এই ‘হতাশা’র সময়ে আমরা কী করব

প্রথম আলো আলতাফ পারভেজ প্রকাশিত: ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৩৮

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমাজ বেশ হতবিহ্বল অবস্থায় পড়েছে এই মুহূর্তে। রাজনৈতিক সংস্কারের অনেক দিনের প্রচেষ্টাগুলো আচমকা আটকে গেল সংসদে। গত দুই বছরের যাবতীয় আয়োজনের অনেকাংশ নিষ্ফলে গেল বলা যায়। রাষ্ট্র সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ দাবিদাওয়াগুলো আবার জিরো পয়েন্টে এসে দাঁড়িয়েছে। নীরব একটা প্রশ্ন চারদিকে ঘুরপাক খাচ্ছে—এ অবস্থায় করণীয় কী?


১৯৪৭–এর আগস্টেই আমরা শুনেছি ‘এ আজাদি ঝুটা হ্যায়’। ঔপনিবেশিক প্রশাসন, আইনি কাঠামো এবং উৎপাদন সম্পর্কের আমূল সংস্কারের তাগিদ ছিল ওই স্লোগানের মর্মকথা। সেই ধারাবাহিকতায় ‘সাম্য-মৈত্রী-মানবিক মর্যাদা’র জন্য ২৩ বছর পর ব্যাপক রক্ত দিল বাংলাদেশ। স্বাধীনতা এল, কিন্তু মুক্তির প্রচেষ্টা চালু রাখতে হলো।


১৯৯০–এর গণ–অভ্যুত্থান শেষেও তখনকার ‘ছাত্র সংগ্রাম পরিষদে’র ১০ দফার কোনো সুরাহা হলো না। এরপর, মূলত ২০১৮ সালের সড়ক আন্দোলন থেকে রাষ্ট্র মেরামতের তাগিদ আবার জোরালো হয়ে উঠল। যার রক্তাক্ত অভিপ্রকাশ দেখা গেল ২০-২১ মাস আগে। কিন্তু রক্তের দাগ না শুকাতেই যেন ১৯৭২ ও ১৯৯১–এর চেহারা নিতে শুরু করেছে ২০২৬।


বীর মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করে রাজনীতিবিদের হাতে অস্ত্র ও আস্থা জমা দিয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন ১৯৭২-এ। বদল—বদল পায়নি অর্থনৈতিক সম্পর্কের, প্রশাসনিক সংস্কৃতির। নব্বইয়ে ছাত্ররা সামরিক জান্তাকে হটিয়ে তিনটি রাজনৈতিক জোটের কাছে ‘১০ দফা’ করণীয় দিয়ে নানা পেশায় ঢুকে গিয়েছিল। পরে কেবল দুটি বড় দলের কাজিয়া দেখে সময় গেছে তাদের।


২০২৪–এর আগস্টে আন্দোলনকারীরা একনায়কতন্ত্র হটিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের দায়িত্ব দিয়েছিল নিজেদেরই নিযুক্ত ‘সরকারে’র হাতে। সেই সরকার নিজে থেকে কিছুই করতে পারল না—গণভোটের মাধ্যমে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার কয়েক চিমটি পাঠাল ত্রয়োদশ সংসদে এবং সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিভিন্ন কারিগরি ত্রুটিবিচ্যুতির কথা বলে পরিবর্তনমুখী অধ্যাদেশগুলোর অক্সিজেন মাস্ক খুলে নিল। চারটি এখনই বাতিল করল, গুরুত্বপূর্ণ অপর ১৬টিকে সংশোধনের আশ্বাস দিয়ে সেগুলোরও কার্যকারিতা আপাতত বিলোপ করা হলো।


জাতীয় সংসদে সংস্কারধর্মী এসব অধ্যাদেশ পাস হলেও যে বাংলাদেশ রাষ্ট্র আমূল জনকল্যাণধর্মী চেহারা পেত বা রাজনৈতিক-অর্থনীতিতে বড় বদল ঘটে যেত, তা নয়। সেগুলো পাস না করার পরোক্ষ ফলাফলই বরং বেশি তাৎপর্যবহ। এতে ‘লাল জুলাই’য়ের নৈতিক ও আদর্শিক শিকড়ে বড়সড় একটা কোপ পড়ল। ‘সমাজে’ এমন ভাবনাই ছড়াল, ‘এত কিছুর পরও যখন সামান্য কয়েক কদমও এগোনো গেল না, তাহলে আর এ দেশে কিছু হবে না।’


এ রকম মুহূর্তটা শক্তিশালী ব্যবসায়ী অলিগার্কি সমাজ, সামরিক-বেসামরিক আমলাতন্ত্র, কলোনিয়াল পেনাল কোডসহ মূর্ত-বিমূর্ত সবার জন্য কেবল সুখকর নয়, উল্লাস করার মতো। ক্ষমতাচ্যুতরাও হয়তো মুচকি হাসছে।


সংসদে কোনো দল একচেটিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে কী ঘটে, তার একটা নজির নতুন সংসদের শুরুতেই দেখল বাংলাদেশ। ২০টি প্রয়োজনীয় অধ্যাদেশের অকার্যকারিতা বিরোধী দলগুলো ঠেকাতে পারেনি। ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেওয়া পর্যন্তই তাদের ভূমিকা।


রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন কী ঘটবে, সেটাও অনুমান অযোগ্য নয়। ‘তীব্র আন্দোলনে’র হুমকি দিয়ে বিরোধী দলগুলো কিছু মিটিং-মিছিল করবে। গণ-অভ্যুত্থানের মালিকানা নিয়ে রাজপথ কিছুটা উত্তপ্ত হবে। গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতারও অভিযোগ উঠবে। এ রকম ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ ২০২৪–এর আগস্টেই ঘটে গিয়েছিল কি না, সেই অনুসন্ধানে আপাতত কারও আগ্রহ থাকবে না। সংসদে জ্বালাময়ী অনেক ভাষণ হবে এবং ভাষণ শেষে ওয়াকআউটও হবে। একপর্যায়ে আবারও কিছু ‘কমিশন’ গঠিত হবে সংস্কারের বিষয়-আশয় খুঁজতে।


এটা অনেকটা স্বাধীনতার পর থেকে শিক্ষা ও স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন গঠনের মতো। প্রায় সব নির্বাচিত সরকার একটা করে শিক্ষা কমিশন করেছে; কিন্তু শিক্ষাকাঠামোর প্রত্যাশিত সংস্কারে কেউ হাত দেয়নি। স্থানীয় সরকার এবং পুলিশ প্রশাসনের বেলাতেও একই ঘটনা ঘটেছে। করুণ এই ইতিহাসের হাস্যকর সর্বশেষ উদাহরণ ছিল বিগত আমলে আইনশৃঙ্খলা কাঠামোর সংস্কারের নামে পুলিশ বাহিনীর পোশাক পরিবর্তন। আমাদের পিএইচডিধারীরা এভাবেই ঔপনিবেশিক ঐতিহ্যকে জনবান্ধব করার কথা ভেবেছেন।


অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠন ও পথচলায় রাজনৈতিক দলগুলোর বেশ সহযোগিতা ছিল। যখনই বড় কোনো ‘মব’ ঘটত, তাৎক্ষণিক ‘এক দফা সম্মিলিত’ ফটোসেশন দেখা যেত। দক্ষিণপন্থা এবং স্থিতিশীলতা হাত ধরাধরি করে হাঁটতে চাইছিল।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও