You have reached your daily news limit

Please log in to continue


মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সমীকরণ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বর্তমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে শান্তি বলে মনে করা উচিত নয়। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত এখন এক অনিশ্চিত ও জটিল পর্যায়ে পৌঁছেছে; যুদ্ধ, যুদ্ধবিরতি এবং শান্তি আলোচনা-সবকিছুই একসঙ্গে চললেও পরিস্থিতি কোনো সুস্পষ্ট সমাধানের দিকে এগোচ্ছে না। প্রাথমিকভাবে যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, সেটি মূলত উত্তেজনা কমিয়ে আলোচনার পথ তৈরি করার উদ্দেশ্যে গৃহীত হয়। কিন্তু সেই বিরতি একটি সুসংগঠিত শান্তি প্রক্রিয়ায় রূপ নিতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয়-তারা সরাসরি সংঘাত এড়াতে চাইলেও কৌশলগত চাপ ধরে রাখতে আগ্রহী। অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে এ পদক্ষেপকে পুরোপুরি সমর্থনের কোনো স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যায়নি।

এ প্রেক্ষাপটে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও স্থবির হয়ে পড়েছে। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা; কিন্তু উভয় পক্ষের কঠোর অবস্থানের কারণে তা আর হয়নি। ইরান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং সামুদ্রিক অবরোধ শিথিল করার দাবি জানিয়ে আসছে, যা তারা আলোচনার পূর্বশর্ত হিসাবে বিবেচনা করে। বিপরীতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ এবং আঞ্চলিক কার্যক্রম সীমিত করার দাবি থেকে সরে আসেনি যুক্তরাষ্ট্র। এ অচলাবস্থা মূলত গভীর পারস্পরিক অবিশ্বাসের প্রতিফলন। ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে চাপ সৃষ্টি করে একটি কঠোর চুক্তি আদায় করা সম্ভব, আর তেহরান মতে চাপের মধ্যে আলোচনায় বসা মানে আত্মসমর্পণ। ফলে যুদ্ধবিরতিও এখন একধরনের কৌশলগত অবস্থান-শান্তির সেতু নয়, বরং নতুন করে শক্তি সঞ্চয়ের একটি বিরতি। এদিকে মাঠপর্যায়ে উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি অঞ্চলে নৌচলাচল নিয়ে উত্তেজনা, জাহাজ জব্দ এবং সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধিতে মনে হচ্ছে, পরিস্থিতি খুব দ্রুত আবারও সংঘাতে রূপ নিতে পারে। অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি কার্যত নামমাত্র রয়েছে; সংঘাত তার ভিন্নরূপে চলমান।

ইসলামাবাদের আলোচনা ব্যর্থ হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে। পূর্ববর্তী বৈঠকগুলোয় দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা হলেও মূল বিষয়গুলো, বিশেষ করে সামুদ্রিক প্রবেশাধিকার ও পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে সমঝোতা হয়নি। এ অবস্থায় সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো এর বৈশ্বিক প্রভাব। এ সংঘাত ইতোমধ্যে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে দুর্বল করেছে এবং একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে। এর প্রভাব শুধু এ অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ওপরও এর গভীর প্রভাব পড়তে পারে।

এ প্রেক্ষাপটে উভয় পক্ষের জন্য সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো সংযম ও বাস্তববাদ। কঠোর অবস্থান এবং একতরফা সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্থায়ী শান্তি অর্জন সম্ভব নয়। এখন দরকার পারস্পরিক বোঝাপড়া, আপসের মানসিকতা এবং আন্তরিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা। মানবতার স্বার্থে এবং বিশ্বের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত জরুরি হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়েরই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা। একটি টেকসই শান্তি কেবল তখনই সম্ভব, যখন উভয় পক্ষ ধৈর্য, সংলাপ এবং বাস্তবতার ভিত্তিতে এগিয়ে যাবে। বিশ্বের দৃষ্টি এখন তাদের দিকে এবং এ সংকটের ব্যর্থতা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। এ ভঙ্গুর প্রেক্ষাপটে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের ভূমিকা তাৎক্ষণিক সংঘর্ষ বিরতির চেয়েও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামাবাদ এ সংঘাতের সমাধান করেনি; বরং একটি সংকটময় মুহূর্তে কূটনৈতিক পরিসর তৈরি করেছে। রাজধানীতে পরবর্তী আলোচনা আয়োজন এবং প্রধান সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে পাকিস্তান আবারও প্রমাণ করেছে, সংকট মোকাবিলায় ভৌগোলিক অবস্থান, কূটনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা এবং ঐতিহাসিক আস্থার সম্পর্ক কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তবুও যুদ্ধবিরতি এখনো বিতর্কিত। এটি লেবাননের মতো প্রক্সি সংঘাতের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য কি না এবং সমুদ্রপথ ব্যবহারের শর্ত নিয়ে মতবিরোধ রয়ে গেছে। এসব পার্থক্য দেখায়, এটি কোনো চূড়ান্ত সমাধান নয়; বরং অনিষ্পন্ন সংঘাতের ওপর ঝুলে থাকা একটি ভঙ্গুর কাঠামো।

এ সংঘাতের পর যে বাস্তবতা তৈরি হবে, তা যুদ্ধপূর্ব মধ্যপ্রাচ্যের মতো হবে না। এমনকি যুদ্ধ থেমে গেলেও অঞ্চলটি আরও সামরিকীকৃত, আন্তঃসংযুক্ত এবং সংকটপ্রবণ ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে। ইতোমধ্যেই কয়েকটি কাঠামোগত পরিবর্তন স্পষ্ট। প্রথমত, আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য নতুনভাবে নির্ধারিত হচ্ছে। উপসাগরীয় নিরাপত্তা কাঠামো, ইরানের পারমাণবিক অগ্রগতি, ইসরাইলের সামরিক স্বাধীনতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির মাত্রা-সবকিছুই পুনর্বিবেচনার মধ্যে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এখনো অপরিহার্য সামরিক শক্তি হিসাবে থাকবে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে হাজার হাজার সেনা মোতায়েন রাখবে, কিন্তু এককভাবে সব সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করার ক্ষমতা কমে গেছে। আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলো এখন নিজেদের কৌশলগত স্বাধীনতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে, যদিও তারা এখনো যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ওপর নির্ভরশীল। দ্বিতীয়ত, সংঘাতের প্রকৃতি বদলে গেছে। প্রচলিত রাষ্ট্রভিত্তিক যুদ্ধ এখন প্রক্সি যুদ্ধ, সমুদ্রপথে বিঘ্ন সৃষ্টি, সাইবার হামলা এবং অর্থনৈতিক চাপের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক সংকটে জাহাজ চলাচলে হামলা, জ্বালানি অবকাঠামোর হুমকি এবং বিভিন্ন অঞ্চলে মিলিশিয়া কার্যক্রম বাড়তে দেখা গেছে। এ বহুমাত্রিক প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করে যে স্থানীয় সংঘর্ষও আন্তর্জাতিক প্রভাব ফেলতে পারে। তৃতীয়ত, অর্থনৈতিক ঝুঁকি বেড়েছে। গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি)-এর অর্থনীতি অবিচ্ছিন্ন জ্বালানি রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল। হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন ঘটলে প্রতিদিন ১৭-২০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বৈশ্বিক বাজার থেকে হারিয়ে যেতে পারে, যা বিশ্বজুড়ে মূল্যবৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন সৃষ্টি করবে। ফলে উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য আঞ্চলিক অস্থিরতা কেবল রাজনৈতিক নয়, একটি অস্তিত্বগত অর্থনৈতিক হুমকি।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন