ট্রাম্পের নতুন অবরোধ কি আত্মপ্রত্যয়ী ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করাতে পারবে?

বিডি নিউজ ২৪ এ টি এম জিয়াউল হাসান প্রকাশিত: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:৩২

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সব বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় নতুন নৌ অবরোধ (Naval Blockade) আরোপ করেছেন, যা ১৩ এপ্রিল ২০২৬ সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। ইসলামাবাদে মার্কিন-ইরান শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরপরই এই অবরোধ শুরু হয়।


অর্থনৈতিক অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা ইরানকে ধ্বংস করতে বা আত্মসমর্পণে বাধ্য করাতে পারবে? উত্তর, না। কেননা, ইরান বহু বছর ধরে একটি স্থিতিস্থাপক কৌশলগত কাঠামো গড়ে তুলেছে এবং সুচিন্তিতভাবে এই অবরোধের বিরুদ্ধে বিগত চার দশক ধরে তিলে তিলে তার প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। ট্রাম্পের এই অতিরিক্ত অবরোধে সরাসরি প্রচলিত যুদ্ধের পরিবর্তে পরোক্ষ কিন্তু গুরুতর বৈশ্বিক পরিণতি দেখা দেবে—বিশেষ করে জ্বালানি বাজারে বিঘ্ন ঘটিয়ে। আমার আজকের বিশ্লেষণে ইরানের মতবাদ, জুতসই কৌশল, প্রক্সি নেটওয়ার্ক, নিউক্লিয়ার অবস্থান এবং চীনের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে যুক্তি উপস্থাপন করছি। এই অবরোধ একটি ভুল হিসেবে প্রমাণিত হবে, যা ইরানের দীর্ঘমেয়াদি শক্তিকে আরও উস্কে দেবে।


প্রথমেই আসি—অবরোধের ধারণাটি একদমই একটি প্রমাণিত ভুল। এই অর্থনৈতিক অবরোধের ফলে ধারণা করা হয় যে, ট্রাম্পের নীতি অনুসারে ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করলে তার ইচ্ছাশক্তি ভেঙে পড়বে বা শাসনব্যবস্থা ধসে যাবে। কিন্তু ইতিহাস বলে এর ফল হয় অন্যরকম। ইরানের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রায়ই উল্টো ফল দিয়েছে। ফলে গত ৪৭ বছরে ইরানের স্বনির্ভরতা ঈর্ষণীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং তারা আমেরিকার মতো 'শক অ্যান্ড অ’ (Shock & Awe) কৌশলের বিরুদ্ধে কীভাবে স্ট্র্যাটেজিক, অপারেশনাল বা ট্যাকটিক্যাল কৌশল নিয়ে যুদ্ধ করতে হয় তা শিখে গেছে। এই জন্য তারা ইরাক যুদ্ধ এবং আফগানিস্তানে তালেবানদের সঙ্গে যুদ্ধ দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করে এসেছে। সেই সঙ্গে ইসরায়েলের সঙ্গে হামাস, হিজবুল্লাহ আর হুতিদের মাঠ পর্যায়ের কৌশল হাতে-কলমে পর্যবেক্ষণ করে এক অসম যুদ্ধ কৌশলের ধারণাকে আত্মস্থ করে রেখেছে। এর সঙ্গে জাতীয়তাবাদের সংমিশ্রণ ঘটিয়ে তারা ইস্পাতকঠিন আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থাপনা গড়েছে। আমেরিকার মতো পরাশক্তির সঙ্গে কীভাবে দীর্ঘ যুদ্ধে টিকে থাকতে হয় এবং কীভাবে নিজেদের অর্থনৈতিক আঘাত সহনীয় করে তুলে এসব অবরোধকে অর্থহীন ও অকেজো করতে হয়, সেই শিক্ষা আর যাই হোক, ট্রাম্পের মতো গোঁয়ার প্রকৃতির একজন প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে শেখার প্রয়োজন নেই।


অবরোধ বা নিষেধাজ্ঞার ঐতিহাসিক ব্যর্থতা লক্ষ্য করলে দেখা যায়: ইরাকে ১৯৯০-এর দশকের নিষেধাজ্ঞায় প্রায় ৫ লাখ শিশুর মৃত্যু হলেও সাদ্দাম ক্ষমতাচ্যুত হননি; উত্তর কোরিয়া দশকের পর দশক নিষেধাজ্ঞার পরও পরমাণু অস্ত্র তৈরি করেছে; কিউবা ৬৫ বছরের অবরোধ এবং রাশিয়া ২০২২-এর পরের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও টিকে আছে। এসব অবরোধে এদেশগুলোর শাসনব্যবস্থা অভিযোজিত হয়ে আরও শক্তিশালী হয়েছে।


১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে ইরানের ৪৫ বছরের অভিযোজন লক্ষ্যণীয়। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বিপ্লবের পরপরই শুরু হয় এবং বিভিন্ন প্রশাসনের অধীনে তা তীব্রতর হয়। এতে ইরান দুর্বল না হয়ে বরং অর্জন করেছে:


শিল্পে স্বনির্ভরতা ও অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকরণ।


ক্ষেপণাস্ত্র (বর্তমানে ৩,০০০-এর বেশি), ড্রোন ও অসম যুদ্ধে ব্যাপক বিনিয়োগ।


সাত দেশব্যাপী প্রক্সি স্থাপত্য (লেবাননে হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনে হুতি, সিরিয়াতে শিয়া মিলিশিয়া, ইরাকি মিলিশিয়া)।


তেল বহির্ভূত রপ্তানি ৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি (নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর কৌশলে)।


ইরানের আচরণ তিনটি আন্তঃসম্পর্কিত মতবাদ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত:


১. মোজাইক মতবাদ (Mosaic Doctrine): সমান্তরাল কেন্দ্রীভূত সামরিক শক্তির পরিবর্তে স্তরবিন্যাসিত ছোট ছোট ক্ষমতা (ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, প্রক্সি) দিয়ে জটিল প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।


২. ফরোয়ার্ড ডিফেন্স পশ্চার (Forward Defense Posture): প্রক্সির মাধ্যমে শত্রুর সীমান্তে শক্তি প্রক্ষেপণ করে নিজ ভূখণ্ডের দুর্বলতা এড়ানোর কৌশল।


৩. প্রতিরোধের সমীকরণ (Equation of Deterrence): চাপ সর্বোচ্চ হলে ইরান সুনির্দিষ্টভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়, যাতে শত্রুর ক্ষতি সর্বোচ্চ হয়—এই ভীতি শত্রু শিবিরে সঞ্চারণ করা।


হরমুজ প্রণালির বৈশ্বিক চলাচলের পথকে নিয়ন্ত্রণ করা ইরানের জন্য চূড়ান্ত ভরকেন্দ্র (Center of Gravity)। প্রতিদিন ২ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল তেল (বিশ্ব সরবরাহের প্রায় ২১ শতাংশ) এই প্রণালি দিয়ে যায়। এটি পুরোপুরি বন্ধ করার দরকার নেই—শুধু অনিশ্চয়তা তৈরি করলেই ট্যাঙ্কারের বিমা প্রিমিয়াম বেড়ে যায় (সাম্প্রতিক দৃশ্যপটে ৩৪০ শতাংশ বৃদ্ধি) এবং তেলের দাম বাড়ে। যা আমেরিকা, পশ্চিমা বিশ্ব এবং তাদের তাবেদার রাষ্ট্রসমূহের স্বার্থকে চরমভাবে আঘাত করতে সক্ষম হবে। এছাড়াও তারা এমন জুতসই কৌশল গ্রহণ করেছে যে, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী নেভিও (ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ডের মতো ক্যারিয়ার গ্রুপ) ইরানের গেজেট সাবমেরিনের কাছে নিরুপায়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও