পাবলিক পরীক্ষা নিয়ে ভাবনা

www.ajkerpatrika.com বিমল সরকার প্রকাশিত: ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:৪২

পাবলিক পরীক্ষা, তার ফলাফল নিয়ে এবং আরও স্পষ্ট করে বললে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে মাঝেমধ্যে যে কাণ্ডকারখানা দেখা যায়, তা খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত, অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক। এর মাশুল দিতে হয় লাখ লাখ শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ গোটা জাতিকে। ফলে বছরের পর বছর জাতির অপরিমেয় অর্থ, মেধা ও সময়ের অপচয় ঘটে থাকে। বিষয়টি নিয়ে সত্যিকার অর্থে সরকারের কোনো মাথাব্যথা আছে বলে মনে হয় না।


স্বাধীনতা লাভের পর বিগত ৫৫ বছরে অনুষ্ঠিত এসএসসি-এইচএসসি ও সমমানের পাবলিক পরীক্ষায় পাসের হারে ব্যাপক ও অবিশ্বাস্য রকমের উত্থান-পতনের ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে।


বিভিন্ন সময়ে দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সরকারের শাসনামলে একেকটি পাবলিক পরীক্ষায় ৮০-৮২ শতাংশ, এমনকি কোনো কোনো বছর এরও বেশি পরীক্ষার্থী ফেল করেছে! অবশ্য ফল বিপর্যয়ের রকমফেরও রয়েছে। কখনো বিপর্যয় ঘটেছে বোর্ডভিত্তিক, কখনো আবার বিভাগভিত্তিক (মানবিক, বিজ্ঞান বা ব্যবসায় শিক্ষা)। এ ছাড়া কিছুসংখ্যক প্রতিষ্ঠানে যেমন শতভাগ পরীক্ষার্থী পাস করেছে, তেমনি প্রতিবছর এমন অনেক প্রতিষ্ঠানে একজন পরীক্ষার্থীও পাস না করার সংবাদ পাওয়া গেছে।

ফল বিপর্যয়ের নমুনা হিসেবে এখানে কয়েকটি দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করা হলো—আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ‘ঐকমত্যের’ সরকারের (১৯৯৬-২০০১) আমলে সর্বশেষ এসএসসি পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হয় ২০০১ সালে। সাতটি বোর্ডের অধীনে পৌনে ৯ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করে গড়ে শতকরা ৩৫.২২ শতাংশ। গত বছর অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই ফেল করে। ১০ বছর লেখাপড়া করার পর জীবনের প্রথম পাবলিক পরীক্ষার এমন ফলাফল খুবই অপ্রত্যাশিত ছিল। কারণ, স্বাধীনতা লাভের পর থেকে দীর্ঘ সময় এ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা তো কম হয়নি। কোমলমতি কিশোর-কিশোরীদের এ এক হতাশাজনক পরিণতি। ২০০১ সালে শতকরা হিসাবে বোর্ডভিত্তিক এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ঢাকা-৪৩.৫০, কুমিল্লা-৩০.৯৬, যশোর-৩৬.১৮, রাজশাহী-২৬.৭৪, চট্টগ্রাম-৪৪.৮৮, বরিশাল-৩৪.৮০ ও সিলেট বোর্ডে ৩৯.০৩ শতাংশ। পাসের হারে সর্বোচ্চ চট্টগ্রাম বোর্ডে ছিল ৪৪.৮৮ শতাংশ আর সর্বনিম্ন রাজশাহী বোর্ডে ছিল ২৬.৭৪ শতাংশ। একই চিত্র দেখা গেছে ২০০১ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ক্ষেত্রেও। সাতটি বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৭১ হাজার ৯২৩ জন। পাস করেছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৩৫৮ জন। সাত বোর্ডে গড়ে পাসের হার ছিল ২৬.১১ শতাংশ। তার মানে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় তিন-চতুর্থাংশই ফেল করেছে। কলেজ স্তরে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে দুই বছর পড়াশোনা করে এমন হতাশাজনক ফলাফল ভাবা যায়? এ কোন দুষ্টব্যাধির আঁচড় পড়েছিল আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার ওপর? উল্লিখিত পরীক্ষায় বোর্ডভিত্তিক পাসের হার ছিল ঢাকা-৩৫.৩৯, রাজশাহী-২৪.৭৬, সিলেট-৩০.৬৩, কুমিল্লা-১৮.২৭, যশোর-৩৪.৬৪, চট্টগ্রাম-২৩.৮৮ ও বরিশাল বোর্ডে ১৮.৮৫ শতাংশ। ২০০১ সালের এসএসসির মতোই এইচএসসি পরীক্ষায়ও পাসের হারে ব্যাপক ব্যবধান লক্ষণীয়। সর্বোচ্চ ঢাকা বোর্ডের ৩৫.৩৯ শতাংশের বিপরীতে কুমিল্লা বোর্ডে সর্বনিম্ন ছিল ১৮.২৭ শতাংশ। ওই বছর পাসের হারের ব্যবধান ছিল আকাশ-পাতাল। কোথায় ৩৫.৩৯ আর কোথায় ১৮.২৭ শতাংশ! এ যেন এক রাহুর দশা। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার কোনো কার্যকর চেষ্টা কখনো করা হয়েছে কি?

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও