মোহাম্মদপুর কি ঢাকার ‘সিটি অব গড’
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যায়, এক তরুণকে ধাওয়া করছে প্রতিপক্ষ। দৌড়াতে গিয়ে ওই তরুণ একটি দোকানের সামনে পড়ে যান। এরপর ঘিরে ধরে তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়। একপর্যায়ে তরুণের বাঁ পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
ঘটনাটি ১২ এপ্রিলের। পরে জানা যায়, ওই তরুণ মারা গেছেন। তাঁর নাম ইমন হোসেন। অপরাধজগতে জড়িয়ে নাম ধারণ করেছেন ‘অ্যালেক্স ইমন’। তিনি রাজধানীর মোহাম্মদপুরের অপরাধীদের দল ‘অ্যালেক্স গ্রুপের’ প্রধান। তিনি ওই এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলালের সহযোগী।
পুলিশ বলছে, ইমনের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধের ১৮টি মামলা রয়েছে। উল্লেখ্য, এসব মামলায় তাঁর বিচার হয়নি, শাস্তি হয়নি। তিনি নিহত হয়েছেন প্রতিপক্ষের হামলায়।
ঘটনাটির মিল পাওয়া যায় বিখ্যাত একটি সিনেমার শেষ দৃশ্যের সঙ্গে। সিনেমাটির নাম সিটি অব গড।
ব্রাজিলের প্রধান পর্যটন শহর রিও ডি জেনিরোর উপকণ্ঠে ‘সিটি অব গড’ নামে একটি বস্তি রয়েছে। সেই বস্তির অপরাধী দল নিয়ে ২০০২ সালে সিনেমাটি তৈরি করেন ব্রাজিলের চলচ্চিত্র পরিচালক ফের্নান্দো ফেরেইরা মেইরেলেস ও কাতিয়া লুন্দ।
সিনেমাটির শেষ দৃশ্যে দেখা যায়, বস্তিতে দুই অপরাধী দলের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মধ্যে মূল দলের প্রধান জে পেকেনো পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। তবে পুলিশকে ঘুষ দিয়ে তিনি ছাড়া পেয়ে যান। বাঁচতে পারেননি, তিনি নিহত হন কয়েকটি কিশোরের হাতে।
ইমন ও জে পেকেনোর পরিণতি একই। তাঁরা প্রতিপক্ষের হাতে নিহত হয়েছেন। নানা অপরাধে জড়িত থাকলেও তাঁদের বিচার হয়নি, শাস্তি হয়নি।
বিচার ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে না পারায় ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোর বস্তি সিটি অব গড এখনো অপরাধপ্রবণ। বাংলাদেশের মোহাম্মদপুরও যেন ‘সিটি অব গড’; দশকের পর দশক ধরে সেখানে অপরাধী দল নিজেদের মধ্যে খুন, পাল্টা খুন করছে। মাদক ব্যবসা করছে। ছিনতাই, চাঁদাবাজি করছে। কিন্তু তাদের দমন করা যাচ্ছে না।
‘খুন, দখল, চাঁদাবাজি—মোহাম্মদপুরে এই ধারা চলছে চার দশকের বেশি সময় ধরে’, বলছিলেন মোহাম্মদপুরের একজন পুরোনো বাসিন্দা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি আরও বলেন, সময় যত গেছে, অপরাধের ধরন তত বদলেছে। নতুন নতুন অপরাধী দল তৈরি হয়েছে। অপরাধ ও অপরাধী দলের তৎপরতা এখনো আছে এবং তা আগের চেয়ে বেশি।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদপুরে এখন অর্ধশত অপরাধী দল সক্রিয়। এর মধ্যে বড় অপরাধী দল ১৭টি। প্রতিটি দলে ১৫–২০ জন করে অপরাধী রয়েছে।
অপরাধী দলগুলো রয়েছে বিচিত্র নাম। যেমন পাটালি গ্রুপ, লেভেল হাই গ্রুপ, ডাইল্লা গ্রুপ, অ্যালেক্স গ্রুপ, গাংচিল গ্রুপ, লও ঠেলা গ্রুপ, কবজি কাটা আনোয়ার গ্রুপ, ফরহাদ গ্রুপ, আর্মি আলমগীর গ্রুপ, নবী গ্রুপ, আকবর গ্রুপ ইত্যাদি। অপরাধীদের আয়ের উৎস মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, দখল, অপরাধের কাজে ভাড়া খাটা ইত্যাদি।
- ট্যাগ:
- বাংলাদেশ
- খুন
- ছিনতাই
- অপরাধ
- সন্ত্রাসী কার্যক্রম