সময় এসেছে ছেলেশিশুর যৌন নিরাপত্তা নিয়ে ভাবার

জাগো নিউজ ২৪ শাহানা হুদা রঞ্জনা প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:৪৫

ছেলেশিশু বা একজন পুরুষ যে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির শিকার হতে পারে, একথা সমাজের বহু মানুষ এখনো মানতে চান না। অথবা জেনেও অস্বীকার করেন বা গোপন করেন। কিন্তু তারা কেন ভয়াবহ এই অপরাধকে গোপন করতে চাইছেন? কারণ মূলত দুটি: এক, তারা বিশ্বাস করেন যৌন অপরাধ শুধু নারীর সাথেই ঘটে, আর দুই সামাজিক লজ্জা।


নিজ গৃহে, স্কুলে, মাদ্রাসায়, হোস্টেলে কিংবা প্রতিবেশীর দ্বারা ছেলেশিশুরা যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে। কিন্তু এই বিষয়টিকে লজ্জাজনক মনে করায় ভিক্টিমের পরিবার হয় বিষয়টি অস্বীকার করে, নয়তো লুকিয়ে রাখে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে কেবল ২০২৪ সালেই ছেলে শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৩৬টি, তবে মামলা হয়েছে ২৪টি। আর ধর্ষণচেষ্টা হয়েছে তিনটি।


ইউনিসেফ বলছে, সারা বিশ্বে হিসেব করলে এই সংখ্যা ২৪ থেকে ৩১ কোটি, অর্থাৎ প্রতি ১১ জনে একটি ছেলে শিশু শৈশবে ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। (বিবিসি বাংলা)


শিশুর প্রতি যৌন নিপীড়ন সম্পর্কে সমাজে কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে এবং অধিকাংশ অভিভাবক সেই ভুল ধারণার ওপর ভিত্তি করেই শিশুর উপর যৌন হয়রানির বিষয়টিকে বিচার করেন। বাংলাদেশে প্রতি চার জন মেয়েশিশুর মধ্যে একজন যৌন নিপীড়নের শিকার হয়, তেমনি প্রতি ছয় জন ছেলেশিশুর মধ্যে একজন যৌন নিপীড়নের শিকার হয়।


কীভাবে, কার দ্বারা শিশুরা যৌন হয়রানির শিকার হয়? শুধু পুরুষ নয়, শিশুরা কখনো কখনো নারীর দ্বারাও যৌন হয়রানির শিকার হয়। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন পুরুষ বা নারীর যৌন ক্ষুধার শিকার হয় ছেলে শিশুরা। তারা। এছাড়াও সমকামী ও বিকৃত রুচির মানুষেরাও ছেলে শিশুদের উপর যৌন নিপীড়ন চালাতে পারে বা চালায়।


একটি পরিবারের কথা বলছি যেখানে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই চাকুরিজীবী ছিলেন। তাদের ছেলের যখন ৫ বছর বয়স, তখন বাসায় যে নারী গৃহকর্মীর কাছে শিশুটি থাকতো, সে নিয়মিতভাবে শিশুটিকে যৌন নিপীড়ন করতো। শিশুটি অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করলে ও ওই গৃহকর্মীকে ভয় পেতে শুরু করলে, বাবা-মা তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে বিষয়টি সম্পর্কে বুঝতে পারেন। এই ঘটনা তাদের ওপর এতটাই প্রভাব ফেলেছিল যে সেই মা শেষ পর্যন্ত চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন।


শিশুর প্রতি যৌন অপরাধ হলে মুখ খুলতেই হবে, ট্যাবু ভাঙতেই হবে। অধিকাংশ শিশু হয়তো এই বিষয়টি ঠিকমতো বুঝেই না। আর সেই সুযোগেই অপরাধী ব্যক্তি শিশুকে ধর্ষণ, অজাচার (ইনসেস্ট), ওরাল সেক্স, পর্নোগ্রাফি, যৌনাঙ্গে বা মলদ্বারে কোনো কিছু প্রবেশ করানো, শিশুকে নগ্ন ছবি প্রদর্শন অথবা ছবি তোলার মতো কাজগুলো করে বা করিয়ে নেয়। এগুলো সবই যৌন হয়রানি। অসংখ্য মেয়ে ও ছেলেশিশু প্রতিদিন যৌন নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। এ বিষয়ে কথা বলতে মানুষ এখনও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ এরকম ঘটনা যে ঘটে তা অনেকেই স্বীকার করতে চান না, এড়িয়ে যান।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও