মানুষ ও পশুপাখির সম্পর্ক কোন পথে যাচ্ছে?

ঢাকা পোষ্ট আশীষ দত্ত প্রকাশিত: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:১৩

৮ এপ্রিল ২০২৬ বিকেলে বাগেরহাটের হজরত খানজাহান (রহ.)-এর মাজারের দিঘির ঘাটে একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে, এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ভিডিওতে দেখা যায় একটি কুকুর ঘাটের সিঁড়িতে হাল্কা পানিতে দাঁড়িয়ে পাড়ে অবস্থানরত মানুষের নিকট উদ্ধারের আশা নিয়ে তাকিয়ে আছে, অপরদিকে মাজারের দর্শনার্থী আর কৌতূহলী মানুষজন ভয়ে অথবা কুকুরের শেষ পরিণতি কি হয় তা দেখার অপেক্ষায় ঠায় দাঁড়িয়ে।


এ সময় ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে অভ্যস্ত একটি কুমির এবং শেষ পর্যন্ত ঘটে যায় অনিবার্য সেই মর্মান্তিক পরিণতি। ঘটনার পর উপজেলা প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কুকুরটির পা ইচ্ছাকৃতভাবে বেঁধে রাখা হয়েছিল কি না, কিংবা তাকে চলাচলের অযোগ্য করে দেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে।


ময়নাতদন্ত ও তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের মুখে দেওয়া হয়নি, কুকুরটি ছিল জলাতঙ্কে আক্রান্ত (প্রথম আলো, ১৬ এপ্রিল ২০২৬)।


এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে আরও একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, ১১ এপ্রিল ২০২৬ চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের ইছাখালি ইউনিয়নের মুহুরী প্রকল্প এলাকায় দুইজন মানুষ মিলে একটি চিত্রা হরিণকে নির্মমভাবে হত্যা করছে (প্রথম আলো, ১৫ এপ্রিল ২০২৬)। ২৬ মার্চ ২০২৬ রাতে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় বিভিন্ন চরাঞ্চল ও মেঘনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় বন্দুক দিয়ে গুলি করে ৭ বস্তায় প্রায় ৪ মণ পরিযায়ী পাখি শিকার করে লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আ স ম হাদিউল ইসলাম ভূঁইয়া (৮১), আবরার উদ্দিন আহমেদ (৭০), হাজী ওসমান আলী (৭৭), মাজহারুল হক কোরেশী (৭০), আবদুল্লাহ নূর (৭২) এবং আরিক আহমেদ (২৭) নামের ছয় ব্যক্তি (প্রথম আলো, ২৭ মার্চ ২০২৬)।


১৫ এপ্রিল ২০২৬ চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে ধান খাওয়ার অভিযোগে ২৫ থেকে ৩০টি ছোট ছোট বাবুই পাখির ছানা মেরে ফেলে বাছা মিয়া (ইত্তেফাক, ১৬ এপ্রিল ২০২৬)।


এগুলো প্রত্যেকটি একেকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা এবং এরকম হাজারও ঘটনা প্রতিনিয়ত আমাদের চারপাশে ঘটছে। এ ঘটনাগুলো আমাদের নতুন করে চিন্তার খোরাক জোগাচ্ছে পৃথিবীতে মানুষ-প্রাণীর সম্পর্ক আসলে কোন পথে। 


মানবজাতি উৎকর্ষতায় প্রতিনিয়ত নিজেকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে, অভিযানে যাচ্ছে চন্দ্র থেকে মঙ্গলে, মহাকাশে খুঁজছে প্রাণের অস্তিত্ব।  নিজের আশেপাশের প্রাণীকুল, সে হোক গৃহপালিত বা বন্য তাদের প্রতি আমাদের আচরণ কতটা মানবিক? নাকি সৃষ্টির প্রারম্ভ থেকেই মানুষ অন্য প্রাণের প্রতি অসহিষ্ণু! 


আদিমকাল থেকেই মানুষ ও প্রকৃতির সম্পর্ক ছিল জটিল, যা প্রাথমিক পর্যায়ে শিকারি প্রাণীর অবশিষ্টাংশ ভক্ষণ ও তাদের সাথে প্রতিযোগিতা থেকে বিকশিত হতে হতে একসময় কিছু প্রাণীর ঘনিষ্ঠ সাহচর্য এবং কালের পরিক্রমায় বাস্তুতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়।


সে সময়ে প্রাণীরা শুধুই খাদ্যের উৎস হিসেবেই নয় বরং রক্ষক এবং আধ্যাত্মিক প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতো যার প্রমাণ মেলে গুহাচিত্র ও সমাধিস্থলে পশুর দেহাবশেষের ব্যবহার থেকে। শিকারি-সংগ্রাহক যুগে মানুষ নিজেকে প্রকৃতির প্রভু নয় বরং একটি বৃহত্তর জীবমণ্ডলের অংশ হিসেবে বিবেচনা করত। 


ইতিহাসবিদ এবং জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক ইউভাল নোয়াহ হারারি তার ‘স্যাপিয়েন্স: অ্যা ব্রিফ হিস্ট্রি অফ হিউমানকাইন্ড (Sapiens: A Brief History of Humankind)’ গ্রন্থে দেখিয়েছেন, সেই সময় মানুষের বেঁচে থাকা নির্ভর করত প্রকৃতির সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কের ওপর। 


ই.ও. উইলসন তার ‘দ্য ডাইভারসিটি অফ লাইফ (The Diversity of Life)’ বইয়ে জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, একটি প্রজাতির ক্ষতি পুরো বাস্তুতন্ত্রকে বিপন্ন করতে পারে। কিন্তু কৃষি বিপ্লব ও পরবর্তীতে শিল্পায়নের পর মানুষ ধীরে ধীরে সেই সহাবস্থান ভেঙে প্রকৃতির ওপর আধিপত্য বিস্তার শুরু করে। 

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও