You have reached your daily news limit

Please log in to continue


পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফর : পানিবণ্টনে সুরাহা কাম্য

আগামী ডিসেম্বরের ফারাক্কা চুক্তি নবায়নকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আবারও এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফর শুধু একটি কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি হতে পারে একটি পুনর্নির্ধারণমূলক মুহূর্ত-যেখানে ইতিহাস, বাস্তবতা এবং জনমতের নতুন চাপ একসঙ্গে কাজ করছে। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের শিকড় নিহিত রয়েছে আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধে। ১৯৭১ সালে প্রায় এক কোটি শরণার্থী ভারতে আশ্রয় নেয় এবং ভারত সামরিক ও কূটনৈতিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামকে সমর্থন করে। ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়, যা ছিল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি বড় মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা। এ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট দুই দেশের সম্পর্ককে একটি বিশেষ মাত্রা দিলেও পরবর্তী দশকগুলোয় সম্পর্কের মধ্যে উত্থান-পতন অব্যাহত থাকে।

সীমান্ত বাস্তবতা নিজেই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের দৈর্ঘ্য প্রায় ৪,০৯৬ কিলোমিটার, যা দক্ষিণ এশিয়ার দীর্ঘতম স্থলসীমান্তগুলোর একটি। এ সীমান্তে বহু অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও সহিংসতা ঘটে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার তথ্যমতে, গত দুই দশকে শত শত বাংলাদেশি নাগরিক সীমান্তে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন, যার বেশির ভাগ ঘটনায় বিএসএফ-এর সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। ফলে সীমান্ত নিরাপত্তা শুধু একটি নিরাপত্তা ইস্যু নয়, বরং এটি জনমনে ক্ষোভ ও অবিশ্বাসের উৎস।

পানি কূটনীতি দুই দেশের সম্পর্কের সবচেয়ে সংবেদনশীল অধ্যায়গুলোর একটি। গঙ্গা নদীর পানিবণ্টন নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পর ১৯৯৬ সালে ৩০ বছরের জন্য ফারাক্কা চুক্তি সই হয়। এ চুক্তির আওতায় শুষ্ক মৌসুমে (জানুয়ারি থেকে মে) পানির ভাগ নির্ধারণ করা হয়। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অভিযোগ রয়েছে, বাস্তবে পানির প্রবাহ প্রায়ই চুক্তির প্রতিশ্রুতির তুলনায় কম থাকে। ফারাক্কা বাঁধ, যা ১৯৭৫ সালে চালু হয়, সেটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী, কৃষি এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হয়। এর পাশাপাশি রয়েছে তিস্তা নদীর পানিবণ্টন সমস্যা। তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে এক দশকেরও বেশি আলোচনা চললেও এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। তিস্তা অববাহিকায় ২ কোটিরও বেশি মানুষ বসবাস করে, যাদের জীবিকা কৃষিনির্ভর। শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় এ অঞ্চলে মারাত্মক সেচ সংকট দেখা দিয়েছে। ২০১১ সালে একটি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালেও ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক আপত্তির কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়।

অর্থনৈতিক সম্পর্কের দিক থেকে ভারত বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার। ২০২২-২৩ অর্থবছরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৫-১৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। তবে এ বাণিজ্যে ভারসাম্যহীনতা রয়েছে। বাংলাদেশের রপ্তানি যেখানে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার, সেখানে আমদানি ১২-১৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি। ভারত বাংলাদেশকে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দিলেও অ-শুল্ক বাধা এবং সীমান্ত অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা রপ্তানিকে সীমিত করে রেখেছে।

নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা ইস্যুটি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের এক অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং জটিল মাত্রা, যা শুধু রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি সরাসরি জনমত, আস্থার পরিবেশ এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর কার্যক্রম নিয়ে যে অভিযোগ, সন্দেহ এবং জনমানসে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে, তা সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে আরও তীব্র রূপ ধারণ করেছে।

ঐতিহাসিকভাবে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকা সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ভারতের জন্য বাংলাদেশ একটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী-ভৌগোলিক সংযোগ, উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তা, বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যক্রম দমন এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের গুরুত্ব অপরিসীম। ফলে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সক্রিয় আগ্রহ থাকা স্বাভাবিক। তবে সমস্যা তখনই তৈরি হয়, যখন এ কার্যক্রমগুলোকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা হিসাবে দেখা হয়। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই একটি ধারণা বিদ্যমান যে, কিছু ক্ষেত্রে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রাজনৈতিক পছন্দ-অপছন্দ নির্ধারণে ভূমিকা রাখে, বিশেষ করে নির্বাচনি প্রক্রিয়া, সরকার গঠন বা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শক্তিকে সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে। যদিও এ অভিযোগগুলোর অনেক ক্ষেত্রেই প্রত্যক্ষ প্রমাণ জনসমক্ষে উপস্থাপিত হয়নি, তবুও জনমনে এ ধারণা গভীরভাবে প্রোথিত হয়েছে, যা বাস্তবতার চেয়েও বেশি প্রভাব ফেলছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন