স্কুলের ব্যায়ামাগার ও ক্রীড়াঙ্গন

কালের কণ্ঠ ইকরামউজ্জমান প্রকাশিত: ২৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩৯

বাবার চাকরিতে বদলিজনিত কারণে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের দিনগুলোতে কয়েকটি জেলা ও মহকুমা শহরের স্কুলে আমি পড়েছি। আমার বাবা ছিলেন ইস্ট পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসের প্রশাসন ও ক্যাডারের কর্মকর্তা। এখন থেকে ৬০ বছরেরও আগের দিনগুলোতে যেসব উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলে পড়েছি, সেগুলোর প্রতিটিতে ছিল ছোট ছোট জিমনেসিয়াম বা ব্যায়ামাগার। স্কুলের ছাত্র ছাড়াও বাইরে থেকে কলেজের সিনিয়র ছাত্রদের দেখেছি প্রতিদিন স্কুল ছুটির পর এই ব্যায়ামাগারে ব্যায়াম করতে।


স্কুলের লম্বা ছুটির দিনগুলোতেও ‘দপ্তরি’ ভাইরা সময়মতো ব্যায়ামাগারের দরজা খুলে দিতেন। এতে যারা নিয়মিতভাবে শরীরচর্চা করত, তাদের অভ্যাসে কোনো রকম ব্যত্যয় ঘটত না।


একটি স্কুলে তো তৎকালীন পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস ১৪ আগস্টে ছাত্রাবাসের পুকুরে সাঁতার কম্পিটিশন অনুষ্ঠিত হতো, আর বিকেলে অনুষ্ঠিত হতো স্কুলের ছাত্রদের মধ্যে শরীরচর্চা প্রদর্শনী। হেডস্যার বিজয়ীদের হাতে কাপ তুলে দিতেন।


তাঁকে সাহায্য করতেন স্কুলের গেম টিচার। পুরো স্কুল হুমড়ি খেয়ে পড়ত আন্তরিকতায় ভরপুর সেই অনুষ্ঠানস্থলে। উত্তরবঙ্গের প্রশস্ত রাস্তায় ফাল্গুনের শেষ বিকেলে গাড়ি দ্রুতগতিতে ছুটে চলেছে। কারণ সময়মতো পৌঁছতে হবে অনুষ্ঠানস্থলে।


স্কুলজীবনের বন্ধু, মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অবসরপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বললেন, ‘ফেলে আসা আমাদের সেই স্কুলের দিনগুলোর সঙ্গে এখন অনেক কিছুই মেলাতে পারবে না। সেই দিনগুলো সত্যি হারিয়ে গেছে। ভাবা যায়, আন্ত স্কুল খেলার খবর স্কুলের বেশির ভাগ ছেলে জানে না। একসময় আন্ত স্কুল কম্পিটিশনগুলো ছিল স্কুলের ছেলেদের জন্য উৎসব।’


খোঁজ নিয়ে জানা গেল, স্কুল থেকে ব্যায়ামাগার বিষয়টি অনেকটাই চুকে গেছে। জানানো হলো, ব্যায়ামাগারগুলো কোথাও শ্রেণিকক্ষে পরিণত হয়েছে। কোথাও স্কুলের ভাঙা বেঞ্চ আর টেবিলের গোডাউন। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে সঠিক তথ্য নেই বা কোন কোন স্কুলে ব্যায়ামাগার চালু আছে বা কী অবস্থায় আছে। ব্যায়ামাগারের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যাপারেটসের অভাবে কোথাও কোথাও ব্যায়ামাগারে তালা ঝুলছে। অ্যাপারেটস কেনার জন্য যে অর্থের প্রয়োজন, এই অর্থের জোগান দিতে পারছে না স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি। বেশির ভাগ স্কুল চলছে টানাটানির মধ্য দিয়ে।


জেলা পর্যায়ে স্কুলগুলোর ম্যানেজিং কমিটিতে যাঁরা আছেন, তাঁরা তো সমাজে সাধারণ কাতারের নন—তাঁরা যদি আন্তরিকতার সঙ্গে সবাই মিলে স্কুলগুলোর জিমনেসিয়ামের বন্ধ দরজা খোলার উদ্যোগ নেন, তাহলে সম্ভব। দরকার সচেতনতা এবং ছাত্রসমাজের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কিছু করার ইচ্ছা। স্কুলের জিমনেসিয়ামে তো দামি সরঞ্জামাদির প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন সাধারণ সরঞ্জামাদি, যা দিয়ে কাজ চলবে। উপস্থিত দু-একজনকে বলতে শুনেছি, এখন কি সেই দিন আছে, ব্যায়ামাগার চালু করলে স্কুলের উঁচু ক্লাসের ছেলেরা এটি ব্যবহার করবে! সমস্যা হলো কিশোর ও তরুণদের পড়তে পারার এক দলের ব্যর্থতা। স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা ক্রীড়াবিমুখ নয়। পরিবেশ-পরিস্থিতি তাদের ক্রীড়াবিমুখ করেছে। আর তাই তারা অবসর কাটাতে বাধ্য হচ্ছে বিভিন্নভাবে। শরীরচর্চার সুযোগ, খেলাধুলার সুযোগ থাকলে তারা ক্রীড়াচর্চায় মনোনিবেশ করত।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও