বিপরীত স্রোতের জুবিন-রাহুলরাই কেন ডুবে মরছেন?

বিডি নিউজ ২৪ চারু হক প্রকাশিত: ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:১১

উড়িষ্যার এক সমুদ্র সৈকতে মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে পশ্চিম বঙ্গের শক্তিমান অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। গত ২৯ মার্চ এই শোকাবহ ঘটনার মাত্র ছয় মাস আগে, ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরের এক দ্বীপ-উপকূলে সাঁতার কাটতে গিয়ে প্রাণ হারান আসামের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী জুবিন গার্গ। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, পানিতে ডুবেই তার মৃত্যু হয়েছে। দৃশ্যত ভিন্ন দুই স্থানে ঘটলেও, প্রায় অভিন্ন ও রহস্যময় পরিস্থিতিতে সংঘটিত এই দুটি মৃত্যুকে সরকারিভাবে দুর্ঘটনা বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।


তবে এই দুর্ঘটনার বয়ান যতটা সরলভাবে উপস্থাপিত ও প্রতিষ্ঠিত, সচেতন মনে তার প্রতিক্রিয়া ততটাই জটিল ও বহুস্তরীয়। প্রশ্ন উঠেছে, কেন দুজন প্রভাবশালী ও মতপ্রকাশে সাহসী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বকে প্রায় অভিন্ন পরিস্থিতিতে প্রাণ হারাতে হলো? এই প্রশ্নের সূত্র ধরেই আলোচনার কেন্দ্র সরে যায় জুবিন ও রাহুলের শিল্পচর্চার গণ্ডি ছাড়িয়ে তাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থানের দিকে। এই অবস্থানই তাদেরকে সাধারণ শিল্পীর চেয়ে ভিন্নতর এক উচ্চতায় আসীন করেছে।


ক্ষমতার কাঠামো সবসময় সরাসরি দমন-পীড়নের পথে না হেঁটে; অনেক সময় তা নীরব মনস্তাত্ত্বিক পদ্ধতিতে ভিন্নমতকে সর্বস্বান্ত করে। কারণ, প্রকাশ্য আঘাত সহসা জনরোষ তৈরি করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক স্তরে নিন্দার ঝড় তুলে খোদ ক্ষমতা কাঠামোকেই টামমাটাল করে দিতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী মানসিক অবদমন একজন সৃষ্টিশীল ব্যক্তিকে ভেতর থেকে কুরে কুরে খেয়ে তার আত্মবিশ্বাস, সাধারণ সতর্কতা এবং তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে ধীরে ধীরে ক্ষয়ে করে একপর্যায়ে নিঃশেষ করে ফেলে।


আসামের লতাশিল মাঠে ভারতের বহুল বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনবিরোধী সমাবেশে গান গাইছেন জুবিন গার্গ।
আসামের শিল্পী জুবিন গার্গ ভারতের বহুল বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে শামিল ছিলেন, গানের ভাষায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন। রাহুল অরুণোদয় তার লেখালেখিতে বরাবর মানবমুখী প্রগতিশীল অবস্থান বজায় রেখেছেন। এসবের মধ্য দিয়ে দিনে দিনে তারা নিজেদের শিল্পী সত্তা অতিক্রম করে বিকল্প এক সামাজিক চেতনার প্রতিনিধিতে পরিণত হয়েছেন। এই অবস্থানই তাদেরকে একদিকে মানুষের কাছে আশ্রয় ও ভরসার প্রতীক করেছে, অন্যদিকে প্রচল ক্ষমতা কাঠামোর জন্য অস্বস্তির কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। আর, এখান থেকেই জন্ম নেয় সেই নীরব ও অদৃশ্য চাপের বলয়, যা একজন সৃষ্টিশীল ব্যক্তিকে একসময় নিজের যাপিত জীবনের ভেতরেই অনিরাপদ ও একাকী করে তোলে।


এই অদৃশ্য চাপের বলয়কে সমাজবিজ্ঞানের ভাষায় ‘স্ট্রাকচারাল লোনলিনেস’ বা কাঠামোগত একাকীত্ব বলে। এর অর্থ হলো, একজন মানুষ সরাসরি কোনো আক্রমণের শিকার না হয়েও ধীরে ধীরে তার স্বাভাবিক সামাজিক পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে। এটি ঘটে পরিকল্পিতভাবে–কখনো কুৎসা রটিয়ে তার ভাবমূর্তি নষ্ট করা হয়, কখনো তার কাজের জায়গায় অদৃশ্য বাধা তৈরি করা হয়, আবার কখনো এমন এক পরিবেশ গড়ে তোলা হয়, যেখানে তার কাছে সবসময় নজরদারির মধ্যে আছেন বলে মনে হয়।


কাঠামোগত এই একাকীত্বের প্রভাব শুধু ব্যক্তিগত নয়, টার্গেট ব্যক্তিবর্গের পেশাগত ও সামাজিক জীবনেও গভীরভাবে প্রভাব ফেলে। দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিবেশে থাকতে থাকতে একজন মানুষ তার স্বাভাবিক আত্মবিশ্বাস হারাতে শুরু করেন। তার চারপাশের মানুষের প্রতি আস্থা কমে যায়, সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় দ্বিধা বাড়ে, এমনকি নিজের বিচারক্ষমতার ওপরও সন্দেহ তৈরি হতে পারে। এতে করে ব্যক্তি ধীরে ধীরে একটি মানসিক চক্রে আটকে পড়েন, যেখানে চাপ, অনিশ্চয়তা এবং একাকীত্ব একে অপরকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। মনোবিজ্ঞানেও এর প্রমাণ মেলে। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ মানুষের মস্তিষ্কের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে সরাসরি প্রভাবিত করে। বিশেষ করে ‘রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট’ বা ঝুঁকি মূল্যায়নের ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে ব্যক্তি অনেক সময় পরিস্থিতির সম্ভাব্য বিপদ পুরোপুরি বিবেচনা না করেই হঠাৎ কোনো অবিমৃশ্যকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। বলার অপেক্ষা রাখে না, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এ ধরণের আচরণ যতটা না ইচ্ছাকৃত বা বেপরোয়া, তারচেয়ে বেশি তাদের দীর্ঘকালীন ক্লান্ত মানসিক অবস্থার একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।


এই জায়গাতেই ফ্রয়েডের ‘থানাটোস’ ধারণাটি এক ধরণের ব্যাখ্যা হাজির করে। মানুষের ভেতরে কখনো কখনো এমন একটি প্রবণতা কাজ করে, যা তাকে অচেতনভাবেই অভাবিত কোনো ঝুঁকির দিকে টানে। এটা অবশ্য ব্যক্তির আত্মবিনাশের আকাঙ্ক্ষা নয়; এই প্রবণতা দীর্ঘদিনের মানসিক অবরুদ্ধতা থেকে বেরিয়ে আসার তাগিদ থেকে তৈরি হয়। যখন কারও কাছে ঘটমান বাস্তবতা অসহনীয় মনে হয়, তখন সে এমন আচরণ করে বসে–যা তাকে সাময়িকভাবে মুক্তির অনুভূতি দিলেও, বাস্তবে তা বিপদ ঘটায়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও