পশ্চিমবঙ্গের ভোটযুদ্ধের আঁচ কেন বাংলাদেশেও?

বিডি নিউজ ২৪ পশ্চিমবঙ্গ পারভেজ আলম প্রকাশিত: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৫৩

পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার ন্যাশনাল হাইওয়েতে, এই সেদিন, গেল ২ এপ্রিল আগুন জ্বালিয়ে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে বিডিও (ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিস) অফিসের ভেতরে সাতজন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাকে জিম্মি করেছে। পুরো ৯ ঘণ্টা ধরে জনতা বিচারকদের বাইরে বেরোতে দেয়নি। পুলিশের গাড়ি পৌঁছালে মানুষ তাদের ওপর পাথর ছোড়ে। কিন্তু জানেন কি? বিচারকদের জিম্মি করা এই মানুষগুলো কোনো পেশাদার অপরাধী নয়, বরং তারা সেই মানুষ যাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে কেটে দেওয়া হয়েছে।


বাদপড়াদের কয়েকজন স্বেচ্ছামৃত্যুর ইচ্ছে প্রকাশ করে ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেছেন। অবশ্য কেউ কেউ জীবন বিসর্জন দেওয়ার ঘটনা ঘটিয়েছেন। সাধারণ মানুষের কাছে ভোটার কার্ড কেবল পরিচয়পত্র নয়, বরং নিজ দেশে সসম্মানে টিকে থাকার প্রধান রক্ষাকবচ। এর করুণ উদাহরণ উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার রিনারানি কুন্ডু, যিনি নিজের ও ছেলেদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কায় আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। একইভাবে মালদহের কাবিল শেখের মৃত্যুও প্রমাণ করে যে, এই প্রশাসনিক জটিলতা সাধারণ মানুষের মনে কতটা গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। হুগলির আরামবাগে একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকাসহ ছয়জন বাসিন্দা রাষ্ট্রপতির কাছে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানিয়েছেন। তাদের দাবি, রাষ্ট্রহীন হয়ে ডিটেনশন ক্যাম্পে ধুঁকে ধুঁকে মরার চেয়ে সসম্মানে মৃত্যুই শ্রেয়।


পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৯০ লাখ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে কেটে দেওয়া হয়েছে। আর এই নির্ণয় কে করেছে জানেন? কোনো বিচারক নন, কোনো কর্মকর্তা নন, একটি ‘সফটওয়্যার’। এখন হয়তো আপনি ভাবছেন যে, পশ্চিমবঙ্গে অনেক বছর ধরে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে সমস্যা রয়েছে, তাই এ ক্ষেত্রে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) তো একটি প্রয়োজনীয় বিষয়, তাই না?


যখন এসআইআর শুরু হয়েছিল, তখন এটিই বলা হয়েছিল যে ভোটার তালিকায় অনেক অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর নাম রয়েছে যা সরানো দরকার। বিজেপি নেতারা তখন বারবার বলেছিলেন যে বাংলা থেকে ১ কোটির বেশি ভোটার বাদ পড়বে, যার একটি বড় অংশই অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী। ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, “বাংলার সীমান্তবর্তী এলাকায় জনসংখ্যার গঠনে বিপজ্জনক পরিবর্তন এসেছে।” এটি কি ‘সংখ্যালঘু’ ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ারই পূর্বাভাস ছিল?


২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগের এই মুহূর্তে রাজ্যজুড়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন আর এটি নয় যে ‘কে জিতবে’, প্রশ্ন হলো ‘কাদের ভোটাধিকার শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে’।


ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিশেষ এসআইআর প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘু প্রধান জেলাগুলোতে এক নজিরবিহীন অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ৯০ লাখ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে সাময়িকভাবে ছেঁটে ফেলা কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়। শতাংশের হিসেবে এটি পশ্চিমবঙ্গের মোট ভোটারের প্রায় ৮.৫৭ ভাগ। বাদ পড়া এই ভোটারদের অনেককেই বর্তমানে ‘অনুপ্রবেশকারী’ তকমা দেওয়া হচ্ছে। তবে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ছেঁটে ফেলা এই বিশাল জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশই সংখ্যালঘু মুসলিম এবং মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ। মুর্শিদাবাদ, মালদহ এবং উত্তর ২৪ পরগনার মতো জেলাগুলোতে লাখ লাখ মানুষের ভোটাধিকার এখন আইনি মারপ্যাঁচে আটকে গিয়েছে। এরা ঐতিহাসিকভাবেই এই অঞ্চলের রাজনীতির নির্ধারক-শক্তি বলে ধারণা করা হয়।


এই প্রশাসনিক তৎপরতা কি শুধুই ভোটার তালিকা শুদ্ধিকরণ, নাকি এর পেছনে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক মেরুকরণের ছায়া? নন্দীগ্রামের মতো আসনে বাদ পড়া ভোটারদের ৯৫ শতাংশই সংখ্যালঘু–গবেষণায় উঠে আসা এই তথ্যটি কি কেবলই একটি রাজনৈতিক পরিসংখ্যান, নাকি এটি পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আবহে একটি বড় ধরনের ফাটলের ইঙ্গিত দিচ্ছে? সাধারণ মানুষের মনে ইতিমধ্যেই দানা বেঁধেছে নাগরিকত্ব হারানোর ভয়, যা নির্বাচনের ফলাফলকে এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।


পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে প্রায় ২৭ থেকে ৩০ শতাংশ মুসলিম ভোটার। যাদের রাজনৈতিক পছন্দ-অপছন্দের ওপর নির্ভর করে রাজ্যের ভবিষ্যৎ শাসনভার। পরিসংখ্যান বলছে, রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে অন্তত ১১৪টি আসনে এই সংখ্যালঘু ভোটের প্রভাব সরাসরি ফলাফল নির্ধারণ করে দেয়। বিশেষ করে মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর দিনাজপুরের মতো জেলাগুলোতে মুসলিম জনসংখ্যা ৫০ শতাংশের ওপরে, যেখানে জয়ী হওয়া ছাড়া রাইটার্স বিল্ডিং দখল করা অসম্ভব।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও