প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসঘাতকতা: মানবাধিকারের রক্ষাকবচ কি বিলুপ্তির পথে?
সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার পর থেকেই যে আশঙ্কার কথা বারবার বলা হচ্ছিল, তা এখন আর কেবল ধারণা নয়, উদ্বেগজনক বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে। এটি স্পষ্ট যে, বিএনপি অত্যন্ত বিপজ্জনক ‘প্রাতিষ্ঠানিক রোলব্যাক’ বা অর্জিত সংস্কারগুলো থেকে পিছু হটার অভিপ্রায় নিয়ে পথচলা শুরু করেছে। দেশের গণতান্ত্রিক ও প্রশাসনিক কাঠামোকে পেছনের দিকে নিয়ে যাওয়ার এই চেষ্টা এখন অত্যন্ত দৃশ্যমান।
এই পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, আর্টিকেল ১৯, সিভিকাস এবং ফর্টিফাই রাইটসের মতো প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এখন একযোগে সোচ্চার হয়েছে। বিএনপি-নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের প্রতি তাদের আহ্বান অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট—'জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অর্ডিন্যান্স ২০২৫' এবং 'এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স প্রিভেনশন অ্যান্ড রেমেডি অর্ডিন্যান্স ২০২৫' অবিলম্বে সংসদে পাস করতে হবে। মনে রাখা প্রয়োজন, এই অধ্যাদেশগুলো সময়মতো পাস না হলে আইনি জটিলতায় তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মানবাধিকারের রক্ষাকবচগুলো বিলুপ্ত হয়ে যাবে। মানবাধিকার সুরক্ষা এবং গুমের মতো অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার এই সুবর্ণ সুযোগটি যদি সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে হাতছাড়া করে, তবে তা হবে জনআকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।
- ট্যাগ:
- মতামত
- মানবাধিকার