You have reached your daily news limit

Please log in to continue


‘সমঝোতার সড়কে’ চাঁদাবাজি, অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা আর মৃত্যুর মিছিল

‘উত্তরাঞ্চল থেকে কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ, অতিরিক্ত ভাড়ার অভিযোগ’ শিরোনামে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের একটি খবরে চোখ আটকে গেল। খবরে বলা হয়েছে, রাস্তায় ঈদের ছুটি শেষে সিরাজগঞ্জসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের চাপ বেড়েছে। এই সুযোগে বাস মালিকরা সিরাজগঞ্জ থেকে যাত্রীপ্রতি ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া নিচ্ছে, যা দ্বিগুণের বেশি। মরিয়ম খাতুন নামের এক যাত্রীর বক্তব্যে গোটা ঈদ যাত্রায় মানুষের ভোগান্তির চিত্র ফুটে ওঠেছে। তিনি বলেছেন, “ঢাকা থেকে বাড়ি আসার সময় অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েছি। আবার ঢাকায় ফেরার পথেও অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হচ্ছে।”

বাংলাদেশের সড়কে ভোগান্তি নতুন কিছু নয়। শুধু মরিয়ম খাতুন নন; যাত্রীবাহী বাস থেকে মালামাল পরিবহন, সবক্ষেত্রে সড়কে অঘোষিত চাঁদা-বাণিজ্য চলে। সম্প্রতি বিবিসি বাংলাও একই বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে, সাতক্ষীরা থেকে মালামাল পরিবহন করা একটা ট্রাককে ঢাকায় ঢোকা পর্যন্ত অন্তত ছয় জায়গায় চাঁদা দিতে হয়। যেসব গাড়ি ফেরি পারাপার হয়ে ঢাকার দিকে আসে, তাদেরকে আরও বেশি জায়গায় চাঁদা দিতে হয়। যেমন ফেরিতে ওঠার লাইনে টাকা দিতে হয়, লাইন আগে-পিছে করতে গেলেও টাকা লাগে। যারা টাকা দেয় না, তাদেরকে ফেরির জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।

এখানেই শেষ নয়; শ্রমিক সংগঠনের নামে চাঁদা ওঠানো হয়, কোথাও কোথাও মালিক সংগঠনের নামে বছরের পর বছর ধরে চাঁদাবাজি চলে, টোলের নামে বহু পুরনো কালভার্টে নামে-বেনামে চাঁদা বাণিজ্য চলে। এর বাইরে শ্রমিক উন্নয়নের নামে জেলা শ্রমিক ইউনিয়ন যাত্রীবাহী পরিবহন থেকে চাঁদা তোলে। এটি ওপেন সিক্রেট যে, সড়কের নানা জায়গায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীকে চাঁদা না দিলে গাড়ির চাকা ঘোরে না।

নানামুখী চাঁদাবাজিতে সড়কে নামা মানুষের অবস্থা যখন বেহাল, এই বেহাল অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য যখন দৃঢ় আইনের শাসন দরকার, তখন নতুন নির্বাচিত সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, “সড়কে পরিবহন সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো সমঝোতার ভিত্তিতে যে অর্থ সংগ্রহ করে, সেটিকে তিনি চাঁদা হিসেবে দেখেন না। তবে কাউকে বাধ্য করে টাকা নেওয়া হলে সেটিই চাঁদা হিসেবে গণ্য হবে।”

সড়কে তীব্র যানজট, প্রয়োজনের তুলনায় পরিবহনের ঘাটতি এবং অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষের জীবন যখন জেরবার, ঈদের ঠিক আগে মন্ত্রীর এরকম বক্তব্য আগুনে ঘি ঢালা ছাড়া আর কিছু নয়। গত কয়েক বছরে হাজার হাজার কিলোমিটার পুরনো রাস্তা প্রসারণ, নতুন নতুন রাস্তাঘাট নির্মাণ, পদ্মাসেতু, কর্নফুলী টানেলের মত বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণ, আট লেনের ঢাকা-চট্টগ্রাম বা ঢাকা ময়মনসিংহ সড়ক থেকে শুরু করে ঈদের পূর্বে মানুষের নিরাপদে বাড়ি পৌঁছানোর সুবিধার্থে ছুটির সংখ্যা বৃদ্ধিসহ নানা উপায়ে যখন সড়কে খানিকটা শৃঙ্খলা ফিরে আসছিল, তখন মন্ত্রীর এই মন্তব্য সড়কে চলা চাঁদাবাজিকে বৈধতা দেওয়া ছাড়া আর কিছু নয়।

একটি সবজি বোঝাই গাড়িকে সাতক্ষীরা থেকে ঢাকায় ঢুকতে হলে যদি অন্তত ছয় জায়গায় চাঁদা দিতে হয়, তাহলে কোনটি চাঁদাবাজি আর কোনটি সমঝোতার মাধ্যমে ফি আদায়–সেটি কোন মানদণ্ডের মাধ্যমে নির্ধারণ হবে? কে ঠিক করে দেবে এই মানদণ্ড?

তারচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হল, পণ্য পরিবহণের সময় জায়গায় জায়গায় দেওয়া এসব চাঁদা ট্রাকের মালিক, হেলপার বা পণ্য ব্যবসায়ীকে বহন করতে হয় না; বরং দিনশেষে অতিরিক্ত মূল্যে পণ্য কেনার মাধ্যমে পুরো চাঁদার ভার ভোক্তাকে বহন করতে হয়। যাত্রীবাহী পরিবহনের ক্ষেত্রে যেটি বহন করতে হয় যাত্রীকেই। সমঝোতার মাধ্যমে টাকা আদায় হলে সে টাকা যাত্রীকে কেন বহন করতে হবে?

শুধু এটুকু বলেই ক্ষ্যান্ত হননি মন্ত্রী, ঈদের আগের দিন যখন ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া প্রায় প্রতিটি পরিবহন যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছিল বলে খবর আসছিল, ঠিক তখনই মহাখালী বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে গিয়ে মন্ত্রী বলে বসলেন যে, “নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কোথাও বেশি ভাড়াতো নেওয়া হচ্ছেই না,বরং কোথাও কোথাও ২০ থেকে ৫০ টাকা ভাড়া কম নেওয়া হচ্ছে।” এরপর মন্ত্রী যা বলেছেন সেটি ঈদের ছুটিতে ঘর থেকে বের হওয়া যাত্রীর গালে চপেটাঘাত, “চলার পথে যাত্রীদের একটা প্রবণতা আছে, যেহেতু আসন কম বাস কম এবং যাত্রী অনেক। তখন কেউ কেউ ১০০ বা ২০০ টাকা বেশি অফার করে নিজের স্বেচ্ছায় যেতে চাচ্ছেন।”

ঈদের ছুটির মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রীর কাছ থেকে এমন অহেতুক, বাস্তবতাবিবর্জিত মন্তব্য চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদেরকে প্রকারান্তরে প্রশ্রয় দেওয়া ছাড়া আর কি? স্বয়ং মন্ত্রীর পক্ষ থেকে এরকম মন্তব্যের পর সড়কে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার আর কোনো ভিত্তি থাকে না।

ফলে এবারের ঈদের ছুটির পরেও সড়কে অবাধ দুর্বৃত্তায়ন বেড়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিগত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভোগান্তির ঈদ যাত্রার সঙ্গে যোগ হয়েছে মৃত্যুর মিছিল। বাংলাদেশ রোড সেইফটি ফাউন্ডেশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৭ মার্চ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে কমপক্ষে ২৭৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। কোনো সন্দেহ নেই যে, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা খবরে প্রকাশিত সংখ্যার চেয়ে বেশি। এর মধ্যে কুমিল্লায় ট্রেনের সঙ্গে বাসের সংঘর্ষে ১২ জনের মৃত্যু, দৌলতদিয়ায় ফেরিতে ওঠার সময় নদীতে বাস ডুবে কমপক্ষে ২৭ জনের প্রাণহানি সড়কে চরম বিশৃঙ্খলার নজির ছাড়া আর কিছু নয়। এসব দুর্ঘটনায় কোনো কোনো পরিবারে একাধিক মৃত্যু, এক গ্রামে ৫ জনের মৃত্যুর মত ঘটনা মানুষকে শোকে বিহবল করেছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন