জ্বালানি ও ব্যাংক খাত মেরামতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে: ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

যুগান্তর ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য প্রকাশিত: ২৫ মার্চ ২০২৬, ০৯:৫০

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য দেশের অর্থনৈতিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ এবং সেগুলো মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে কথা বলেছেন যুগান্তরের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মোহাম্মদ কবীর আহমদ


নতুন সরকারের সামনে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো কী? এগুলো মোকাবিলায় সরকারের কী করণীয়?


ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য : নতুন সরকার একটি জটিল অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ভেতর দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এ পরিস্থিতির কিছুটা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া। আগের যে রাজনৈতিক সরকার ছিল, তাদের রেখে যাওয়া সমস্যার কিছু অমীমাংসিত বিষয় রয়েছে। আবার অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও অনেক কিছুই অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। ২০২৪ সালের আগস্টে পতিত সরকারের মেগা প্রকল্পগুলো শেষ করাও নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। এদিকে পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতির বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক অভিঘাতও বাংলাদেশের ওপর এসে পড়ছে। এসব মিলে একটি জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।


নতুন সরকারকে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা সুরক্ষায় কী পদক্ষেপ নিতে হবে?


ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য : দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা সুরক্ষায় মূল্যস্ফীতি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসাবে কাজ করে। এ ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকার প্রথমদিকে বেশকিছু সাফল্য পেয়েছিল। তাদের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির ফলে মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কম ছিল। কিন্তু সম্প্রতি মূল্যস্ফীতি আবার বৃদ্ধির প্রবণতা দৃশ্যমান হচ্ছে। সামনের দিনগুলোয় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিশেষ করে খাদ্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসাবে আবির্ভূত হবে। টাকার মূল্যমান স্থিতিশীল রাখার ক্ষেত্রে বিদায়ি সরকারের কিছু অগ্রগতি ছিল। সম্প্রতি রেমিট্যান্সের অব্যাহত প্রবাহের কারণে বৈদেশিক মুদ্রায় বিনিময় হারে যে স্থিতিশীলতা এসেছে, তা ধরে রাখতে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। সম্প্রতি ডলারের মান কিছুটা পড়ে যাওয়ার ফলে সামান্য স্বস্তি মিলছে টাকা বিনিময়ের ক্ষেত্রে।


দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে বড় এক নিয়ামক ব্যাংকের সুদের হার। ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহার ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।


দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য : ব্যাংক ঋণের সুদের হারের সঙ্গে নানা বিষয় জড়িত। মূল্যস্ফীতি না কমলে সুদহার কমার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম। পাশাপাশি অন্যান্য বিষয় যেমন জ্বালানি সরবরাহ, অবকাঠামোগত সুবিধা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয় বা ব্যবসায়িক পরিবেশ-এগুলোয়ও সমানভাবে অগ্রগতি প্রয়োজন। বস্তুত নতুন সরকারের জন্য মূল চ্যালেঞ্জগুলো হলো সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, দ্বিতীয়টি হলো রাজস্ব আয়-ব্যয়ে ভারসাম্য আনা এবং তৃতীয়টি হলো ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। ব্যাংক খাতে যে বিপুল অঙ্কের অনাদায়ি ঋণ, তা আদায়ের সঙ্গে ব্যাংকের সুদহারের বিষয়টি জড়িত। এ সমস্যার সুরাহা না হলে ব্যাংক খাতে নানামুখী সংকট জটিল আকার ধারণ করবে।


ব্যাংক ও নন-ব্যাংকিং ফিন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনগুলোয় বিশৃঙ্খলা রোধের পাশাপাশি সুশাসন নিশ্চিত করতে কী করণীয়?


ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য : অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাংক খাতের সংস্কারের বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্বসহ সামনে আনা হয়েছিল; কিন্তু সেটিকে যথোপযুক্তভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। ব্যাংক এবং ব্যাংকবহির্ভূত খাতে অনাদায়ি ঋণ; মুদ্রাবাজার বা পুঁজিবাজারের দুর্বল অবস্থা-এসব সমস্যার সমাধানে ওই সরকারের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। আমরা লক্ষ করেছি, ওই সরকারের পক্ষ থেকে দেউলিয়া হয়ে যাওয়া ব্যাংকগুলোকে একীভূত করার একটা চেষ্টা হয়েছিল, তার জন্য একটি আইনও প্রণয়ন করা হয়েছিল। কিন্তু তারা এ বিষয়ক কাজ শেষ করে যেতে পারেননি। একইভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন এবং বিভিন্ন তফশিলি ব্যাংকে সুশাসন জোরদার করার ক্ষেত্রে যে আইনগুলো করার কথা ছিল, সেই আইনও অন্তর্বর্তী সরকার শেষ মুহূর্তে আর করেনি। একইভাবে অনাদায়ি ঋণ আদায়ের জন্য আইনি বিভিন্ন বাধা অতিক্রম করে যেসব বেনামি ঋণ এবং যেসব ঋণের প্রয়োজনীয় জামানত নেই, সেসব ঋণের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণে কিছু ক্ষেত্রে জব্দ হলেও সেগুলোকে বিক্রি করে টাকা আদায়ের পর্যায় পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া তারা পূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পারেননি। কাজেই ব্যাংক ও নন-ব্যাংকিং ফিন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনগুলোয় বিশৃঙ্খলা রোধের পাশাপাশি সুশাসন নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে পুঁজিবাজারকে কীভাবে উজ্জীবিত করা যায়, তাও দেখার বিষয়। নতুন সরকার যদি এসব সমস্যার সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে ব্যক্তি খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি বাধাগ্রস্ত হবে।


দেশে ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ এখন সবচেয়ে নিম্নপর্যায়ে রয়েছে। এর সঙ্গে কর্মসংস্থানের বিষয়টিও জড়িত।


ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য : তা ঠিক। গত এক বছরে ব্যক্তি খাতে ঋণপ্রবাহ সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। বেশকিছু কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ খাতের প্রকৃত পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হয়েছে। কিছু কলকারখানার মালিক পলাতক রয়েছেন এবং কিছু কলকারখানা, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প কম মুনাফা ও প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে অনেক শ্রমিক কর্মহীন হয়েছে এবং নতুন শ্রমিকদের কর্মনিযুক্তিও সীমিত হয়ে পড়েছে। ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ শুধু দেশীয় উৎস দিয়ে বর্তমান সরকার সামলে উঠতে পারবে বলে মনে হয় না। তাদের জন্য বৈদেশিক বিনিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকার যতটা আশা জাগিয়েছিল, তা ততটা কার্যকর হতে আমরা দেখিনি।


এ প্রেক্ষাপটে নতুন সরকারকে ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগের বাধা দূর করতে কী পদক্ষেপ নিতে হবে?


ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য : রপ্তানিমুখী শিল্পের পাশাপাশি দেশের বাজারের জন্য যেসব পণ্য তৈরি করা হয়, সরকার সেসব শিল্পকে কতখানি কার্যকর সমর্থন দিতে পারবে, তাও দেখার বিষয়। বলা বাহুল্য, এক্ষেত্রে ব্যাংক সুদহার, সরবরাহ ব্যবস্থা-এসব বিষয়ও জড়িত। আনুষঙ্গিক বিভিন্ন খরচ কমানো, বন্দর ব্যবস্থাপনাকে আরও জোরদার করা এবং সরকারের বিভিন্ন কর ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে দুর্নীতিসহ যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সেগুলোকে দূর করা সম্ভব না হলে ব্যক্তি খাতে কাক্সিক্ষত মাত্রায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে বলে মনে হয় না। এক্ষেত্রে বিভিন্ন খাতে, বিশেষত জ্বালানি ও ব্যাংক খাতে সংস্কারের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও