পানাহি দেশে ফিরলেন, ইরানের চলচ্চিত্র কি স্বাধীন হবে?

বিডি নিউজ ২৪ রহমান লেনিন প্রকাশিত: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:৫০

ইরানের চলচ্চিত্রকে বুঝতে হলে কেবল পর্দার গল্প দেখলেই চলে না; বুঝতে হয় রাষ্ট্র, সমাজ এবং মানুষের জটিল সম্পর্ক। কারণ, এই দেশের সিনেমা সবসময়ই কঠোর নিয়ন্ত্রণ, মতপ্রকাশের সীমাবদ্ধতা এবং শিল্পীর ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রশ্নের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। তাই যখন রাজনৈতিক অস্থিরতা, যুদ্ধপরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক চাপ একসঙ্গে ইরানের বাস্তবতাকে নাড়িয়ে দেয়, তখন প্রশ্ন জাগে এই পরিস্থিতি কি আগামীতে ইরানের চলচ্চিত্রকে আরও সংকুচিত করবে, নাকি সংকটের মধ্যেই জন্ম নেবে নতুন সৃজনশীলতা?


১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরান সরকার চলচ্চিত্রকে একটি নির্দিষ্ট নিয়মের আওতায় নিয়ে আসে। এর ফলে সিনেমায় কী দেখানো যাবে আর কী যাবে না, ওই বিষয়ে কঠোর নিয়ন্ত্রণ শুরু হয়। অনেক নির্মাতা বাধ্য হয়ে নিয়ম মেনে কাজ করেছেন, আবার কেউ কেউ এই সীমাবদ্ধতার মধ্যেই নিজের মতো করে প্রতিবাদের পথ খুঁজে নিয়েছেন।


জাফর পানাহি ওই প্রতিবাদী নির্মাতাদের মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী কণ্ঠ। তার চলচ্চিত্রে সাধারণ মানুষের জীবন, নারীদের সীমাবদ্ধতা এবং সমাজের বৈষম্য অত্যন্ত সহজ কিন্তু গভীরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এই কারণে তিনি সরকারি শাস্তির সম্মুখীন হয়েছেন, এমনকি দীর্ঘ সময় তার চলচ্চিত্র নির্মাণের ওপর নিষেধাজ্ঞাও ছিল। তবুও তিনি থেমে যাননি। সীমাবদ্ধতার মধ্যেই খুঁজে নিয়েছেন কাজের বিকল্প পথ। এখানেই ইরানি চলচ্চিত্রের মূল শক্তি স্পষ্ট হয়; নিয়ন্ত্রণ যতই কঠোর হোক, সৃজনশীলতা শেষপর্যন্ত নিজের পথ করে নেয়।


তবে সাম্প্রতিক বাস্তবতা এই আলোচনাকে নতুন দিকে নিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের দমন-পীড়নের পর নির্মাতা পানাহির দেশে ফিরে আসা কেবল ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়; এটি একটি গভীর রাজনৈতিক ও মানবিক অবস্থান। যখন যুদ্ধ চলমান, ঠিক ওই সময়েই তিনি ফিরে এসেছেন নিজের মানুষের কাছে। আরও আশ্চর্যের বিষয়, যে সরকার একসময় তাকে নিষিদ্ধ করেছিল, তারাই এবার তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তুলে নিয়েছে। আর সাধারণ মানুষ তাকে সংবর্ধনা দিয়ে বরণ করে নিয়েছে। এই অভিজ্ঞতা বলে দেয়, শিল্প যদি মানুষের কণ্ঠস্বর বহন করে, তবে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের ধরন পরিবর্তন হলেও হতে পারে।


এই ঘটনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য সামনে চলে আসে, রাষ্ট্র ও জনগণের সম্পর্ক কখনোই সরল বা একরৈখিক নয়। সংকটের সময়ে একটি জাতি নিজের ভেতরের বিভাজন ভুলে আবারও এক হয়ে দাঁড়াতে পারে। জাফর পানাহির প্রতি মানুষের যে স্বীকৃতি ও সমর্থন, তা ওই ঐক্যেরই প্রতিফলন। এখানেই ইরানের আসল শক্তি লুকিয়ে আছে। কারণ জাফর পানাহি একা নন; ইরানে তার মতো আরও অনেক মানুষ আছেন, যারা স্বাধীনতা, সাহস ও দৃঢ়তার নতুন অর্থ তৈরি করছেন। এই মানুষগুলোর মধ্যেই ইরানের ভবিষ্যৎ জয়ের সম্ভাবনা নিহিত।


পানাহির মতো নির্মাতারা প্রমাণ করেছেন, স্বাধীনতা, সাহস এবং মানুষের গল্প বলার ইচ্ছাই শেষ পর্যন্ত চলচ্চিত্রকে মুক্ত রাখে। এই বাস্তবতা ইরানের চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। এতদিন ইরানি চলচ্চিত্রে যে কথাগুলো সরাসরি বলা সম্ভব হয়নি, সেগুলো তারা প্রতীক, নীরবতা আর প্রতিদিনের জীবনের ছোট ছোট ঘটনার মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। কিন্তু যুদ্ধ পরবর্তী বাস্তবতায় এই ভাষা আরও গভীর এবং সরাসরি হতে পারে।


প্রথমত, চলচ্চিত্রে দেশপ্রেম এবং মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা আরও স্পষ্টভাবে উঠে আসবে। যেটা রাষ্ট্রীয় প্রচারণার অর্থে নয়; মানুষের বেঁচে থাকা, টিকে থাকা এবং একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর গল্প হিসেবে প্রকাশ পাবে।


দ্বিতীয়ত, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার গুরুত্ব বৃদ্ধি পাবে। যুদ্ধ, অনিশ্চয়তা এবং সামাজিক পরিবর্তনের অভিজ্ঞতা নির্মাতাদের ব্যক্তিগত গল্প বলার দিকে আরও বেশি আগ্রহী করে তুলবে। এর ফলে ইরানের চলচ্চিত্র আরও গভীর, অন্তর্মুখী এবং মানবিক হয়ে উঠতে পারে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও