অসৎ আমলাদের মোকাবিলার চ্যালেঞ্জ

যুগান্তর খায়রুল কবির খোকন প্রকাশিত: ২৮ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৮

১৯৭৭ সালের ঘটনা। দৈনিক ইত্তেফাকের একজন পরিশ্রমী স্টাফ রিপোর্টার গেছেন প্রবীণ রাজনীতিক আতাউর রহমান খানের ধানমন্ডির বাসায়, বিনা অ্যাপয়েন্টমেন্টে। ওই রিপোর্টারের হাতে সময় ছিল না। তার সম্পাদকের নির্দেশ-‘যাও, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জীবন ও কর্মের সারসংক্ষেপ তৈরি করে রাখো; যাতে কোনো প্রবীণ ব্যক্তিত্ব গভীর রাতে হঠাৎ চির-ঘুমে চলে গেলে তোমার ‘অবিচুয়ারি রিপোর্ট’ তৈরিতে ঝামেলা পোহাতে না হয়। যত বেশি বয়সের নেতা, তত গুরুত্বের সঙ্গে তাদের জীবন ও কর্ম তৈরি করে রাখো।’ রিপোর্টার তখন সৌজন্যবোধ মাথায় তুলে রেখে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে পড়িমড়ি কাজ করলেন। প্রবীণ রাজনীতিক আতাউর রহমান খান অতি সজ্জন ব্যক্তিত্ব। ওই প্রতিবেদকের মতো তরুণকে পেলে নিশ্চয়ই বেজায় খুশি হতেন, হয়তো নিজের তারুণ্যের দিনগুলোতে ফিরে বিশেষ আনন্দ লাভ করতেন।


আমার বড় ভাইয়ের (প্রয়াত) ঘনিষ্ঠ বন্ধু ওই রিপোর্টারের কাছে জেনেছি ঘটনাটি। একজন বিখ্যাত রাজনীতিবিদ (পরে জাতীয় নেতা হয়েছিলেন) প্রবীণ জননেতা আতাউর রহমানকে অনুরোধ করেছিলেন-‘ভাই, আমলাদের সব কথা শুনবেন না। ওদেরকে দিয়ে কাজ করাতে হবে, সেটা তো অপরিহার্য ব্যাপার; কিন্তু তাদের পরামর্শ একদম শুনবেন না। কারণ ওরা রাজনীতিকদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালান সব সময়’ (সম্ভবত ঘটনাটি আতাউর রহমান খানের প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সময়কার)। জনাব খান ওই রিপোর্টারকে বলেছিলেন এবং আফসোস করেছিলেন-‘আমরা কেউই হয়তো সেই অভিমত সমর্থন করে সিদ্ধান্ত নেইনি, এমনকি যিনি আমাকে এ পরামর্শ দিয়েছিলেন, তিনি নিজেও তা অনুসরণ করতে পারেননি।’ আমলাতন্ত্র নিয়ে প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদও বেশ সতর্ক থাকার চেষ্টা করেছিলেন; কিন্তু তার মতো একজন শতভাগ সৎ অর্থমন্ত্রীকেও আমলারা এবং ‘নেতার-ভাগনে’ শেখ ফজলুল হক মণিসহ কিছু বিভ্রান্ত-নষ্ট-ভ্রষ্ট রাজনীতিক প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবকে দিয়ে মন্ত্রিসভা থেকে জবরদস্তি বের করে দিয়েছিলেন।


আমাদের রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান আমলাতন্ত্রকে ‘কাট-টু-সাইজ’ করতে সফল হয়েছিলেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াও এসব আমলাগোষ্ঠীর অপতৎপরতা ফেস করার জোর চেষ্টা চালিয়েছিলেন, কতটা সফল হয়েছিলেন বলা মুশকিল। এর আগে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সামরিক-বেসামরিক আমলাতন্ত্রকে প্রাধান্য দিয়েছেন। কারণ, ক্ষমতায় নির্ভয়ে কাটানোর জন্যে সেটা তার জন্য জরুরি ছিল।


বিএনপির চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে জিতে প্রমাণ করেছেন-তিনি রাজনীতি বোঝেন, তিনি শত্রু-মিত্র চিনতে পারেন, তাদের ফেস করতে পারেন। তিনি ৫১ দফা নির্বাচনি ইশতেহার নিয়ে ধারাবাহিক কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। পিতা সাবেক রাষ্ট্রনায়ক জিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করে দ্রুততায় এগোচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম ২৮ দিনে ২৮টি কর্মসূচি তিনি শুরু করে দিয়েছেন। ছুটির দিনেও অফিস করেন, যা আমলা ও মন্ত্রীদের জন্য শিক্ষণীয়। এসব উদ্যোগ তার পিতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়ার কর্মকাণ্ডের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।


কিন্তু আমরা সবাই জানি, সেই ব্রিটিশ উপনিবেশবাদী রাজত্বে যখন আমলাদের তৈরি করা হয়েছিল, তখনি তাদের দেশপ্রেমহীন, ব্রিটিশ আধিপত্যবাদীদের দালাল, সুবিধাভোগী, দুর্নীতিপরায়ণ, অদক্ষ হিসাবে গড়ে তোলা হয়েছিল। ব্রিটিশ সরকারের সেটাই কাজ ছিল-তা শতভাগ সত্য। এতে অবাক হওয়ার কিছুই নেই। মান্দার গাছে তো আম ফলবে না কখনো। আমাদের রাষ্ট্রের ‘আমলাতন্ত্র আর গণমানুষ কখনো এক সাথে খাবে না’। গণসংগীতের অন্যতম সম্রাট বলে খ্যাত মহান শিল্পী হেমাঙ্গ বিশ্বাসের সেই বিখ্যাত গান-‘থাকিলে ডোবাখানা হবে কচুরিপানা, বাঘে-হরিণে খানা একসাথে খাবে না, ও মরি, স্বভাব তো কখনো যাবে না...’ আমাদের তা স্মরণ করতেই হয়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও