ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র কেন চুক্তিতে পৌঁছাতে পারছে না

www.ajkerpatrika.com রাজিউল হাসান প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৩

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ দুই মাসে গড়াতে চলল। এরই মধ্যে এক দফার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এই যুদ্ধবিরতির মধ্যে একবার আলোচনার টেবিলেও বসেছিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যস্থতায় ছিল পাকিস্তান। কিন্তু সে আলোচনা ফলপ্রসূ তো হয়ইনি, বরং যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ শুরু করেছে। অপরদিকে লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে ইরান হরমুজ বন্ধ করেছে। দ্বিতীয় দফার আলোচনা নিয়েও সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াশা। এই অবস্থায় প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র কেন একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারছে না।


এই প্রশ্নের উত্তর যদিও সোজাসাপ্টা দুই পক্ষের শর্তাবলিতে পাওয়া যায়। তারপরও পেছনে আরও অনেক কারণ রয়েছে। অন্যতম কারণ, ইসরায়েল। তবে প্রধানতম কারণ খোদ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধের এই পরিস্থিতিতে মূলত উভয় পক্ষই বিপরীত পক্ষকে দুর্বল ভাবতে শুরু করেছে। ফলে তারা কেউই ছাড় দিতে চাইছে না।

ইরানে হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক শক্তি দেখিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এই শক্তি দেখাতে গিয়ে প্রকটভাবে মার্কিন মিত্রদের নিষ্ক্রিয়তা ও দূরে সরে যাওয়ার চিত্র ফুটে উঠেছে। গোটা ইউরোপ এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে নেই। বরং তারা যুদ্ধের প্রভাব থেকে নিজেদের বাঁচাতে ইরানের সঙ্গে ভিন্ন চ্যানেলে কাজ করার চেষ্টা করেছে। মধ্যপ্রাচ্য ও আরব বিশ্বে মার্কিন মিত্ররাও খানিকটা দুই নৌকায় পা দিয়ে আছে। তারা জোর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষেও কথা বলছে না, আবার ইরানের বিরুদ্ধেও দাঁড়াচ্ছে না। বরং যুদ্ধের শুরু থেকে ইরান যখন উপর্যুপরি প্রতিবেশীদের ওপর হামলা চালাচ্ছিল, তখন তারা বলেছে, ইরানে হামলার জন্য তাদের মাটি তারা ব্যবহার করতে দেবে না। সৌদি আরবসহ এই দেশগুলো মূলত ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র থেকে নিজেদের বাঁচাতেই বেশি মনোযোগী।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য বলছে, চীন ও রাশিয়া নীরবতা পালন করলেও তারা ভেতরে ভেতরে ইরানকে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। তাদের জন্য যুদ্ধ প্রলম্বিত হওয়াই লাভজনক। তেলের দাম বাড়লে রাশিয়ার অর্থনীতি ফুলেফেঁপে উঠবে। আর যুক্তরাষ্ট্র যত কোণঠাসা হবে, আন্তর্জাতিক বাজার তত চীনের দখলে যাবে।


এদিকে ইসরায়েল কখনোই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো চুক্তি মেনে নেবে না। কারণ, এই দুই বৈরী দেশ কোনো চুক্তিতে গেলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে যে দেশটি, সেটা হলো ইসরায়েল। সে ক্ষেত্রে আঞ্চলিক পর্যায়ে তাদের ‘গায়ের জোর’ দেখানোর প্রবণতা কমে যাবে। ইরান অর্থনীতি ও সামরিকভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠলে তারা হয়তো ভবিষ্যতে ইসরায়েলের দখল করা এলাকাগুলো উদ্ধারে তৎপর হবে। সরাসরি সংঘাতে না জড়ালেও ওই অঞ্চলে ইসরায়েলবিরোধী বিদ্রোহী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো তেহরানের মদদ পাবে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় মিত্র ইসরায়েলও শান্তি উদ্যোগে নেই।


ফলে এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র মূলত একা হয়ে পড়েছে। এদিকে প্রচণ্ড মার খেলেও ইরান এই দুই মাসে দেখিয়ে দিয়েছে, তারা ছাড় দেওয়ার পাত্র নয়। বরং যত বেশি তারা মার খাবে, তত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থ ও ও মার্কিন মিত্ররা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ইরানের হামলায় এরই মধ্যে ওই অঞ্চল থেকে তেল-গ্যাসের সরবরাহ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তার মাশুল গুনতে হচ্ছে গোটা বিশ্বকে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে ইরান বুঝিয়ে দিয়েছে, বিশ্ব অর্থনীতির টুঁটি তারা চেপে ধরতে পারে।


এসব কারণে ইরান এখন নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ভাবার অবস্থানে চলে গেছে। আর এই অবস্থান থেকে নমনীয়তা প্রদর্শনের মানসিকতা না থাকাই স্বাভাবিক। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ব্যাপক হামলা চালিয়ে প্রমাণ করেছে, তাদের পাশে কেউ না থাকলেও সামরিক শক্তিতে তারা এক নম্বরেই রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রও ছাড় দিতে নারাজ।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও