পাঠাগারমুখী প্রজন্ম: আলোকিত আগামীর কারিগর
বই হলো মানুষের শ্রেষ্ঠ বন্ধু, জ্ঞানের আধার এবং সভ্যতার ধারক। মানুষের অর্জিত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা এবং ভাবনাকে এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে পৌঁছে দেয় বই। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায়, "বই হচ্ছে অতীত আর বর্তমানের মধ্যে বেঁধে দেওয়া সাঁকো।" আর এই সাঁকো বা জ্ঞানভাণ্ডারকে সুসংগঠিতভাবে সংরক্ষণ ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার নামই হলো লাইব্রেরি। 'লাইব্রেরি আন্দোলন' বলতে কেবল ইটের দালান নির্মাণ বোঝায় না; এটি মূলত বই পড়ার একটি নিরন্তর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জোয়ার সৃষ্টির প্রক্রিয়া। আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির যুগেও একটি আলোকিত জাতি গঠনে লাইব্রেরি আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা তাই অনস্বীকার্য।
লাইব্রেরি আন্দোলনের ঐতিহাসিক পটভূমি ও দর্শন
লাইব্রেরি আন্দোলনের ইতিহাস অতি প্রাচীন। মেসোপটেমিয়ার কাদামাটির চাকতি থেকে শুরু করে মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরি পর্যন্ত এর বিস্তার। তবে আধুনিককালে লাইব্রেরি আন্দোলন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায় উনিশ ও বিশ শতকে। বাংলাদেশে প্রমথ চৌধুরী ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ এই আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। প্রমথ চৌধুরী লাইব্রেরিকে স্কুলের চেয়েও উপরে স্থান দিয়ে বলেছিলেন, "লাইব্রেরি হচ্ছে হাসপাতালের চাইতেও বড় হাসপাতাল।" কারণ এটি মনের অসুখ সারিয়ে মানুষকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের "আলোকিত মানুষ চাই" স্লোগানে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি কার্যক্রম আমাদের দেশে এই আন্দোলনকে নতুন গতি প্রদান করেছে।