একাত্তরে গণহত্যা: মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব বাংলাদেশের কূটনৈতিক অর্জন

www.ajkerpatrika.com চিররঞ্জন সরকার প্রকাশিত: ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৪:০৬

একাত্তরের পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের এ দেশের দোসরদের দ্বারা পরিচালিত গণহত্যা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি বিস্মৃত ও বেদনাদায়ক অধ্যায়। সেই ইতিহাসকে ক্রমেই মুছে ফেলার একটা সচেতন চেষ্টা দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। যদিও এই গণহত্যাকে আন্তর্জাতিক পরিসরে যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্নটি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসে উত্থাপিত প্রস্তাব—যেখানে ১৯৭১ সালের ঘটনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গণহত্যা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে—এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রক্রিয়ায় এক নতুন গতি সঞ্চার করেছে। মার্কিন আইনপ্রণেতা গ্রেগ ল্যান্ডসম্যানের উদ্যোগে উত্থাপিত এই প্রস্তাব শুধু একটি কূটনৈতিক বা রাজনৈতিক পদক্ষেপ নয়; এটি ইতিহাসের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা, যা বিশ্ববিবেককে আবারও একাত্তরের দিকে তাকাতে বাধ্য করছে।


১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে অপারেশন সার্চলাইটের মাধ্যমে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী যে নির্মম অভিযান শুরু করেছিল, তা ছিল সুপরিকল্পিত, সংগঠিত এবং লক্ষ্যনির্দিষ্ট। বাঙালি জাতিসত্তাকে দমন এবং বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়কে নির্মূল করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত এই অভিযান ইতিহাসে এক নির্মম দৃষ্টান্ত হিসেবে চিহ্নিত। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, গ্রামাঞ্চল, এমনকি নিরীহ মানুষের ঘরবাড়িও এই হত্যাযজ্ঞ থেকে রক্ষা পায়নি। লাখ লাখ মানুষ নিহত হয়, অসংখ্য নারী নির্যাতনের শিকার হয় এবং কোটি মানুষ শরণার্থী হয়ে প্রতিবেশী দেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। এই প্রেক্ষাপটে তৎকালীন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন কনসাল জেনারেল আর্চার ব্লাড তাঁর বিখ্যাত ব্লাড টেলিগ্রাম-এ একে ‘সিলেকটিভ জেনোসাইড’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। তাঁর এই সাহসী প্রতিবেদন সে সময়ের মার্কিন প্রশাসনের অবস্থানের সঙ্গে তীব্র বৈপরীত্য সৃষ্টি করেছিল।

তৎকালীন রিচার্ড নিক্সন এবং হেনরি কিসিঞ্জারের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থে পাকিস্তানের প্রতি সমর্থন বজায় রেখেছিল। ঠান্ডা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক উন্নয়নের কৌশলগত বিবেচনা পাকিস্তানকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্রে পরিণত করেছিল। ফলে মানবিক বিপর্যয়ের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছিল কৌশলগত স্বার্থ। এই স্বার্থের কারণে মার্কিন প্রশাসন পাকিস্তানের পক্ষ নিয়ে গণহত্যা চালানোর ঐতিহাসিক সত্যকে অস্বীকার করে আসছিল।

এই প্রেক্ষাপটে ল্যান্ডসম্যানের প্রস্তাবটি ইতিহাসের সেই নৈতিক শূন্যতা পূরণের একটি প্রয়াস। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে ১৯৭১ সালে সংঘটিত সহিংসতা জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ গণহত্যা। তাঁর বক্তব্যে যে দৃঢ়তা প্রতিফলিত হয়েছে, তা শুধু অতীতের ভুল স্বীকার নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য একটি নীতিগত অবস্থান নির্ধারণ করে। এই প্রস্তাব আন্তর্জাতিক মহলে একটি বার্তা দেয় যে দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত কোনো সত্যই চিরকাল চাপা থাকে না।


এই আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো একাত্তরের ঘাতক শক্তিগুলোর ভূমিকা এবং তাদের বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা। পাকিস্তানি বাহিনীর পাশাপাশি এদেশীয় সহযোগী সংগঠনগুলো—বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের সহায়ক বাহিনী আলবদর ও আলশামস—এই হত্যাযজ্ঞে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিল। তারা শুধু তথ্য সরবরাহ বা সহায়তা করেই ক্ষান্ত থাকেনি; বরং বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডসহ নানা নৃশংস কর্মকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিল। ফলে একাত্তরের বিচার প্রসঙ্গে এই সংগঠনগুলোর ভূমিকা অনস্বীকার্য।


বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হলেও তা নিয়ে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নানা বিতর্ক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন দেখা গেছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন কংগ্রেসে উত্থাপিত প্রস্তাবটি বিচারপ্রক্রিয়াকে একটি আন্তর্জাতিক বৈধতা দিতে পারে। একই সঙ্গে এটি বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী অবস্থান হিসেবে কাজ করতে পারে, যা ভবিষ্যতে যেকোনো মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতাও এই আলোচনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে একাত্তরের বিরোধী শক্তিগুলোর পুনরুত্থান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও