হরমুজ সংকটে আমাদের করণীয়

www.ajkerpatrika.com কামরুল হাসান প্রকাশিত: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:১৩

সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর থেকেই বিশ্ব পরিমণ্ডলে যুক্তরাষ্ট্র একক পরাশক্তির অবস্থান ধরে রেখেছিল। কিন্তু ভ্লাদিমির পুতিনের নেতৃত্বে রাশিয়ার হৃত গৌরব ফিরে পেতে গা-ঝাড়া দেওয়ার চেষ্টা, চীনের উত্থান এবং বাণিজ্যিক-আঞ্চলিক হিসাব-নিকাশ ক্রমেই যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র আধিপত্যকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র তার দীর্ঘদিনের একক আধিপত্য ধরে রাখার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তাদের নানা চালবাজির ঘটনা ঘটিয়েছে। সম্প্রতি তার একক আধিপত্য প্রশ্নের মুখে পড়ার জ্বলজ্বলে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যায়, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান আগ্রাসনকে। সামরিক পরাক্রমে বিশ্বের এক নম্বর হওয়া সত্ত্বেও ইরানের ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠীকে উৎখাত বা তাদের প্রতিরোধ গুঁড়িয়ে দিয়ে হরমুজ প্রণালি মুক্ত করতে গিয়ে গলদঘর্ম অবস্থা হয়েছে দেশটির।


ইরানের সঙ্গে সংঘাতে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোকেও পাশে পাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি ইউরোপের অনেক দেশও যুক্তরাষ্ট্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে এই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি প্রবাহের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র ইরানের ভূখণ্ডসংলগ্ন হরমুজ প্রণালি। নিঃসন্দেহে বলা যায়, বিশ্বজুড়ে আমজনতার কাছেও কমবেশি পরিচিত হয়ে উঠেছে এই জলপথটির নাম। আঞ্চলিক শক্তি হলেও সামরিক শক্তির বিচারে হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের আশপাশেও ভিড়তে পারবে না ইরান। সে বিষয়ে তারা নিজেরাও সচেতন। তাই ইরান সরাসরি লড়াইয়ের ওপর মূল নজর না দিয়ে বহুমাত্রিক চাপের কৌশল গ্রহণ করেছে। বৈশ্বিক অর্থনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি জ্বালানি আর মধ্যপ্রাচ্য হচ্ছে তার অন্যতম প্রধান উৎস। হরমুজ প্রণালি দিয়ে অতিক্রম করে বৈশ্বিক জ্বালানির ২০ শতাংশ। ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি রুদ্ধ করে দিয়ে জ্বালানির সরবরাহ এবং বাজারব্যবস্থার একটি বড় অংশের ওপর আপাতত হলেও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।


একবিংশ শতাব্দীতে যুদ্ধ কেবল ধ্বংসাত্মক অস্ত্রের কার্যকারিতার পাল্লা নয়, তার মধ্যে আছে বাণিজ্য তথা ও সরবরাহব্যবস্থা। এমনকি সাইবার জগতের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লড়াইও। তাই ইরানের হরমুজের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কৌশল বৈশ্বিক অর্থনীতিকে বড় সংকটের মুখে ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মতো দুই মহা সামরিক ক্ষমতাধর রাষ্ট্র এত দিনের শক্তি প্রয়োগের পরও এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে পারছে না।


ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের বর্তমান পরিস্থিতিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা অসম যুদ্ধের এক নতুন রূপ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। নিছক ক্ষেপণাস্ত্র আর ড্রোন দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ঠেকিয়ে রাখা যাবে না জেনে বিভিন্ন ফ্রন্টে লড়াই চালাচ্ছে ইরান। প্রচারণা তার একটি। স্কুলে মার্কিন হামলার মতো ঘটনাকে সাফল্যের সঙ্গে প্রচার করে ইরান বিশ্বজুড়ে একধরনের সহানুভূতি পেয়েছে। ট্রাম্প এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীকে বিদ্রূপ করে এআই দিয়ে বানানো ভিডিও দিয়েও প্রচারণা চালাচ্ছে তেহরান। চলছে দুই পক্ষের তথ্যযুদ্ধ।


সমস্যার বিষয় হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের প্রভাব পড়ছে সারা বিশ্বের ওপরই। জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে শত ডলারের ঘর অতিক্রম করেছে। জ্বালানির দামের সঙ্গে উৎপাদন, পরিবহন ইত্যাদির ব্যয় সরাসরি যুক্ত বলে মানুষের জীবনযাত্রায় বড় প্রভাব ফেলছে তা। বিশেষ করে যেসব দেশ নিজেরা জ্বালানি উৎপাদনে সক্ষম নয়, তাদের জন্য এই পরিস্থিতি ভয়াবহ সংকট তৈরি করেছে। এ সংকট কবে কাটবে, তা স্পষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। সবাই মনে করছেন কিছুদিনের মধ্যেই সরবরাহব্যবস্থা পুনরুদ্ধার হলেও বৈশ্বিক অর্থনীতি আগের অবস্থায় ফিরতে দীর্ঘ সময় লাগবে। দেশে দেশে জ্বালানির মজুত কমে যাচ্ছে, সরকারি ভর্তুকি বেড়েছে এবং রাষ্ট্রীয় আয়-ব্যয়ে চাপ তৈরি হয়েছে। এই ধাক্কার জেরে বিশ্ব অর্থনীতি মন্দার দিকে এগোতে পারে বলে আইএমএফ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।


সাময়িক যুদ্ধবিরতি হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই দৃশ্যত নিজেদের দাবি নিয়ে অনড় অবস্থায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনার কথা বলেছে। অন্যদিকে ইরান জানিয়ে দিয়েছে, এর জবাব হবে ভয়াবহ। এখন যদি আবার দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষ শুরু হয়, তাহলে তার পরিসর আরও বেড়ে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের অন্তত কেউ কেউ হরমুজে অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে মার্কিন তৎপরতায় শামিল হতে পারে। যদিও তাদের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাজ্য বলেছে, তারা হরমুজে সম্ভাব্য মাইন অপসারণের কাজ করলেও ইরানের সঙ্গে সংঘাতমূলক কাজে যুক্ত হবে না।


যুক্তরাষ্ট্র মরিয়া হয়ে জ্বালানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে ইরানের খারগ দ্বীপের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থল ও নৌ অভিযান শুরু করতে পারে। ইরানও এর জবাব না দিয়ে ছাড়বে না। এমন পরিস্থিতি উভয় পক্ষের জন্যই বিপর্যয়কর হবে। কারণ, তা ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংস ডেকে আনবে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চলতি সংকটের আরেকটি দিক হলো বৈশ্বিক আস্থার ভাঙন। দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি যে কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে ছিল, তা মূলত একটি নির্দিষ্ট মুদ্রার (মার্কিন ডলার) ওপর আস্থার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছিল।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও