে জলাবদ্ধতা, আকস্মিক বন্যা, খরা ও পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা প্রকট হয়ে উঠেছে। এ বাস্তবতায় খাল পুনঃখননকে শুধু উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বললে ভুল হবে; এটি আমাদের কৃষি ও পরিবেশের সঙ্গে মানানসই একটি টেকসই আর্থ-সামাজিক ভবিষ্যতের পূর্বশর্ত। খালগুলো পুনঃখননের জন্য নানামুখী অপরিহার্য বিষয় তুলে ধরা যেতে পারে।


প্রথমত: খাল পুনঃখনন দেশের নানা জায়গায় জলাবদ্ধতা নিরসণ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশের মতো নদীবহুল ও নিম্নভূমির দেশে বর্ষাকালে অতিবৃষ্টি একটি স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু প্রাকৃতিক জলপ্রবাহের পথ রুদ্ধ হয়ে গেলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশিত হতে পারে না। ফলাফল—শহর ও গ্রামে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা। রাজধানীসহ বিভিন্ন মহানগরে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাঘাট ডুবে যায়। খালগুলো যদি দখলমুক্ত ও পুনঃখনন করা হয়, তবে অতিরিক্ত পানি দ্রুত নদী বা জলাধারে নেমে যেতে পারবে। এতে নগরজীবন যেমন স্বস্তি পাবে, তেমনি কৃষিজমিও রক্ষা পাবে।


বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে খাল ও জলপথের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকলে জলোচ্ছ্বাস ও অতিবৃষ্টির ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। অতীতে প্রাকৃতিক খালগুলোই ছিল অতিরিক্ত পানির নিরাপদ বহিঃপ্রবাহের মাধ্যম। আজ সেই প্রাকৃতিক ব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করা জরুরি।


দ্বিতীয়ত: কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও সেচব্যবস্থার উন্নয়নে খাল পুনঃখনন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশের অর্থনীতি এখনও উল্লেখযোগ্যভাবে কৃষিনির্ভর। শুষ্ক মৌসুমে সেচের জন্য ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি হয়েছে। ফলে পানির স্তর ক্রমেই নিচে নেমে যাচ্ছে। খাল পুনঃখনন করলে বর্ষার পানি সংরক্ষণ করে তা শুষ্ক মৌসুমে সেচের কাজে ব্যবহার করা যায়। এতে একদিকে কৃষি উৎপাদন বাড়বে, অন্যদিকে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও