ষড়ঋতুর দেশে ছন্দপতন: কৃষি ও পরিবেশের ভবিষ্যৎ কী

জাগো নিউজ ২৪ রাধেশ্যাম সরকার প্রকাশিত: ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:১৪

বাংলাদেশ একসময় তার ষড়ঋতুর বৈচিত্র্যময় রূপের জন্য পরিচিত ছিল, যেখানে প্রতিটি ঋতু নিজস্ব ছন্দ ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে আবির্ভূত হতো। কৃষকরা এই প্রাকৃতিক ছন্দের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ফসলের বপন, পরিচর্যা এবং কাটার সময়সূচি নির্ধারণ করত। কিন্তু সাম্প্রতিক দশকে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে সেই প্রাকৃতিক ছন্দে দৃশ্যমান ব্যত্যয় ঘটেছে। ঋতুচক্রের স্বাভাবিকতা ভেঙে গিয়ে আবহাওয়ার আচরণে অনিশ্চয়তা, চরমতা এবং অসামঞ্জস্য ক্রমেই প্রকট হয়ে উঠছে। এর প্রভাব শুধু প্রকৃতিতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং জনস্বাস্থ্য, কৃষি উৎপাদন এবং সামগ্রিক পরিবেশগত ভারসাম্যের ওপর গভীর ছাপ ফেলছে।


বাংলাদেশের আবহাওয়ার সাম্প্রতিক প্রবণতা বিশ্লেষণ করলে একটি ক্রমবর্ধমান উদ্বেগজনক চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যেখানে ২০২৪ সালের একাধিক তাপপ্রবাহে তা ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল। সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এপ্রিলের শুরুতেই দেশের বহু অঞ্চলে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ শুরু হয়ে দ্রুত বিস্তৃতি লাভ করেছে এবং একপর্যায়ে তা ২৮টি জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৯.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।


একই সময়ে খুব অল্প ব্যবধানে তাপমাত্রার হঠাৎ বৃদ্ধি লক্ষণীয়, যেমন এক থেকে দুই এপ্রিলের মধ্যে কোথাও কোথাও সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা প্রায় সাড়ে চার ডিগ্রি পর্যন্ত বেড়ে গেছে, যা আবহাওয়ার অস্বাভাবিক অস্থিরতার ইঙ্গিত বহন করে। অন্যদিকে শীতকালেও তীব্র শৈত্যপ্রবাহ সমানভাবে উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। ২০২৫ সালে দেশের উত্তর ও উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শৈত্যপ্রবাহ, ঘন কুয়াশা এবং তাপমাত্রা ৫ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসার ঘটনা এ পরিবর্তনের একটি প্রকট দৃষ্টান্ত। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতেও শীতকাল তুলনামূলকভাবে স্বল্পস্থায়ী হলেও প্রথম সপ্তাহে তীব্র ঠান্ডা অনুভূত হয়েছে, যার পরপরই বসন্তের শুরুতেই তাপমাত্রা দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠে, ফলে ঋতুর স্বাভাবিক রূপান্তর প্রক্রিয়ায় একটি স্পষ্ট অসামঞ্জস্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে।


এই তাপমাত্রার ওঠানামা কৃষির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের মতে, দেশের ২৮ জেলায় তাপপ্রবাহ বিস্তৃত হয়েছে, যেখানে চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৯.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এক ও দুই এপ্রিলের মধ্যে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা প্রায় সাড়ে চার ডিগ্রি পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। ধান ও আমের মতো প্রধান ফসলের ক্ষেত্রে এই তাপমাত্রার বৃদ্ধি ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করেছে।


ধানের জন্য আদর্শ তাপমাত্রা দিনের বেলায় ৩৫ ডিগ্রির নিচে, রাতের বেলায় ২৬ ডিগ্রির নিচে থাকলে উৎপাদন ভালো হয়। ৩৫ ডিগ্রির ওপরে তাপমাত্রা থাকলে ধান চিটা হয়ে যেতে পারে, তাই মাঠে অতিরিক্ত পানি ধরে রাখার প্রয়োজন পড়ছে। আমের ক্ষেত্রে, গাছে গুটি অবস্থায় থাকা আমের জন্য ২৫–৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস আদর্শ। এর চেয়ে উষ্ণ বা তীব্র তাপপ্রবাহ হলে গুটি ছোট হয়ে যেতে পারে এবং ঝরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের ফসলচাষে ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে এবং কৃষকের উৎপাদন খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করছে।


অস্বাভাবিক তাপমাত্রার ওঠানামা কেবল কৃষি উৎপাদনের জন্যই নয়, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং জনস্বাস্থ্যের জন্যও ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। গ্রীষ্মকালে তীব্র তাপপ্রবাহ এবং শীতকালে হঠাৎ শৈত্যপ্রবাহের কারণে মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সর্দি, জ্বর, তাপজনিত অসুস্থতা, হঠাৎ সংক্রমণ এবং বিভিন্ন শ্বাসনালীর সমস্যা সম্প্রতি তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং স্থানভেদে ভারী বৃষ্টিপাতের অসম সময়কাল ভূমির আর্দ্রতা হ্রাস করছে, যা কৃষি উৎপাদন, সেচ ও জল সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং প্রাকৃতিক বাস্তুসংস্থার দীর্ঘমেয়াদি ভারসাম্যকে গভীরভাবে বিঘ্নিত করছে। বরেন্দ্র অঞ্চল, উপকূলীয় এলাকা এবং নদীপথ অঞ্চলে এই অস্বাভাবিক আবহাওয়ার প্রভাব আরও প্রকট এবং এসব অঞ্চলে ফসলের ক্ষয়, পানির অভাব এবং মৃত্তিকার উর্বরতা হ্রাসের মতো সমস্যার মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও