ঐতিহাসিক ১০ এপ্রিল: মুক্তির সনদ ঘোষণার দিন

www.ajkerpatrika.com মাসুদ রানা প্রকাশিত: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৯

আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল ছিল একটি বিশেষ দিন। সাধারণত আমরা ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণের দৃশ্যটি বড় করে দেখি, কিন্তু সেই আনুষ্ঠানিকতার মূল ভিত্তি ও আইনি কাঠামো তৈরি হয়েছিল ১০ এপ্রিল। এই দিনটিই ছিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী প্রথম সরকার গঠন এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র গ্রহণের দিন।


১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যখন ‘অপারেশন সার্চলাইট’ চালিয়ে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, সেই রাত থেকে সারা দেশে প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর দেশের সব শ্রেণি-পেশার ও সাধারণ মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে আশ্রয় নিতে শুরু করে। তখনকার পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত জটিল। ২৫ মার্চ রাতেই শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে বন্দী হন। একদিকে কেন্দ্রীয় নেতা কারাগারে, অন্যদিকে নেতৃত্বহীন পুরো জাতি।

এ অবস্থায় সারা দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলায় প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু করে দেয় সাধারণ জনগণ তাদের সীমিত সামর্থ্য নিয়ে। আধুনিক অস্ত্র ব্যতিরেকে শুধু অসীম সাহস এবং দেশ স্বাধীন করার মনোবলই তাদেরকে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে লড়তে সাহস জুগিয়েছে। সারা দেশে এভাবে খণ্ড খণ্ড প্রতিরোধগুলো চললেও কোনো কেন্দ্রীয় কমান্ড ছিল না।

২৫ মার্চের মধ্যরাতেই সাধারণ জনগণ, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী, ছাত্র-যুব এবং সাধারণ জনগণের পাশাপাশি ইপিআর ও বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেনা ও অফিসাররা পাকিস্তানি বাহিনীর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন। ইপিআর ও বেঙ্গল রেজিমেন্টের ওপর আঘাত আসার সঙ্গে সঙ্গে এসব বাহিনীর সংখ্যাগরিষ্ঠ সৈনিক ও অফিসাররা প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু করে দেন। তবে সেই যুদ্ধ ছিল প্রথম দিকে স্বতঃস্ফূর্ত এবং অপরিকল্পিত। তাঁদের সংঘবদ্ধ করে একটি একক চেইন-অব-কমান্ডের মাধ্যমে এনে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য রণাঙ্গন নির্ধারণ এবং দায়িত্ব অর্পণ করা জরুরি কাজ ছিল। এটা করা সম্ভব না হলে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সঠিক পন্থায় পরিচালনা করা সম্ভব ছিল না।


এই পরিপ্রেক্ষিতে মুক্তিযুদ্ধকে একটি কেন্দ্রের মাধ্যমে পরিচালনা করা খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এই যুদ্ধের আইনি বৈধতা পাওয়ার দরকার ছিল। কারণ, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ যে কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন নয়, বরং এটি যে একটি দেশের স্বাধীন হওয়ার লড়াই, সেটা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরা জরুরি ছিল। বিশ্ববাসীর কাছে এটাও নিশ্চিত করতে হতো যে পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতৃত্বের প্রতি সমস্ত জনগোষ্ঠীর এবং স্বাধীনতার পক্ষের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ব্যাপক সমর্থন আছে। এগুলো সম্ভব হয়েছে মুজিবনগর সরকার গঠনের মাধ্যমে। বিশ্বের কাছে মুক্তিযুদ্ধের বৈধতা প্রতিষ্ঠা করা মুজিবনগর সরকারের জন্য অপরিহার্য ছিল। আবার তখন বিশ্ব স্নায়ুযুদ্ধের গভীর সংকটে নিমজ্জিত ছিল। পরবর্তী সময়ে বিশ্বের বহু দেশ আমাদের মুক্তিসংগ্রামের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশের পাশাপাশি সাহায্যের হাত বাড়ালেও বিশ্বের দুটি বৃহৎ শক্তি—যুক্তরাষ্ট্র ও চীন—বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল। যেকোনো পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সংহতি রক্ষার জন্য তখন যুক্তরাষ্ট্রের নিক্সন-কিসিঞ্জার প্রশাসন ছিল বদ্ধপরিকর।


অনেকে বলে থাকেন, ভারত সরকার প্রথম থেকেই মুক্তিযুদ্ধের সময় সব ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা করেছিল। ব্যাপারটি এত সহজ ছিল না। ভারত প্রথম থেকে সীমান্ত খুলে দিলেও অন্য সব সহযোগিতার জন্য অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। তবে সেসব আয়োজন সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে বিশেষ করে তাজউদ্দীন আহমদের ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য।


২৫ মার্চ রাতেই তাজউদ্দীন আহমদ নিজ বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। এরপর ৩০ মার্চ সন্ধ্যায় তিনি ফরিদপুর, কুষ্টিয়া হয়ে মেহেরপুরে পৌঁছে ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে ৩১ মার্চ মেহেরপুরের সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। এ সময়ই মূলত তিনি বাংলাদেশ সরকার গঠনের পরিকল্পনা শুরু করেন। প্রথমে আত্মরক্ষা, তারপর প্রস্তুতি এবং সবশেষে পাল্টা আক্রমণ এই নীতিকে সাংগঠনিক পথে পরিচালনার জন্য তিনি সরকার গঠনের চিন্তা করতে থাকেন।


এরপর মুক্তিবাহিনী গঠনের ব্যাপারে তাজউদ্দীন আহমদ বিএসএফপ্রধান কে এফ রুস্তামজীর কাছে সাহায্য চাইলে তিনি বলেন, মুক্তিসেনাদের ট্রেনিং এবং অস্ত্র দেওয়া সময়সাপেক্ষ কাজ। ট্রেনিংয়ের বিষয়ে তখন পর্যন্ত ভারত সরকারের কোনো নির্দেশ না থাকায় তাঁরা মুক্তিবাহিনীকে ট্রেনিং ও অস্ত্র দিতে পারবেন না। এরপর কে এফ রুস্তামজী দিল্লির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁকে জানানো হয় তাজউদ্দীন আহমদকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। ইন্দিরা গান্ধী এবং তাজউদ্দীন আহমদের সাক্ষাৎ হয় ৪ এপ্রিল। দিল্লিতে পৌঁছানোর পর মূলত ভারত সরকার বিভিন্ন সূত্র থেকে নিশ্চিত হয়—তাজউদ্দীন আহমদই শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠতম সহকর্মী। এ সময় ভারত সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাজউদ্দীন আহমদের কয়েক দফা বৈঠক হয়। তাজউদ্দীন আহমদ পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কথা এবং এ জন্য ভারতের সাহায্যের প্রয়োজনের কথা বোঝাতে সক্ষম হন।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও