ইরান যুদ্ধে কি তাহলে মার্কিন পরাশক্তির পতন ঘটতে যাচ্ছে?

প্রথম আলো তুষার কান্তি চাকমা প্রকাশিত: ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:১৩

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষের দিকে (১৯১৯ সালে) ফ্রান্সের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জর্জ ক্লিমেন্সু একটি বিখ্যাত উক্তি করেছিলেন, যা যুদ্ধ পরিচালনায় বেসামরিক ও সামরিক নেতৃত্বের মধ্যকার টানাপোড়েন বিষয়ে আলোকপাত করে। তিনি বলেছিলেন, ‘যুদ্ধ এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যেটি শুধু জেনারেলদের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়।’ এই উক্তিটি তাঁর সঙ্গে ফরাসি সেনাপ্রধান তথা মিত্রবাহিনীর সুপ্রিম অধিনায়ক মার্শাল ফারদিনান্দ ফসের সম্পর্কের তিক্ততার বহিঃপ্রকাশ মাত্র।


যুদ্ধকে সংজ্ঞায়িত করেছেন প্রুশীয় সামরিক তাত্ত্বিক কার্ল ফন ক্লজউইৎজ। তিনি বলেছেন, যুদ্ধ একটি রাষ্ট্রের রাজনীতির লক্ষ্য অর্জনের বিকল্প ব্যবস্থা (কন্টিনিউয়েশন অব পলিটিকস বাই আদার মিনস)। সুতরাং যুদ্ধের সিদ্ধান্ত, যুদ্ধের লক্ষ্য নির্ধারণ, যুদ্ধ শেষ করা রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্ব সামরিক নেতৃত্বের নয়।


আর্ট অব ওয়ার নিয়ে লেখা দুজন ব্যক্তি—কয়েক হাজার বছরের ফারাক হলেও—মোটামুটি একই বিষয়ের ওপর মনোযোগ দিয়েছেন। সান জু (৫৫৪ খ্রিষ্টপূর্ব) ও কার্ল ফন ক্লজউইটজ (১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দ) দুজনেই বলেছেন, সামরিক বাহিনী তাঁদের সিভিল বা রাজনৈতিক নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। রাষ্ট্রের সফলতা সিভিল-মিলিটারি সম্পর্কের ভারসাম্যের ওপর বহুলাংশে নির্ভরশীল।


এর ভারসাম্য রক্ষা যেকোনো রাষ্ট্রীয় লক্ষ্য অর্জনের চাবিকাঠি। সামরিক বাহিনী বেসামরিক নেতৃত্বে পরিচালিত হতে হবে, নইলে এর ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভবপর নয়। দুটি বিষয় পারস্পরিক সাংঘর্ষিক মনে হলেও আসলে তা সম্পূরক। রাষ্ট্রনায়ককে হতে হবে রাজনৈতিক ব্যাপারে পারদর্শী এবং সামরিক ব্যাপারে কার্যকর জ্ঞানের অধিকারী। তেমনি সমরনায়ককে হতে হবে সামরিক বিদ্যায় পারদর্শী এবং রাজনৈতিক ব্যাপারে কার্যকর জ্ঞানের অধিকারী।


এ ধরনের রাষ্ট্রে রাষ্ট্রনায়ক যখন যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নেবেন, তখন তাঁরা বুঝেশুনেই নিতে পারবেন। যুদ্ধের সময় নির্ধারণ, এর উদ্দেশ্য, অর্জনযোগ্য লক্ষ্য নির্ধারণ এবং যুদ্ধ শেষ করার শর্ত বা অবস্থা নির্ধারণ করবেন এবং এ বিষয়ে সমরনায়কদের উপদেশ বা পরামর্শ চাইবেন। এসব বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা ছাড়া যুদ্ধে জড়ালে তাতে জয়লাভ সম্ভব হবে না।


স্বভাবতই একটি বিষয় আলোচনায় চলে আসছে। সিভিল-মিলিটারি সম্পর্ক রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের কার্যকর সমন্বয়ের একটি দিক। একটি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামরিক সক্ষমতা এ বিষয়ের ওপর বহুলাংশে নির্ভরশীল। সামরিক বিষয়কে গুরুত্ব না দিয়ে যুদ্ধে নামা আত্মহত্যার শামিল। সমরনায়কদের উপদেশ না শুনে কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ছাড়া যুদ্ধে নেমে পড়লে পরে আর বের হওয়ার পথ খুঁজে পাওয়া যায় না।


সিভিল-মিলিটারি সম্পর্কের একটি আদর্শ উদাহরণ ১৯৭১ সালে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ও ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল মানেকশের সম্পর্ক। জেনারেল মানেকশ চাকরিচ্যুত হওয়ার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সাহসের সঙ্গে ভারতীয় সেনাবাহিনীর দুর্বলতা তুলে ধরেন এবং প্রস্তুতি ছাড়া পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ালে পরাজয় হওয়ার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।


ইন্দিরা তাঁর সেনানায়কের উপদেশ অনুযায়ী যুদ্ধের সময় পিছিয়ে দেন এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীকে প্রস্তুতির সময়, সেনাবাহিনীতে যুদ্ধে আহত বা নিহত হলে সরকারি সহায়তার নিয়মকানুনের পরিবর্তন করেন এবং বাজেট বরাদ্দ দেন। এতে সেনাবাহিনীর মনোবলের উন্নতি হয় এবং সরকারের প্রতি সমর্থন বেড়ে যায়। মাত্র ১২ দিনে যুদ্ধ শেষ হয় এবং ভারতীয় বাহিনীর বিশাল বিজয় হয়।


১৯৯১ সালের ডেজার্ট স্টর্ম যুদ্ধে কুয়েত থেকে ইরাকি বাহিনীকে বিতাড়িত করে মার্কিন বাহিনী পুরো ইরাক দখল করতে পারত, কিন্তু সেটি পরিকল্পনার অংশ ছিল না বলে জেনারেল সোয়ার্জকফ তা করতে সবাইকে নিরুৎসাহিত করেছিলেন। কুয়েত মুক্ত করে যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জিত হয়ে গেলে যুদ্ধ শেষের ঘোষণা করা হয়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও