নিষেধাজ্ঞা বনাম ইরান ও রাশিয়ার অর্থনীতি
ওয়াশিংটন যখন মনে করেছিল, নিষেধাজ্ঞার শিকলে বেঁধে ফেলা হয়েছে তেহরান ও মস্কোকে; তখন এ দুই রাষ্ট্র পর্দার আড়ালে নির্মাণ করে চলেছিল এক ভিন্নতর অর্থনৈতিক স্থাপত্য। ক্রিপ্টোকারেন্সির ডিজিটাল গলিপথ থেকে হাজার বছরের পুরোনো হাওলা নেটওয়ার্ক। এ সমান্তরাল অর্থনীতি আজ শুধু বেঁচে থাকার কৌশল নয়, বরং বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে একটি সুচিন্তিত প্রত্যাঘাত।
ইরানের চার দশকের প্রতিরোধ
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ইরান পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি। এ দীর্ঘ চার দশকের অভিজ্ঞতাই ইরানকে করে তুলেছে বিশ্বের সবচেয়ে পরিশীলিত ‘নিষেধাজ্ঞাপ্রতিরোধী অর্থনীতি’র রূপকার। এটি কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নয়, বরং একটি পরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় স্থাপত্য; যার প্রতিটি স্তম্ভ নির্মিত হয়েছে সুচিন্তিতভাবে। সর্বোচ্চ নেতা খামেনিই ২০১০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিরোধ অর্থনীতির নীতিমালা ঘোষণা করেন। এর তিনটি মূল স্তম্ভ ছিল-আত্মনির্ভরতা, বৈচিত্র্য এবং অভিযোজনযোগ্যতা। ইবনে খালদুনের ‘আসাবিয়্যাহ’ তত্ত্বের মতোই এ দর্শন বিশ্বাস করে, বাহ্যিক চাপ একটি জাতিকে ভেতর থেকে আরও সংহত করে তোলে।
- ট্যাগ:
- মতামত
- ক্রিপ্টোকারেন্সি