লোডশেডিংয়ের বৈষম্য: গ্রাম ও শহরের মাঝখানে আঁধার কতটুকু?

জাগো নিউজ ২৪ ড. হারুন রশীদ প্রকাশিত: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪২

সখীপুর থেকে এক অনুজপ্রতীম সংবাদকর্মী ফোন করে জানালো তার এলাকার করুণ চিত্র। গত ২৩ এপ্রিল থেকে টানা ২৪ ঘণ্টা পুরো উপজেলা বিদ্যুৎবিহীন। তবে এই সমস্যা কেবল এক দিনের নয়; প্রতিদিনের চিত্রও প্রায় একই। দিনরাত মিলিয়ে বিদ্যুৎ থাকে মাত্র ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে মানুষ এখন বলে না 'বিদ্যুৎ গেল', বরং 'কখন আসে'—সেটিই এখন আলোচনার মূল বিষয়।


সত্যি বলতে কী বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং টিকে থাকার প্রধান অনুষঙ্গ। গত এক দশকে বিদ্যুৎ খাতের ব্যাপক সম্প্রসারণ আমাদের চোখে রঙিন স্বপ্ন এঁকে দিয়েছিল। ঘরে ঘরে বিজলি বাতি পৌঁছে যাওয়ার খবরটি ছিল এক বিরাট স্বস্তির নাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সেই স্বপ্নের ওপর এখন লোডশেডিংয়ের ঘন কালো ছায়া। বিশেষ করে গত দুই বছরে বিদ্যুৎ সংকটের যে ভয়াবহতা আমরা প্রত্যক্ষ করছি, তা আমাদের উন্নয়ন ও জীবনযাত্রাকে এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। এই সংকটের সবচেয়ে নিষ্ঠুর দিকটি হলো ‘বৈষম্য’—শহর ও গ্রামের মধ্যকার প্রকট ব্যবধান।


সংকটের পরিসংখ্যান ও বাস্তবতার রূপরেখা-


পাওয়ার সেলের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৩০ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি (আমদানিকৃত বিদ্যুৎসহ)। কিন্তু খাতা-কলমের এই বিশাল সক্ষমতা রূঢ় বাস্তবতার কাছে পরাজিত। বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের পিক-আওয়ার চাহিদা প্রায় ১৬,৫০০ থেকে ১৭,৫০০ মেগাওয়াট। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন হচ্ছে ১৩,০০০ থেকে ১৪,০০০ মেগাওয়াটের আশেপাশে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ মেগাওয়াটের ঘাটতি থাকছে।


এই পরিসংখ্যানটিকে যদি একটি লেখচিত্র বা গ্রাফের মাধ্যমে কল্পনা করি, তবে দেখা যাবে যে গত পাঁচ বছরে আমাদের ‘ইনস্টলড ক্যাপাসিটি’ বা উৎপাদন সক্ষমতার রেখাটি খাড়া ওপরের দিকে উঠলেও ‘একচুয়াল প্রোডাকশন’ বা প্রকৃত উৎপাদনের রেখাটি অনেক নিচে পড়ে আছে। সক্ষমতা ও উৎপাদনের এই যে বিস্তর ফারাক, একেই বিশেষজ্ঞরা বিদ্যুৎ খাতের ‘মরণফাঁদ’ হিসেবে অভিহিত করছেন। এর মূল কারণ হলো জ্বালানি সংকট এবং অলস বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য গুনতে থাকা বিশাল অংকের ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’।


শহর ও গ্রামের আলোক-আঁধারি বৈষম্য-


বিদ্যুৎ বিতরণের ক্ষেত্রে গ্রাম ও শহরের পার্থক্য এখন এক অমানবিক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো বড় শহরগুলোতে সরকার চেষ্টা করে লোডশেডিং নিয়ন্ত্রিত রাখতে। ডেসকো বা ডিপিডিসি এলাকায় দিনে হয়তো ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। কিন্তু গ্রামাঞ্চলে, যেখানে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (আরইবি) বিদ্যুৎ সরবরাহ করে, সেখানে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন।


চলতি বছরের গরমে গ্রামাঞ্চলের অনেক জায়গায় দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং হয়েছে। যখন তাপমাত্রার পারদ ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যায়, তখন শহরের মানুষ এসি বা আইপিএস-এর নিচে কিছুটা স্বস্তি পেলেও গ্রামের সাধারণ মানুষ, শিশু ও বৃদ্ধরা গরমে ছটফট করেন। এই বৈষম্যের একটি ভয়াবহ দিক হলো উৎপাদনশীল খাতে এর প্রভাব। একটি তুলনামূলক কেস স্টাডি করলে বিষয়টি পরিষ্কার হয়:


• শহরের কেস স্টাডি: ঢাকার মিরপুরের একটি মেস বা ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা হয়তো ২ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কারণে তাদের পড়াশোনা বা ফ্রিল্যান্সিং কাজে বিঘ্ন ঘটার অভিযোগ করছেন। এটি অবশ্যই একটি সমস্যা, যা তাদের উৎপাদনশীলতা কমাচ্ছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও