প্রতিরোধের সুযোগ ছিল, তবুও মৃত্যু : হামে শিশু হারানোর দায় কার?

জাগো নিউজ ২৪ ড. হারুন রশীদ প্রকাশিত: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:০৭

বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আবারও হাম-এর প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। একসময় টিকাদানের মাধ্যমে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসা এই সংক্রামক রোগ নতুন করে ফিরে আসছে—যা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। প্রশ্ন হচ্ছে: কোথায় আমাদের গাফিলতি ছিল, কেন এই রোগ আবার ছড়িয়ে পড়ছে, এবং কীভাবে এর থেকে মুক্তি সম্ভব?


বাংলাদেশ যেখানে ২০২৬ সালের মধ্যে হাম নির্মূল করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল, সেখানে বর্তমানে দেশ এক নজিরবিহীন মহামারির মুখে দাঁড়িয়ে। বছরের শুরু থেকে ৩ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত সারা দেশে ৫,৭৯২ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, যার মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ৭৭১ জনের। বিশেষ করে মার্চ মাসে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘতর হয়েছে, যা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতাকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে।


দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে অন্তত ৫৬টিতে হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। সংক্রমণের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, বরিশাল, রাজশাহী, পাবনা এবং কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে। ঢাকার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল এবং বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের মতো বিশেষায়িত হাসপাতালগুলো এখন রোগীর চাপে বিপর্যস্ত। অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের শয্যা না পেয়ে বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।


হাম কী এবং কেন এটি ভয়ংকর


চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, তবে টিকা না নেওয়া প্রাপ্তবয়স্করাও আক্রান্ত হতে পারেন। এর লক্ষণ হিসেবে জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, এমনকি মস্তিষ্কে প্রদাহ (এনসেফালাইটিস) হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, হাম প্রতিরোধযোগ্য রোগ হলেও টিকাদানের ঘাটতি থাকলে এটি দ্রুত মহামারির রূপ নিতে পারে।


কেন মারা যাচ্ছে শিশুরা?
হাম নিজে যেমন বিপজ্জনক, তেমনি এটি শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। মৃত শিশুদের বেশিরভাগই অপুষ্টিতে ভুগছিল এবং তাদের কারোরই টিকার ডোজ পূর্ণ ছিল না। এছাড়া নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কের প্রদাহ এবং তীব্র ডায়রিয়া হামের পরবর্তী জটিলতা হিসেবে শিশুদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। জেলা শহরগুলোতে আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর সংকটের কারণে অনেক শিশুকে বাঁচানো সম্ভব হচ্ছে না।


দুই.
কোথায় ছিল গাফিলতি?


১. টিকাদানে অনিয়ম ও ঘাটতি


হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এমআর (Measles-Rubella) টিকা। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, শিশুরা সময়মতো টিকা পায় না। শহরের বস্তি এলাকা বা প্রত্যন্ত অঞ্চলে টিকাদানের কাভারেজ এখনও সন্তোষজনক নয়। অনেক অভিভাবক টিকার গুরুত্ব বুঝতে না পারা বা অবহেলার কারণে শিশুদের টিকা দেন না।


২. ভ্রান্ত ধারণা ও গুজব


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টিকা নিয়ে নানা ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। কিছু মানুষ মনে করেন টিকা দিলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বেশি হয়, যা বৈজ্ঞানিকভাবে ভুল। এই ধরনের গুজব টিকাদান কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করছে।


৩. স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতা


কিছু ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে টিকার ঘাটতি, দক্ষ জনবলের অভাব এবং তদারকির দুর্বলতা দেখা যায়। নিয়মিত মনিটরিং না থাকলে টিকাদানের অগ্রগতি ঠিকভাবে মূল্যায়ন করা যায় না।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও