হতবিহ্বল অবস্থা থেকে ক্রিকেট বেরিয়ে আসুক

কালের কণ্ঠ ইকরামউজ্জমান প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৫

কিছু মানুষ ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য ক্রিকেটকে হতবিহ্বল অবস্থার মধ্যে ঢুকিয়ে ফেলেছে। তারা ন্যায়, নীতি, আদর্শ, সততা, জবাবদিহি, আইনের শাসন, মূল্যবোধ এবং দেশের ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিতে তোয়াক্কা করেনি। তারা চেয়েছে যেভাবেই হোক চেয়ার দখলের প্রতিযোগিতায় জয়যুক্ত হয়ে মনের গোপন বাসনাকে বাস্তবায়িত করতে। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে—এই ‘মওকা’ কাজে লাগাতে না পারলে সারা জীবন তো আফসোসের বোঝা বহন করতে হবে। আর তাই কোনোমতে বিসিবিতে স্থান করে নিতে হবে।


ক্রিকেটে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক, কিছু ক্রিকেট সংগঠক, তথাকথিত অখ্যাত ক্রিকেট কর্মকর্তা, সুযোগ হাতিয়ে নেওয়ার জন্য মিডিয়ায় এবং সামাজিক মাধ্যমে কিছু মানুষের লজ্জাহীন ভূমিকা ক্রিকেট অনুরাগী মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। স্বার্থের জন্য এবং সুযোগ-সুবিধা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য এত নিচে নামা, এত চাটুকারিতা, এত অসংগতি, স্ববিরোধিতা, নীতির দ্বিমুখিতা সত্যি দুঃখজনক। পুরো নাটকে কাউকে কাউকে ব্যবহার করা হয়েছে। কেউ কেউ আবার নিজেরাই স্বেচ্ছায় ব্যবহৃত হয়েছেন। এতে পুরস্কার মিলেছে।


ক্ষমতার জন্য প্রকাশ্যে নির্লজ্জ কার্যকলাপে যেতেও তাঁদের বিবেকে বাধেনি। থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়েছে। বিভিন্ন চাতুর্য সামনে চলে এসেছে। অনেকের মুখোশ উন্মোচিত হয়ে গেছে। প্রকাশ পেয়েছে, ভেতরে এক রূপ, বাইরে আরেক রূপ। অনিয়ম, অস্বচ্ছতা এবং বিভিন্ন ধরনের কারসাজি, দুরভিসন্ধিমূলক কার্যকলাপ ক্রিকেটকে এক ধরনের অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে ঠেলে দিয়েছে। ক্রিকেটের মধ্যে বিরাজ করছে এক অস্বস্তিকর সত্য। দেশের ক্রিকেটের অবস্থা এখন নড়বড়ে। ক্রিকেট পরিবেশকে স্থিতিশীল করার পাশাপাশি আস্থার জন্ম হওয়া দরকার।


অনেকে অনেক কথাই বলতে পারেন, তবে এটি সত্যি যে ক্রিকেট বোর্ডে সুস্থ আবহাওয়ার অনুপস্থিতি আছে বছরের পর বছর ধরে, যা আমাদের ব্যথিত এবং নিরাশ করেছে বারবার। বিরাট জনগোষ্ঠী সব সময় বলে থাকে, ক্রিকেট শুধু একটি খেলা নয়, এর চেয়েও বেশি কিছু। তা সত্ত্বেও এই খেলার প্রশাসনিক কার্যকলাপে আস্থা ও বিশ্বাসের ক্ষেত্রে বড় বেশি ঘাটতি—এটি বাস্তবতা। সবাই দেখতে চায়, ক্রিকেট বোর্ড সৃজনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, পরমতসহিষ্ণুতা, দায়বদ্ধতা আর ন্যায়বোধের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। অপ্রিয় হলেও সত্যি যে এই বিষয়গুলো তো ‘মিসিং’। ক্রিকেটে একটি সুস্থ সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি। প্রত্যেকের নিজস্ব মতামত থাকবে, কিন্তু খেলার বৃহত্তর স্বার্থে তো ঐকমত্য ছাড়া উপায় নেই। ক্রিকেটে ‘র‌্যাশনাল’ বা যুক্তি মেনে কাজ করা অনুপস্থিত। ক্রিকেটে এক দল আরেক দলকে সহ্য করতে না পারা, নির্মূল করার চেষ্টা করাটা খেলার জন্য বিপজ্জনক বিষয়। ক্রিকেটকে ঘিরে দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট হওয়া দরকার। দরকার সচেতনতা বৃদ্ধি।


ক্রিকেটে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণে নিয়ম, প্রক্রিয়া ও নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় ঘাটতি আছে। বিষয়টি রাতারাতি হওয়ার নয়। এটি সব সময়ের চর্চার বিষয়। বর্তমানে ক্রিকেটের যে অবস্থা এর প্রেক্ষাপট অনেক লম্বা। প্রচুর কথাবার্তা এবং লেখালেখি হয়েছে। যাঁরা কখনো ক্রিকেট নিয়ে এত উৎসাহী ছিলেন না—এই ক্ষেত্রে নাগরিক সমাজে কারো কারো উৎসাহ নজর কেড়েছে।


গত বছরের ৬ অক্টোবর বিসিবির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, অস্বচ্ছতা ও কারসাজির অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও উঠেছে, যেটি একসময় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদও স্বীকার করেছে। অক্টোবরের নির্বাচনে ‘বি’ ক্যাটাগরির বেশির ভাগ ক্লাব অংশ নেয়নি। জেলা ও বিভাগীয় প্রতিনিধি মনোনয়নে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সরাসরি হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কূটকৌশল অবলম্বন করার বিষয়ে। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ গত ১১ মার্চ সাবেক বিচারপতি আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেয়। প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য সময় দেওয়া হয়েছিল ১৫ দিন। তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে কিছু সুপারিশ দিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে নির্বাচন সুন্দরভাবে অনুষ্ঠিত হতে পারে। তদন্ত কমিটি তাদের তদন্তে অনিয়ম, অস্বচ্ছতা ও অরাজকতা পেয়েছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও